
ক্রিকেট মানচিত্রের সবচেয়ে বড় ম্যাচ মনে করা হয় এটিকে। কিন্তু ভারত-পাকিস্তান মাঠের লড়াইটা অনেক দিন ধরেই একেবারে একপেশে। উত্তেজনার বারুদে ঠাসা যে দ্বৈরথ দেখে অভ্যস্ত ছিল ক্রিকেট বিশ্ব, তার কিছুই অবশিষ্ট নেই যেন। এবারের টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ব্যতিক্রম কিছু হলো না। কলম্বোয় পাকিস্তানকে ৬১ রানে উড়িয়ে দিয়েছে ভারত। এই জয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের রেকর্ড দাঁড়াল ৮-১। সেই সঙ্গে সুপার এইটে জায়গাও নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত।
পাকিস্তানের সেই কাটা ঘায়ে নুনের ছিটেই যেন দিলেন ভারতের সাবেক ওপেনার ও নির্বাচক কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্ত। ম্যাচের পর নিজের ইউটিউব চ্যানেলে কথা বলতে গিয়ে শ্রীকান্ত বলছেন, ভারত-পাকিস্তান লড়াই নিয়ে যে বাড়াবাড়ি রকমের উত্তেজনা তৈরি করা হয়, সেটার এখন আর তেমন ভিত্তি নেই। তাঁর দাবি, পাকিস্তান দলের বর্তমান যে দশা, তাতে ভারতের মূল দল পাঠানোরই দরকার নেই। ‘সি’ দল বা চতুর্থ সারির দল পাঠালেও নাকি ভারত সালমান আলী আগাদের অনায়াসে হারিয়ে দেবে।
ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের সেই পুরোনো ‘হাইপ’ বা উত্তেজনা কমানোর পরামর্শ দিয়ে শ্রীকান্ত বলেন, ‘আমি কি সত্যিটা বলব? ভারতের চতুর্থ সারির দলও ওদের ধ্বংস করে দেবে। ভারতের উচিত সরাসরি বলা—আমাদের মূল দল পাওয়া যাবে না, তোমাদের বিপক্ষে খেলতে আমাদের ‘সি’ দলই যথেষ্ট। ডাকুন আমাদের তৃতীয়-চতুর্থ সারির ছেলেদের, ওরাই ওদের হারিয়ে আসবে।’
ব্যাটিং বিভাগে এখন প্রপার একজন ব্যাটসম্যানও নেই। বাবর আজম যদি আপনার মূল ব্যাটসম্যান হয়, তাহলে ছেড়ে দিন, টি-টুয়েন্টি খেলার দরকার নেই আপনাদের। এটা আমার দেখা পাকিস্তানের সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং লাইনআপের একটি। আমি সাইদ আনোয়ার, ইনজামাম-উল-হাক, তারও আগে রামিজ রাজাদের দেখেছি-কি দুর্দান্ত ব্যাটিং দলই না ছিল সেটি।কৃষ্ণমাচারী শ্রীকান্ত, ভারতের সাবেক ওপেনার ও নির্বাচক
একসময় পাকিস্তানের বোলিং আক্রমণ মানেই ছিল গতির ঝড় আর রিভার্স সুইংয়ের মায়াজাল। ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, ওয়াকার ইউনিসদের সেই উত্তরসূরিদের বর্তমান দশা দেখে হতাশ শ্রীকান্ত। প্রতিবেশীদের ক্রিকেট দিনকে দিন তলানির দিকে যাচ্ছে বলে মনে করেন ১৯৮৩ বিশ্বকাপজয়ী এই ওপেনার, ‘শাহিন আফ্রিদিকে নিয়ে যে ভীতিকর হাইপ ছিল, সেটা শেষ হয়ে গেছে। এমন পাকিস্তানকে আগে কখনো দেখেছেন? ওয়াকার ইউনিস, ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, এরপর আরও কতজন, আকিব জাভেদসহ কত বোলার ছিল? আর এখন একজন পেসার খুঁজে পেতে তারা হিমশিম খাচ্ছে। তাদের দেশে ক্রিকেটের কি এতটাই অধঃপতন হয়েছে?’
বোলিংয়ের চেয়েও পাকিস্তানের ব্যাটিং নিয়ে বেশি বিরক্ত শ্রীকান্ত। সাঈদ আনোয়ার, ইনজামাম-উল-হক বা রমিজ রাজাদের ব্যাটিং দাপট দেখা শ্রীকান্তের চোখে বর্তমানে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ ইতিহাসের অন্যতম দুর্বল। তাঁর কথা, ‘ব্যাটিং বিভাগে এখন প্রপার একজন ব্যাটসম্যানও নেই। বাবর আজম যদি আপনার মূল ব্যাটসম্যান হয়, তাহলে ছেড়ে দিন, টি-টুয়েন্টি খেলার দরকার নেই আপনাদের। এটা আমার দেখা পাকিস্তানের সবচেয়ে বাজে ব্যাটিং লাইনআপের একটি। আমি সাইদ আনোয়ার, ইনজামাম-উল-হাক, তারও আগে রামিজ রাজাদের দেখেছি-কি দুর্দান্ত ব্যাটিং দলই না ছিল সেটি।’
ভারতের কাছে হারের পর পাকিস্তানের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ। সুপার এইটে যেতে হলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নামিবিয়াকে হারাতেই হবে তাদের। সেই ম্যাচই ঠিক করে দেবে, তারা টুর্নামেন্টে টিকে থাকবে, নাকি এখানেই শেষ হয়ে যাবে পথচলা।