
টানা দুই বছর এশিয়া কাপ জিতে ট্রফি নেয়নি ভারত।
গত সেপ্টেম্বরে পুরুষ দল আর এই সেপ্টেম্বরে নারী দল চ্যাম্পিয়ন ট্রফি না নেওয়ার একটাই দৃশ্যমান কারণ—মহসিন নাকভিকে প্রত্যাখ্যান। এশিয়া কাপের মঞ্চে নাকভির পরিচয় তিনি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) প্রেসিডেন্ট। তাঁর কাছ থেকে ট্রফি না নেওয়ার সিদ্ধান্ত কেন, সেটির ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া।
ভারত-পাকিস্তানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আগে থেকেই উত্তেজনাময়, যা আরও অবনতির দিকে যায় ২০২৫ সালের এপ্রিলে পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর। এরপর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করলে দুই দেশের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ে, যার প্রভাবে ক্রিকেটে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে হাত মেলানো এড়িয়ে যেতে শুরু করে ভারত। গত বছর ছেলেদের এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর নাকভির হাত থেকে ট্রফি নিতে রাজি হয়নি সূর্যকুমার যাদবদের দল। এবার যার পুনরাবৃত্তি করেছেন হারমানপ্রীত কৌররা।
ফাইনালের পর বার্তা সংস্থা আইএএনএসকে বিসিসিআই সচিব বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অবনতি এবং নাকভির ভূমিকার কারণে তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে চায়নি ভারত, ‘পেহেলগামের ঘটনার পর আমাদের পুরো পরিস্থিতি বদলে যায়। এরপর আমাদের নাগরিকদের কাছ থেকে চাপ ছিল প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক রাখা উচিত নয়, তাদের সঙ্গে ক্রিকেটও খেলা উচিত নয়। কিন্তু আমাদের সরকারের নীতি হলো, বহুজাতিক টুর্নামেন্টে আমাদের প্রতিটি দেশের বিপক্ষেই খেলতে হবে। আমরা সেই নীতি অনুসরণ করছি। সে কারণেই বিসিসিআই প্রতিটি দলের বিপক্ষে খেলার জন্য দল পাঠায়।’
তবে বহুজাতিক টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা মানেই সবকিছু মেনে নেওয়া নয় মনে করেন সাইকিয়া। তাঁর ভাষায়, ‘এর মানে এই নয় যে আমরা খেলব এবং আমাদের সামনে রাখা প্রতিটি শর্ত মেনে নেব। যে দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আগে থেকেই খারাপ ছিল এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর তা আরও খারাপ হয়েছে, আমাদের অভিযান এখনো চলছে। তাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা (নাকভি) আমাদের দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছেন। আমরা তাঁর কাছ থেকে ট্রফি নিতে পারি না।’
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে নারী এশিয়া কাপ ফাইনালের সময় রয়্যাল বক্সে ছিলেন সাইকিয়া। এ সময় তাঁকে বিসিসিআই সহসভাপতি রাজীব শুক্লার সঙ্গে নাকভির পাশাপাশি বসতে দেখা গেছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে সাইকিয়া বলেন, ‘এমন নয় যে আমরা কারও সঙ্গে দেখা করব না। টস থেকে ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত আমি রয়্যাল বক্সে বসেছিলাম। ম্যাচের সময় যাঁরাই এসেছেন, সবার সঙ্গেই আমার দেখা হয়েছে। শুক্লাজিও এসে আমার সঙ্গে বসেছিলেন। আপনি যাঁর কথা বলছেন (নাকভি), তিনিও এসে ডেপুটি চেয়ারম্যান খালিদের পাশে বসেছিলেন। এটা স্বাভাবিক রীতি, যখন কেউ আসেন, আমরা সবার সঙ্গে দেখা করি এবং কথা বলি।’
বিসিসিআই চেয়েছিল চ্যাম্পিয়ন দলের ট্রফি এসিসি সহসভাপতির হাত থেকে দেওয়া হোক। কিন্তু নাকভি তাতে রাজি হননি। তবে এ নিয়ে আক্ষেপ নেই বলে দাবি ভারতীয় বোর্ড সচিবের, ‘আজকের পরিস্থিতিও আমরা সমাধান করার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সফল হইনি। তবে এ নিয়ে আমাদের কোনো আক্ষেপ নেই। আমাদের উদ্দেশ্য কে ট্রফি তুলে দেবে, সেটিকে কেন্দ্র করে ছিল না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য ছিল ভারতীয় দল যেন স্বাচ্ছন্দ্যে ম্যাচ জেতে। আমরা সেটিতে সফল হয়েছি।’
দুবাইয়ের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে অষ্টম নারী এশিয়া কাপ জেতে ভারত।