ভেবেছিলেন ছুটি কাটাতে যাবেন জার্মানিতে। এরপর স্পেনে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের খেলা দেখবেন। হায়দরাবাদের বন্ধুদের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন। এমনকি ভারতীয় দলের ট্রেইনার অ্যাড্রিয়ান লে রু তাঁকে যখন ফোন করেছিলেন, তিনি অনুরোধ করেছিলেন, তাঁকে যেন বিরক্ত না করা হয়।
গত শুক্রবার রাত পর্যন্তও আইপিএলের আগে তাঁর মুম্বাই যাওয়ার কথাই ছিল না। অথচ ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল দৃশ্যপট। ক্রিকেটের বাইরে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করা মোহাম্মদ সিরাজ গতকাল মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে নামলেন বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে। শুধু খেলেনইনি, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ভারতের জয়ের ম্যাচে অন্যতম নায়কও হয়ে উঠেছেন।
বিশ্বকাপ দলে শুরুতে না থাকার পরও সিরাজ আচমকা ডাক পেয়েছেন হর্ষিত রানা চোটে ছিটকে যাওয়ায়। বিশ্বকাপ শুরুর আগের দিন রানার টুর্নামেন্ট খেলতে না পারার কথা জানায় বিসিসিআই। তখন সিরাজকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে তারা। এমন আচমকা ডাক পেলে যা হয়, নিজেকে খেলার জন্য প্রস্তুত করার সুযোগ খুব একটা পাননি ২০২৪ সালের জুলাইয়ের পর কাল আন্তর্জাতিক টি-টুয়েন্টি খেলা সিরাজ।
কীভাবে এ খবর পেয়েছিলেন সিরাজ? ম্যাচের পর জানিয়েছেন তিনি, ‘হঠাৎ সূর্য ভাই (অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব) আমাকে ফোন দিলেন। বললেন, “তৈরি হয়ে নাও, ব্যাগ গুছিয়ে চলে এসো।” আমি বললাম, সূর্য ভাই, মজা করবেন না, এটা সম্ভব নয়।’ তিনি বললেন, “আমি সত্যি বলছি, তৈরি হয়ে নাও।” ফোন রাখার সঙ্গে সঙ্গেই জাতীয় নির্বাচক (প্রজ্ঞান) ওঝার ফোন পেলাম। একদম হঠাৎই চমকে দেওয়ার মতো একটা খবর পেলাম।’
সিরাজ যোগ করেছেন, ‘সৃষ্টিকর্তা যা লিখে রেখেছেন, তা কেউ বদলাতে পারে না। আমি এলাম, ম্যাচ খেললাম, সবই আগে থেকে লেখা ছিল। আল্লাহ মহান। তাঁর ইচ্ছার বাইরে কারও কিছু করার ক্ষমতা নেই।’
বিশ্বকাপ দলে না থাকায় সিরাজ জানতেন ফেব্রুয়ারিতে তাঁর কোনো খেলা নেই। সে ক্ষেত্রে এ সময়ে কী করার পরিকল্পনা করেছিলেন জিজ্ঞাসা করা হলে সিরাজ বলেন, ‘১৫ তারিখে রিয়াল মাদ্রিদের একটা ম্যাচ আছে। পরিকল্পনা ছিল খেলাটা দেখতে যাব। এরপর রোজা শুরু হবে। তো আমার পরিকল্পনা সেভাবেই করা ছিল। কিন্তু ওপরওয়ালা যা লিখে রেখেছেন, সেটাই তো হয়।’
হুট করে দলে ঢোকা সিরাজের কাঁধে ছিল ভারতের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব। কারণ, জ্বরের কারণে যশপ্রীত বুমরা খেলতে পারেননি। প্রথমে ব্যাট করে ভারত তুলেছিল ১৬১ রান। এই পুঁজি নিয়ে ম্যাচ জেতার জন্য বোলারদের বিশেষ ভূমিকার দরকার ছিল। সিরাজ সেটাই করেছেন ৪ ওভারে সব মিলিয়ে ২৯ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে। বুমরার ছায়ায় না থাকলে সিরাজ আরও বেশি জ্বলে ওঠেন—এমন একটা ধারণা প্রচলিত আছে। টি-টুয়েন্টি প্রত্যাবর্তনে দারুণ বোলিং করে সিরাজ সে ধারণাকেই আরও পোক্ত করেছেন।