
দুই বছরও হয়নি এখনো! ব্রিজটাউনের কেনসিংটন ওভালে সেদিন জেতা ম্যাচ কীভাবে হারতে হয়, সেটির চরমতম এক উদাহরণ দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। আর ভারত দেখিয়েছিল, হারতে হারতেও কীভাবে স্নায়ু ঠান্ডা রেখে বিজয়ীর বেশে বের হওয়া যায়।
বলা হচ্ছে ২০২৪ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালের কথা। ২০ + ২০—৪০ ওভারের ম্যাচের প্রথম ৩৫ ওভার রাজত্ব করার পর সেদিন ভারতের কাছে ৭ রানে হেরেছিল প্রোটিয়ারা।
২০ মাস পর আজ ২০ ওভারের ক্রিকেটের আরেকটি বিশ্বকাপের সুপার এইটে মুখোমুখি সেই দুই দল। আহমেদাবাদের সেই ম্যাচের আগে কাল স্বাভাবিকভাবেই উঠেছে ২০২৪–এর ফাইনালের কথা। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে যাওয়া কুইন্টন ডি কক বলে দিলেন এ নিয়ে কথা বলতে ইচ্ছুক নন তাঁরা, ‘সত্যি বলছি, ওই দিনের পরই ওই ম্যাচের কথা আমরা ভুলে গেছি। আমার মনে হয় না, আমাদের কেউ ওই ম্যাচ নিয়ে কথা বলতে চাইবে।’
যেসব মানুষ অভিষেকের ফর্ম নিয়ে চিন্তিত, আমি তাঁদের জন্য চিন্তিত।সূর্যকুমার যাদব, অধিনায়ক, ভারত
ডি ককরা প্রথম পর্বের প্রথম তিনটি ম্যাচও খেলেছিলেন আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে। আজ আবার সেখানেই ম্যাচ। ভারতের ঘরের মাঠটা অনেকটা প্রোটিয়াদের ঘরের মাঠই হয়ে গেছে। তবে এ নিয়ে ভারত দুশ্চিন্তা করছে বলে মনে হয় না।
তবে একটা দুশ্চিন্তা তো আছেই ভারতের। সেই দুশ্চিন্তার নাম অভিষেক শর্মা। আইসিসি টি-টুয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ে এক নম্বর ব্যাটসম্যান প্রথম পর্বে তিন ম্যাচে ব্যাটিং করে তিনবারই শূন্য রানে আউট হয়েছেন। গতকাল ম্যাচ–পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবকে তাই অভিষেককে নিয়েই বেশি কথা বলতে হলো।
অনুমিতভাবেই অভিষেকের ওপর আস্থা রাখার কথা জানিয়ে সূর্য উল্টো রসিকতা করে বলেছেন, ‘যেসব মানুষ অভিষেকের ফর্ম নিয়ে চিন্তিত, আমি তাঁদের জন্য চিন্তিত।’ হাসতে হাসতে এই কথা বলার পর প্রতিপক্ষ দলগুলোকে হুঁশিয়ারিও জানিয়ে রেখেছেন, ‘আমি সেই সব দলের কথা ভাবছি, যাদের বিপক্ষে সে (অভিষেক) আগুন ঝরাতে যাচ্ছে। এখনো যেহেতু সে রান পায়নি, এমন কিছু দেখার সম্ভাবনা আরও বেড়ে গেছে। সে যখন রান পায়, তখন কী হয়, সেটি তো জানাই।’
টি–টুয়েন্টিতে বিশ্বের এক নম্বর ব্যাটসম্যানের কোনো অবদান ছাড়াই প্রথম পর্বের চারটি ম্যাচই জিতে সুপার এইটে উঠেছে ভারত। সূর্যকুমারের আত্মবিশ্বাসী থাকাটাই তাই স্বাভাবিক। সেই আত্মবিশ্বাস থেকেই মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘এটা একটা দলীয় খেলা, এমন কিছু হতেই পারে। দলের চাওয়া, সে নিজের মতো করে খেলুক। সে সফল হলে দলেরই ভালো, না হলে অন্যরা এগিয়ে আসবে। গত বছর সে আমাদের কাজ সহজ করে দিয়েছে, এখন আমরা তার জন্য খেলব।’
ডি ককের সংবাদ সম্মেলনেও এসেছে অভিষেকের প্রসঙ্গ। অভিষেকের ফর্মে ফেরাটাকে শুধুই সময়ের ব্যাপার বলে মানছেন তিনিও, ‘র্যাঙ্কিং অনুযায়ী সে এখন টি–টুয়েন্টির এক নম্বর ব্যাটসম্যান, কাজেই তার নিজের মতো খেলে যাওয়া উচিত। ওর বয়স কম, ব্যর্থতা আসতেই পারে। আমি নিশ্চিত, একদিন সে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলে দেবে।’
ডি ককদের দক্ষিণ আফ্রিকাও গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচই জিতেছে। তবে মুখোমুখি লড়াইয়ের হিসাবে ভারতের চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। গত বছর সর্বশেষ ভারত সফরে টি-টুয়েন্টি সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবু ভারতের বিপক্ষে দারুণ লড়াইয়ের প্রতিশ্রুতিই দিলেন ডি কক, ‘আগামীকাল (আজ) ভালো একটা ম্যাচ হতে যাচ্ছে।’
ডি কক না চাইলে কী হবে, সেই ম্যাচে গত বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত উঁকি দেবে।