রাত সাড়ে ১২টায় শুরু হওয়া একটি ম্যাচ দেখতে বসা—কর্মব্যস্ত মানুষের জন্য সহজ নয়। পরদিন সকালে কাজ থাকলে তো কথাই নেই, কাজ-ঘুমের শৃঙ্খলা মেনে চললে মধ্যরাতে চার ঘণ্টা জেগে থাকা আরও কঠিন। আজ সেই ম্যাচটা যদি হয় গুরুত্বহীন, উল্টো মনে যন্ত্রণা বাড়ায়—তাহলে?
আজ অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটপ্রেমীরা ঠিক এই দোটানাতেই পড়তে যাচ্ছেন। শ্রীলঙ্কার পাল্লেকেলে স্টেডিয়ামে ওমানের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলতে নামবে অস্ট্রেলিয়া।
স্থানীয় সময় সাড়ে সাতটায় খেলা শুরু হলেও অস্ট্রেলিয়ায় তখন ঘড়ির কাঁটা দেখাবে সাড়ে ১২টা। একে তো ওমানের মতো সহযোগী সদস্যদেশের বিপক্ষে খেলা, তার ওপর এই ম্যাচ থেকে কিছুই পাওয়ার নেই মিচেল মার্শদের। আগেভাগেই যে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়ার!
অস্ট্রেলিয়া এবারের বিশ্বকাপে খেলতে এসেছে বাছাই দল হিসেবে। গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে সুপার এইট কোথায় খেলবে, সেটা আগেই ঠিক করে রেখেছে আইসিসি। বাছাই অনুসারে শ্রীলঙ্কায় গ্রুপ পর্বের ম্যাচ খেলে সুপার এইটের জন্য ভারতে যাওয়ার কথা মার্শদের। কিন্তু জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যাওয়ায় অস্ট্রেলিয়া দলকে দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে কলম্বো থেকেই।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য আইসিসি টুর্নামেন্টের প্রথম পর্ব থেকে বিদায় নেওয়াটা নতুন কিছু নয়। ২০০৯ টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপেই শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে হেরে প্রথম রাউন্ড থেকে বিদায় নিয়েছিল রিকি পন্টিংয়ের দল। তবে সেবারের বিদায়ের সঙ্গে এবারের স্পষ্ট পার্থক্য আছে। সেবার তিন দলের গ্রুপে ক্যারিবীয়দের কাছে হেরেই বিপদ টের পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পরে নটিংহামে শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যেতেই দেশের বিমানের পথ ধরতে হয়েছিল।
এবার পাঁচ দলের গ্রুপ। প্রথম ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সহজেই (৬৭ রানে) জিতেছিল মার্শের দল। তবে পরের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ২৩ রানে হারতেই বিপৎসংকেত। তিন দিন পর শ্রীলঙ্কার কাছে ৮ উইকেটে হারতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এরপর আসলে অন্যদের দিকেই তাকিয়ে থাকতে হয়েছে মার্শদের। তবে বেশি সময় নয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি গ্রুপের জিম্বাবুয়ে-আয়ারল্যান্ড ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হয়ে পয়েন্ট ভাগাভাগি হতেই বাদ পড়া নিশ্চিত হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার।
১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি—গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার যন্ত্রণা নিয়েই তিনটি দিন শ্রীলঙ্কায় কাটাতে হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। এক সপ্তাহ আগেও যে ম্যাচকে ভাবা হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার ‘সুপার এইটের প্রস্তুতির মঞ্চ’ হিসেবে, সেটিই এখন বিশ্বকাপে আরেকটি বিব্রতকর পরিণতি এড়ানোর ম্যাচ। অস্ট্রেলিয়া অবশ্য টি-টুয়েন্টিতে সহযোগী দেশের কাছে কখনো হারেনি।
উপরন্তু ২০২৪ আসরে গ্রুপ পর্বে এই ওমানকে ৩৯ রানে হারিয়েছিল মার্শের দল। এবারও ফেবারিট অস্ট্রেলিয়াই। তবে এই অস্ট্রেলিয়া এখন আত্মবিশ্বাসে আঘাত পাওয়া দল। বিশ্বকাপ ফাইনালের ফেবারিট হিসেবে টুর্নামেন্ট খেলতে এসে যারা এখন গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিচ্ছে।
ভারতে হওয়া সর্বশেষ আইসিসি টুর্নামেন্টে (২০২৩ বিশ্বকাপ) শিরোপা জেতা অস্ট্রেলিয়া এবার সুপার এইট খেলতেই ভারতে যেতে পারছে না। এক সপ্তাহ আগেও যারা শিরোপার সম্ভাব্য দাবিদার, আজ তাদের শেষ ম্যাচ—শুধুই আনুষ্ঠানিকতা।