
অধিনায়ক লিটন দাস আসলে কেমন? এর একটা উত্তর বোধ হয় পাওয়া যাবে আজ তাঁর সংবাদ সম্মেলনের কথাগুলো শুনলে। সিরিজ শুরুর আগেই তিনি রান চেয়েছিলেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে। সেই প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় আজ প্রকাশ্যে তাঁদের সমালোচনাও করেছেন অধিনায়ক।
এবার একটু পেছন ফিরে দেখা যাক। গত বছর বিশ্বকাপের আগে আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকে বাদ পড়েছিলেন শামীম হোসেন। সে সময় সংবাদ সম্মেলনে এসে সবাইকে ‘চমকে’ দিয়ে লিটন প্রধান নির্বাচকের ওপর তোপ দেগেছিলেন। নিজের খেলোয়াড়দের প্রয়োজনের সময় আগলে রাখার খ্যাতিটা তাঁর আগে থেকেই আছে।
কিন্তু আজ লিটন সংবাদ সম্মেলনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ক্ষোভ জানালেন লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং নিয়ে। তৃতীয় টি-টুয়েন্টিতে আজ ১৮ বলের মধ্যে ১৬ রান তুলতে ৬ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। লিটন মনে করেন, এমন ঘটনা নিয়মিত ঘটায় ভুগতে হচ্ছে দলকে।
প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আমি একটা কথা বলেছিলাম যে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব আছে। আমরা চাই তারা আমাদের ব্যাটিংয়ে ইনপুট দেবে। আজকে সুযোগ ছিল, কিন্তু আবারও ব্যর্থতা।লিটন দাস, অধিনায়ক, বাংলাদেশ
তিনি বলেন, ‘প্রথম সংবাদ সম্মেলনে আমি একটা কথা বলেছিলাম যে লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের দায়িত্ব আছে। আমরা চাই তারা আমাদের ব্যাটিংয়ে ইনপুট দেবে। আজকে সুযোগ ছিল, কিন্তু আবারও ব্যর্থতা।’
সিরিজ শুরুর আগে লিটন যে চাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন, তা আসলে খুব বেশি নয়। শেষের ব্যাটসম্যানরা যেন অন্তত ৫–৬ রান করেন, এমনটাই ছিল তাঁর চাওয়া। কিন্তু ৭–৮ নম্বরে খেলা মেহেদী হাসান–রিশাদ হোসেনরা যেমন রান করতে পারছেন না, পারছেন না টেল-এন্ডার হিসেবে খেলা পেসাররাও।
বিশেষত যাঁরা স্পিনার হিসেবে খেলছেন, তাঁদের আরও রান করার তাগিদ দিয়েছেন লিটন, ‘পুরো দুনিয়াতে যারা স্পিনার হিসেবে খেলে, সব দলেই তারা সঙ্গে ব্যাটিংটাও করে। তা না হলে আপনাকে চায়নাম্যান বোলার হতে হবে, যে কিনা বোলিংয়ে মিরাকল কিছু ঘটাতে পারে। অনেক দলে এমন খেলোয়াড় থাকে, যারা শুধু বোলার হিসেবেই খেলে। মেহেদী তো ব্যাটিং পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আমাদের ওই পারফরম্যান্সটা দরকার। একই ব্যাপার রিশাদ–নাসুমের ক্ষেত্রেও।’
বাংলাদেশে এ রকম কোনো খেলোয়াড় আপনার চোখে আছে, যে ৭ নম্বরে খেলবে, ৪ ওভার বোলিং করবে আবার ব্যাটিংও করতে পারবে? থাকলে বলবেন।লিটন দাস, অধিনায়ক, বাংলাদেশ
শেষের দিকের ব্যাটিং সংকটটা বুঝতে পারলেও এ সমস্যার সমাধান খুঁজে পাচ্ছেন না লিটন দাস। এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন একজন ক্রিকেটার খুঁজলেন, যিনি সাত নম্বরে খেলবেন এবং বোলিংয়ের সঙ্গে ব্যাটিংটাও ভালো করবেন। ২০ ওভার বোলিং করানোর জন্য পাঁচজন বোলারের কম খেলানোর সুযোগ দেখছেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক, ‘বাংলাদেশে এ রকম কোনো খেলোয়াড় আপনার চোখে আছে, যে ৭ নম্বরে খেলবে, ৪ ওভার বোলিং করবে আবার ব্যাটিংও করতে পারবে? থাকলে বলবেন।’
সাংবাদিকদের অবশ্য সেই সুযোগ কম। লিটন তাই ভরসা রাখছেন বর্তমান দলে থাকা ক্রিকেটারদের ওপরই, নেটে নিয়মিত অনুশীলন করলেও ম্যাচে ব্যাটিংয়ে যাঁরা তেমন উন্নতি করতে পারছেন না।
তবে লিটন আশাবাদী, ‘রাতারাতি তো সব বদল হবে না, এটা সম্ভবও নয়। কিন্তু ওরাও চেষ্টা করছে। আমি আশা করি যে বিশ্বকাপ আসতে আসতে কিছুটা হলেও উন্নতি হবে।’ ম্যাচে পারফর্ম করলে তাঁদের আত্মবিশ্বাস বাড়বে বলেও মনে করেন তিনি, ‘নেটে ব্যাটিং আর ম্যাচের পরিস্থিতির ব্যাটিংয়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য আছে। আশা করি ওরা যদি ম্যাচগুলোতে রান পায়, তাহলে আত্মবিশ্বাসটা আরও বাড়বে।’