উৎপল শুভ্রর লেখা

বিসিবিতে ‘চলিতেছে সার্কাস’

গিনেস বুক অব রেকর্ডসে নাম ওঠাতে তথ্যপ্রমাণ দিয়ে আবেদন করতে হয়। তা বাংলাদেশ একটা চেষ্টা করে দেখতে পারে। রেকর্ড তো একটা হয়েছেই। সেটি গিনেসে স্থান পাওয়ার মতো কি না, সেই বিবেচনা না হয় গিনেস কর্তৃপক্ষই করুক। রেকর্ড যে হয়েছে, এ নিয়ে তো আর কোনো সন্দেহ নেই।

তা রেকর্ডটা কী?

বলছি। গত পরশু দুপুরেও বিসিবি সভাপতির যে চেয়ারে বসেছেন আমিনুল ইসলাম, সন্ধ্যা নামার আগেই সেই চেয়ারে বসে গেছেন তামিম ইকবাল। বোর্ড সভাপতি কোনো স্থায়ী পদ নয়, পরিবর্তন হতেই পারে। অতীতেও হয়েছে। তবে বিসিবি সভাপতির চেয়ার যে একই দিনে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনকে আপ্যায়িত করল, এর কোনো উদাহরণ বাংলাদেশের ক্রিকেট কেন, বিশ্ব ক্রিকেটেই আর নেই। এটিকে রেকর্ড বলবেন না তো কি!

তা বাংলাদেশের ক্রিকেট এমন রেকর্ড নিয়মিতই করে চলেছে। জাতীয় দলের তিন সাবেক অধিনায়ককে পরপর বোর্ড সভাপতি হতেও তো কোনো দেশ দেখেনি কখনো। এটাকেও তো তাহলে রেকর্ড বলেই মানতে হয়।

ক্রিকেটারদের মুখে একটা কথা খুব শোনা যায়। ক্রিকেট যা দিয়েছে, সেই কৃতজ্ঞতাবোধ থেকে তার কিছুটা তাঁরা ফিরিয়ে দিতে চান। দেখেশুনে মনে হচ্ছে, এ ব্যাপারে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সঙ্গে কারও তুলনা চলে না। দেশের ক্রিকেটে অবদান রাখার এমন ব্যাকুলতা যে কাউকে আবেগপ্রবণ করে তুলতে বাধ্য। ব্যাকুলতার চরমতম প্রমাণটা তো একেবারেই টাটকা।

গত পরশু বিকেলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিসিবির নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়ার পর সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেও তর সয়নি তামিম ইকবালের। সোজা গিয়ে বসে পড়েছেন বিসিবি সভাপতির চেয়ারে। কিছুক্ষণের মধ্যে বিসিবিতে হাজির অ্যাডহক কমিটির অন্যরাও। ছোট একটা সভাও করে ফেললেন তাঁরা। দেশের ক্রিকেটের এমন ক্রান্তিলগ্ন, একটা মুহূর্তও কি নষ্ট করা যায়!

এখনো নিজেকে বৈধ সভাপতি দাবি করে যাওয়া আমিনুল ইসলামের কথাই ধরুন। দেশের ক্রিকেটের আকুল ডাকে সাড়া দিয়ে একটা ‘টি-টুয়েন্টি ইনিংস’ খেলেই বিদায় নেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি নিজেই। শেষ পর্যন্ত বোর্ড সভাপতি হিসেবে তাঁর কার্যকালটা ‘টি-টুয়েন্টি ইনিংস’ই হয়ে গেছে। ক্ষমতার মোহে মত বদলে ‘টেস্ট ইনিংস‌’ খেলতে চেয়েছিলেন, সেই ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি।

পৌনে দুই বছরে বিসিবি চারজন সভাপতি দেখে ফেলেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়ায় পদটাকে প্রায় পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা নাজমুল হাসানের বিদায়ের পর ফারুক আহমেদ। এক রাতের মধ্যেই ফারুক আহমেদকে সরিয়ে আমিনুল ইসলাম। আমিনুলকে সরিয়ে তামিমের আসাটা তো দিনে দিনেই।

অথবা ফারুক আহমেদ। জুলাই অভ্যুত্থানের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় অপ্রত্যাশিতভাবে বোর্ড সভাপতি হয়ে যাওয়াটা যাঁর নিজের কাছেও ছিল চমক। যে প্রক্রিয়ায় এসেছিলেন, সেই প্রক্রিয়াতেই বিদায় নিতে হওয়ার পর সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে আদালতে পর্যন্ত গিয়েছেন। কিছুদিন পরেই দেখা গেল, প্রশ্নবিদ্ধ এক নির্বাচনে সহসভাপতি হিসেবে বিসিবিতে প্রত্যাবর্তন ঘটেছে তাঁর। যেভাবেই হোক, দেশের ক্রিকেটের সেবা করার এই দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ঔদার্যকে আপনি সাধুবাদ জানাবেন না!

লেখাটা কি রম্যরচনার মতো হয়ে যাচ্ছে! কী করব বলুন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড নিয়ে যা চলছে, সেটি নিয়ে লিখতে গেলে তো তা যে এমনই হয়ে যায়। বিসিবিতে সর্বশেষ নাটক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ একটা ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়েছেন। যাতে তিনি বলছেন, ‌‘ভাই রে ভাই, যে পরিমাণ সার্কাস চলতেছে ক্রিকেট বোর্ডে, যদি দুই হাজার টাকা খরচ করেও টিকেট কিনেন, আপনার ওই টিকেট বৃথা যাবে না। এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সার্কাস হচ্ছে ক্রিকেট বোর্ড।’

খেলোয়াড়ি জীবনেও আফতাব আহমেদ কঠিন কথা সহজভাবে বলে দিতেন। বোঝাই যাচ্ছে, প্রবাসজীবনের নানা টানাপোড়েনও তাঁর সেই গুণটাকে নষ্ট করতে পারেনি। বিসিবি নিয়ে যা হচ্ছে, তা সার্কাস ছাড়া আর কী!  

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ধরলে পৌনে দুই বছরে বিসিবি চারজন সভাপতি দেখে ফেলেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়ায় পদটাকে প্রায় পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলা নাজমুল হাসানের বিদায়ের পর ফারুক আহমেদ। এক রাতের মধ্যেই ফারুক আহমেদকে সরিয়ে আমিনুল ইসলাম। আমিনুলকে সরিয়ে তামিমের আসাটা তো দিনে দিনেই। লেখার শুরুটাই যে ‌‘রেকর্ড’ দিয়ে। এই সবকিছুর মর্মার্থ একটাই—মাঠের খেলা গোল্লায় যাক, বিসিবির চেয়ারে বসতে পারাটাই আসল।

এ জন্য সর্বশেষ যা যা হয়েছে, তা সব সময়ই রাজনীতি প্রভাবিত বাংলাদেশের ক্রিকেটেও অদৃষ্টপূর্ব। ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেওয়ার ঘটনা আগেও ঘটেছে। ঘটনাচক্রে সেটিও বিএনপি সরকারের সময়েই। পার্থক্য বলতে সেবার আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল, এবার তদন্ত কমিটির।

ফারুক আহমেদের পর বিসিবি সভাপতি হন আমিনুল ইসলাম। কারও বিদায়ই সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় হয়নি। ছবিটি ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর বিসিবি নির্বাচনের দিন তোলা

মজার ব্যাপার হলো, গত অক্টোবরে যে এনএসসির তত্ত্বাবধানেই বিসিবি নির্বাচন হয়েছিল, সেই এনএসসিই সেই নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্নগুলো এতই ‘বড়’ যে নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘোষণা করা হয়েছে অ্যাডহক কমিটি। ঘটনার ক্রম উল্টোও হতে পারে। অ্যাডহক কমিটি হয়তো আগেই করা হয়ে গিয়েছিল। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন কী হবে, তা তো আসলে জানাই ছিল। মাস পাঁচেকের ব্যবধানে এনএসসির ‘সর্প হয়ে দংশন করে ওঝা হয়ে ঝাড়া’র ঘটনার ব্যাখ্যাও খুব সহজ। বিসিবি নির্বাচনের সময়কার এনএসসি ছিল আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার এনএসসি, এখন যে এনএসসি আমিনুল হকের। ক্রীড়ামন্ত্রীই যে পদাধিকারবলে এনএসসির চেয়ারম্যান।

বিসিবির নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেওয়ার আগের ঘটনাটা একটু মনে করিয়ে দিই। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দিয়ে অ্যডহক কমিটি করে। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তো আর ক্রিকেটের আইসিসির মতো ঠুঁটো জগন্নাথ নয়। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিষিদ্ধ করে দেয় ফিফা। নির্বাচিত কমিটিকে ফিরিয়ে আনার শর্ত পূরণ করে যে নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি মেলে।

তিন মন্ত্রীপুত্র ও মন্ত্রীর স্ত্রীর অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এবারের অ্যাডহক কমিটি ছাড়িয়ে গেছে আগের দৃষ্টান্তও। গতকাল জাতীয় সংসদে কুমিল্লা–৪ এর সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ যেটিকে বলেছেন ‘বাপের দোয়া কমিটি’।

বাফুফের অভিজ্ঞতার কারণেই সরাসরি বিসিবির নির্বাচিত কমিটি ভেঙে না দিয়ে একটু কৌশল করতে হয়েছিল। সেটি কেমন? বাংলাদেশ টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়ার পর বিসিবির কাঠামোকে যুগোপযোগী করতে কার্যনির্বাহী কমিটির বদলে পরিচালনা পর্ষদ করার সিদ্ধান্ত হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড, বিসিসিবি থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বা বিসিবি নামকরণেরও। ২০০০ সালে কক্সবাজারে মহাসমারোহে আয়োজিত বিসিবির বিশেষ সাধারণ সভায় সর্বসম্মতভাবে যা পাস হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হয় বিসিবির প্রথম পরিচালনা পর্ষদ।

কক্সবাজারের সেই সভায় এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেওয়া ইন্দিরা রোড ক্রীড়াচক্র ক্লাবের কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ওরফে বাবু ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর এই সিদ্ধান্তকে অবৈধ দাবি করে হাইকোর্টে রিট করে বসেন। আদালতও এর পক্ষে রায় দেন। ভেঙে দেওয়া হয় নির্বাচিত বোর্ড। ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি পদে তখন সরাসরি সরকার নিয়োগ দিত।

সেই মনোনীত সভাপতি ছিলেন সংসদ সদস্য আলী আসগার লবি। পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার পর কিছুদিন তিনি একাই ছিলেন বোর্ডে। পরে একটা অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়, যাতে অনুমিতভাবেই এখনকার মতো সরকারদলীয় লোকজনই ছিলেন বেশি। তিন মন্ত্রীপুত্র ও মন্ত্রীর স্ত্রীর অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এবারের অ্যাডহক কমিটি অবশ্য ছাড়িয়ে গেছে সেটিকেও। গতকাল জাতীয় সংসদে কুমিল্লা–৪ এর সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ যেটিকে বলেছেন ‘বাপের দোয়া কমিটি’।

তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটিতে আছেন তিন মন্ত্রীপুত্র ও মন্ত্রীর স্ত্রী

আবার একটু ২০০২ সালে ফিরে যাই। বিসিবির নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর পেছনে হেঁটে বিসিবি আবার বিসিসিবি হয়ে যায়, পরিচালনা পর্ষদের বদলে কার্যনির্বাহী কমিটি। বদলে ফেলা হয় লোগোও। কিছুদিন পর আবার বিসিবি ও পরিচালনা পর্ষদে প্রত্যাবর্তনই বুঝিয়ে দেয় আদালতে ওই রিটের আসল উদ্দেশ্য। ক্রিকেট অঙ্গনে রফিকুল ইসলাম বাবুর নামই হয়ে যায় ‘রিট বাবু’।

সেই ‘রিট বাবু’ এবারের অ্যাডহক কমিটিতেও আছেন। আমিনুল ইসলামের বোর্ডের সময় বেশির ভাগ ক্লাবের ঢাকার লিগ বর্জনেও বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। সেটির প্রাথমিক পুরস্কার পেয়েছেন, হয়তো অপেক্ষা করছে আরও বড় পুরস্কারও। তিন মাসের মধ্যে যে নতুন নির্বাচন দেওয়ার কথা হচ্ছে, তাতে অ্যাডহক কমিটির সদস্যদের অংশ নিতে যেহেতু কোনো বাধা নেই, কাজেই বুঝতেই পারছেন সেই পুরস্কারটা কী।  সর্বশেষ নির্বাচনের ‘অনিয়ম’ নিয়ে তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ কতটা আমলে নেওয়া হয়, তা দেখার কৌতূহল তো থাকছেই।

অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে যে সরকারের প্রভাব ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এমন মনে করার কোনো কারণ নেই যে নীতিনিষ্ঠ থেকে এসবের প্রতিবাদ করতেই তামিম ইকবাল দলবলসহ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।

বাংলাদেশের সব ক্রীড়া ফেডারেশনের মতো বিসিবির সব নির্বাচনেও সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ হস্তক্ষেপ থাকেই। আওয়ামী লীগের সর্বশেষ শাসনামলে যে তিনটি নির্বাচন হয়েছে, তাতে ভোটের আগেই বিজয়ীদের নাম জানা থাকত সবার। নাজমুল হাসান সভাপতি হতে পারবেন কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা শোনা যায়নি কখনো। মুখে সংস্কারের কথা বললেও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এই পথই অনুসরণ করেছে। অথচ আদর্শ হতো, এমন কাউকে সভাপতি বানানো, যিনি নিজে নির্বাচনে অংশ না নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করবেন। ‘বানানো’ কথাটা নিয়ে কারও আপত্তি থাকতে পারে। সরকারের তো কাউকে কোনো কিছু বানানোরই কথা নয়। বিসিবিতে না সরকারি হস্তক্ষেপ নিষিদ্ধ!

তবে এই বাণী শুধু কাজীর গরুর মতো কেতাবেই আছে, গোয়ালে নেই। বিসিবিতে এনএসসি মনোনীত দুজন পরিচালক থাকাটাই তো সরকারি হস্তক্ষেপের রাস্তা খুলে দেয়। ফারুক আহমেদ ও আমিনুল ইসলামকে বিসিবি সভাপতিও করা হয়েছিল এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই। সরকার চাইলেই যেহেতু এনএসসি মনোনীত পরিচালককে সরিয়ে দিতে পারে, আমিনুলকে সুরক্ষা দিতে তাই তাঁকে ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা থেকে কাউন্সিলর করে এনেছিলেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা। ঢাকা বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থায় তাঁকে জায়গা দিতে পদত্যাগ করা মোহাম্মদ আশরাফুলকে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ বানিয়ে প্রতিদান দিয়েছেন আমিনুল ইসলাম। এসব মিলিয়ে নিতে কি আর খুব বেশি বুদ্ধিমান হতে হয়!

তিন মাসের জন্য গঠিত বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হয়েছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল

অক্টোবরের বিসিবি নির্বাচনে যে সরকারের প্রভাব ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এমন মনে করার কোনো কারণ নেই যে নীতিনিষ্ঠ থেকে এসবের প্রতিবাদ করতেই তামিম ইকবাল দলবলসহ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। মূল কারণ ছিল পদ ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনায় সমঝোতা না হওয়া। অন্য পক্ষ সব গুছিয়ে নেওয়ায় নিশ্চিত পরাজয় আঁচ করতে পারাও। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় এলে নির্বাচিত কমিটিও যে আর থাকবে না, ভূমিকা ছিল এই নিশ্চয়তারও। যেটি এখন সত্যি বলে প্রমাণিত।

টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার ২৫ বছরের বেশি হয়ে যাওয়ার পরও বাংলাদেশের ক্রিকেটের এখনো অথই সাগরে হাবুডুবু। এখনো তা আগের মতোই ঢাকাকেন্দ্রিক। আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থার মাধ্যমে সারা দেশে ন্যূনতম ক্রিকেটীয় সুযোগ–সুবিধা ছড়িয়ে দেওয়ার কাজটাও এখনো মুখের বাগাড়ম্বরেই সীমাবদ্ধ। এসব ভেবে শুধু দীর্ঘশ্বাসই পড়ে, যা দীর্ঘতর হয়ে ওঠে বিসিবির চেয়ারে বসার জন্য প্রাণান্তকর এই লড়াই দেখে।