সেমিফাইনালে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ এইচপি
সেমিফাইনালে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ এইচপি

টপ এন্ড টি–টুয়েন্টিতে কেমন করল বাংলাদেশ এইচপি

পারল না বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দল। ডারউইনে টপ এন্ড টি-টুয়েন্টির সেমিফাইনালে ভিক্টোরিয়া ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের কাছে ১ উইকেটে হেরেছে জাতীয় দলের আশপাশে থাকা খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটি।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে হওয়া এই সিরিজে মোট ৭টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ এইচপি। বিভিন্ন দেশের ইমার্জিং ও ‘এ’ দল স্তরের দলগুলোর বিপক্ষে কেমন করলেন বাংলাদেশের নির্বাচকদের নজরে থাকা খেলোয়াড়েরা?

৯টি দল নিয়ে আয়োজিত টপ এন্ড টি-টুয়েন্টিতে লিগ পর্বে মোট ৬টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ এইচপি। ইরফান শুক্কুরের নেতৃত্বাধীন দলটি জিতেছে অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটরি ও ভিক্টোরিয়া, নিউজিল্যান্ডের ‘এ’ দল, পাকিস্তানের হায়দরাবাদ কিংসমেন ও নেপালের বিপক্ষে। একমাত্র হারটি অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স একাডেমির কাছে।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের দিক থেকে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রহস্য স্পিনার মোহাম্মদ রুবেল। পাওয়ারপ্লেতে বল হাতে নেওয়া এই স্পিনার ৭ ম্যাচে উইকেট নিয়েছেন ২৩, যা বাংলাদেশের তো বটেই, টুর্নামেন্টেরই সর্বোচ্চ।

টুর্নামেন্ট সর্বোচ্চ ২৩ উইকেট রুবেলের

এমনকি সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় ২ নম্বরে থাকা নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের স্পিনার জেইডন লেনক্সের চেয়েও ১০ উইকেট বেশি রুবেলের। বোঝাই যাচ্ছে, কেমন দাপট দেখিয়েছেন তিনি। সেমিফাইনালে হারার ম্যাচে ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী এই স্পিনার।

বোলারদের মধ্যে বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট বাঁহাতি স্পিনার রাকিবুল ইসলামের। ৫ ম্যাচ খেলা এই স্পিনারের উইকেট ৯টি। পেসারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট রিপন মণ্ডলের। ৬ ম্যাচে তাঁর উইকেট ৮টি। আবদুল গাফফার সাকলাইনের উইকেট ৭টি, তিনি ৭টি ম্যাচই খেলেছেন।

ব্যাটসম্যানদের তালিকায় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান আরিফুল ইসলামের। ৭ ম্যাচে তাঁর রান ২১৯, ফিফটি করেছেন দুটি। স্ট্রাইকরেটও মন্দ নয়-১৩৮.৬০। সব মিলিয়ে তাঁর অবস্থান তিনে। এক সময় বাংলাদেশের হয়ে খেলা সাব্বির রহমান ৭ ম্যাচে করেছেন ১৮৪ রান। ১২৪.৩২ স্ট্রাইকরেটে ব্যাটিং করা সাব্বির ফিফটি করেছেন দুটি। তিনি আছেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকদের তালিকার পাঁচে।

সাব্বির ও আরিফুল কিছু রান পেলেও হতাশ করেছেন শামীম হোসেন, জিসান আলম, হাবিবুর রহমানরা। জাতীয় দলে অনেকটাই নিয়মিত খেলা শামীম করেছেন ৬ ইনিংসে ১০৭ রান, এর মধ্যে ৫১ রানই এসেছে এক ইনিংসে। জিসান ৬ ম্যাচে রান করেছেন ১০২, আর ৭ ম্যাচেই খেলা হাবিবুর মাত্র ৮৫।

অধিনায়ক ইরফান শুক্কুরের ব্যাটিংও ছিল হতাশাজনক। ৬ ইনিংসে ব্যাট করে মাত্র ৭২ রান করেছেন অভিজ্ঞ এই ক্রিকেটার। দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতেও তাঁর কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেটি পূরণ করতে পারেননি তিনি। যেমনটা দলও পারেনি ফাইনালে পৌঁছাতে।