
বিপিএল ট্রফিটা নাজমুল হোসেনের সামনেই রাখা। ব্যাট হাতে দারুণ একটা মৌসুম কাটিয়েছেন, অধিনায়ক হিসেবে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়ে জিতেছেন প্রথম বিপিএল শিরোপা। প্রায় মিনিট বিশেকের প্রশ্ন-উত্তর পর্বে তাঁর কাছে শেষ প্রশ্ন, ‘পরের খেলাটা কবে তা কি জানেন?’ নাজমুল এক কথায় উত্তর দিলেন, ‘না’।
কখনো কি এমন হয়েছে, পরের খেলা কবে মনে করতে পারছেন না? এবারও তাঁর উত্তর ‘না’।
আরেকটু বেশি সময় নিয়ে ভাবলে হয়তো নাজমুল মনে করতে পারতেন, মার্চে বাংলাদেশে আসার কথা পাকিস্তানের। তবে তিন ম্যাচের ওই টি-টুয়েন্টি সিরিজে তাঁর থাকার নিশ্চয়তা নেই, গত এক বছর ধরেই এই সংস্করণে খেলছেন না।
মাঝের সময়ে বাংলাদেশ দল টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার কথা, কিন্তু নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে এই টুর্নামেন্টে খেলতে রাজি নয় বিসিবি। ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরানোর অনুরোধ করলেও আইসিসি তা প্রত্যাখ্যান করায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ না খেলা প্রায় নিশ্চিতই। শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটা বাকি।
অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্যতম বড় আসর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়েও। সব মিলিয়ে ক্রিকেটারদের পরের ব্যস্ততা কী, তা নিয়ে বড় এক অনিশ্চয়তাই তৈরি হয়েছে। পেশাদার ক্রিকেটের শুরু থেকেই ব্যস্ত সময় কাটানো নাজমুলের জন্য এমন অভিজ্ঞতা তাই নতুন।
তা যে তাঁর চিন্তা বাড়াচ্ছে তা লুকাননি জাতীয় দলের টেস্ট অধিনায়ক, ‘চিন্তা তো একটু হয়। অবশ্যই চিন্তা হয়। ভবিষ্যৎ তো আমরা কেউই জানি না। খেলোয়াড় হিসেবে চিন্তা একটু হচ্ছে। এখানে অস্বীকার করার কিছু নেই।’
গত বছরও জাতীয় দলে তিন সংস্করণের নেতৃত্বে ছিলেন নাজমুল। এখনো তিনি টেস্টের অধিনায়ক। ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াবেরও কার্যনির্বাহী সদস্য। ক্রিকেটের এই অনিশ্চয়তার সময়ে বোর্ডের কাছে তিনি কাল রেখেছেন কিছু অনুরোধ।
নাজমুল বলেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে গত এক-দেড় বছরে যেভাবে আমাদের ক্রিকেটটা চলছে, বিশেষত বাইরে যে ধরনের পরিবেশ, এটা আমাদের আসলে (মাঠের) ক্রিকেটে অনেক ব্যাহত হচ্ছে।’
পরে বোর্ডের কাছে দুটি অনুরোধও জানিয়েছেন নাজমুল, ‘যাঁরা দায়িত্বে আছেন ক্রিকেট বোর্ড বা বাইরের যারা আছেন সবাই মিলে একটু সমঝোতা করে ক্রিকেটটা যেন ঠিকভাবে চালু হয় এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। চালু বলতে (এখনো) খেলা চলছে, কিন্তু কীভাবে ক্রিকেটটা আরও সুন্দরভাবে চালানো যায় এটাই গুরুত্বপূর্ণ। খেলোয়াড় হিসেবে অনুরোধ করব, এই মুহূর্তে যেভাবে আসলে খেলা চলছে আমরা সবাই অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি আসলে কী হবে, না হবে। আমার মনে হয় সবাই নিজেদের জায়গা থেকে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করবেন, যাতে ক্রিকেটটা সুন্দরভাবে মাঠে নিয়মিত হয় এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট হয়, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
ক্রিকেটারদের আয়ের ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা থাকে ঢাকার ক্লাব ক্রিকেটের। কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগ ক্রিকেটে খেলা বয়কট করেছে প্রায় অর্ধেক ক্লাব। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেও ৮টি ক্লাব আছে যাঁরা বিদ্রোহীদের দলে। এই সংকট নিরসনের আহ্বান জানিয়েছেন নাজমুল।
তিনি বলেছেন, ‘যদি আমরা বিশ্বকাপে না যাই সে ক্ষেত্রে ঢাকা লিগের অনেক বেশি গুরুত্ব থাকবে কারণ খেলোয়াড়দের এত লম্বা সময় বসে থাকাও কঠিন। ঢাকার ক্রিকেটটা নিয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে, কথা হচ্ছে হবে কী হবে না। আমি অনুরোধ করব যে ঢাকার লিগটা যেন আগের যতগুলো আসর হয়েছে তার থেকে এবার আরও সুন্দরভাবে হয়।’
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ বিশ্বকাপ খেলতে না গেলে আলাদা একটা টুর্নামেন্ট আয়োজনের অনুরোধও বোর্ডকে জানিয়েছে নাজমুল, ‘আরেকটা অনুরোধ থাকবে যেন আমাদের জন্য আরও একটা ভালো টুর্নামেন্ট বা সুন্দর একটা টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে পারে যেন খেলোয়াড় হিসেবে আমরা খেলার সুযোগ পাই। বাইরের যেই জিনিসগুলো এখন হচ্ছে এগুলো আসলে ঠিকঠাক করে মাঠের ক্রিকেটটা আরও সুন্দরভাবে যেন নিয়ে আসতে পারি এবং খেলোয়াড়রা যেন খেলার সুযোগ পাই।’