
ব্যাটিংয়ে নামার পর বৈভব সূর্যবংশীর দুটি রূপ দেখা যায়। একটা দেখা যায় যখন ব্যাটিং করেন। কী করেন বলতে হবে? একের পর এক বল পিটিয়ে গ্যালারিতে পাঠান। তবে চার–ছক্কায় সবাইকে অশান্ত করে দেওয়া সূর্যবংশীর শান্ত রূপ দেখা যায় মাইলফলক উদ্যাপনে।
তখন আর কোনো ঝড় নেই। বরং সূর্যবংশী থেমে যান। ধীরে ধীরে হেলমেটটি মাথা থেকে খুলে হাতে নেন। গ্লাভস পরা দুটি হাত বুকের কাছে তুলে আনেন। এরপর দুই হাতের তর্জনী ও বুড়ো আঙুল একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করেন।
খুব যত্ন নিয়ে ফুটিয়ে তোলেন ইংরেজি ‘এ’ অক্ষর। সূর্যবংশী ব্যাটিং দেখলে এই বিশেষ উদ্যাপনও আপনার দেখার কথা। ১৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার কেন এভাবে উদ্যাপন করেন? বিশেষ কোনো তাৎপর্য আছে?
আছে। সূর্যবংশীর এমন উদ্যাপনের পেছনে রয়েছে তাঁর মায়ের গল্প। সূর্যবংশীর মায়ের নাম আরতি। শৈশব থেকেই ছেলের ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে তাঁর অবদান অনেক। মায়ের সেই কঠোর পরিশ্রম ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানাতেই ছেলের এমন উদ্যাপন। এভাবে তিনি মাঠে মাকে স্মরণ করেন। হাতের আঙুলে এঁকে দেন মায়ের নামের প্রথম অক্ষর।
আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসে খেলার সময় সাক্ষাৎকারে সূর্যবংশীর কাছে এই উদ্যাপনের কারণ জানতে চাওয়া হয়। সূর্যবংশী মুচকি হেসে বলেন, ‘এ তো ব্যক্তিগত বিষয়!’ তবে পরে নিজেই রহস্যের উন্মোচন করেন। তিনি জানান, এই বিশেষ চিহ্নটি শুধুই তাঁর মায়ের জন্য।
রাজস্থান রয়্যালসের শেয়ার করা এক ভিডিওতে সূর্যবংশী বলেন, ‘এটা আমি আমার মাকে উৎসর্গ করেছি। তাঁর নাম ‘এ’ দিয়ে শুরু। সত্যি বলতে, আমি বিষয়টা সবাইকে বলতে চাইনি।’
যখন সূর্যবংশীকে জিজ্ঞেস করা হয়, এটি কি কোনো ব্যক্তিগত বিষয়? তিনি জবাব দেন এভাবে, ‘ব্যক্তিগত...আমি একে ঠিক বিষয় বলব না। আসলে আমি এটি নিয়ে বেশি প্রচার বা বাড়াবাড়ি করতে চাইনি। কারণ, আমি উদ্যাপনের এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই। তবে...এটি শুধুই মায়ের জন্য।’
আইপিএল থেকে জাতীয় দল—সবখানেই ভালোবাসার ‘এ’ টেনে এনেছেন সূর্যবংশী। জাতীয় দলের জার্সিতে অবশ্য খুব বেশি উদ্যাপনের সুযোগ পাননি। এখন পর্যন্ত ভারতের হয়ে ৪টি টি-টুয়েন্টি খেলেছেন সূর্যবংশী।
সবশেষ ম্যাচে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৮ বলে ফিফটি করেছেন। এটিই ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর প্রথম ফিফটি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে ফিফটির রেকর্ডও এটি। আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে ভারত। আজও কি বড় ইনিংস খেলবেন সূর্যবংশী? তাঁর বড় ইনিংস মানেই তো মায়ের প্রতি ভালোবাসার ‘এ’।