বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম
বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম

কোথাও কোনো সংকট দেখছেন না বিসিবি সভাপতি আমিনুল

বিসিবির সর্বশেষ নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করছে এনএসসির পাঁচ সদস্যের স্বাধীন তদন্ত কমিটি। ১১ মার্চ গঠিত কমিটি নিয়ে পরে উদ্বেগ প্রকাশ করে এক বিবৃতিতে বিসিবি বলেছে, আইসিসির কাছে এটি ‘বাইরের হস্তক্ষেপ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, যা আইসিসিতে বাংলাদেশের সদস্যপদ ও ক্রিকেটের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

দেশের বাইরে থাকায় এনএসসির তদন্ত কমিটি এবং বিতর্কের জন্ম দেওয়া বিসিবির ওই বিবৃতি নিয়ে এত দিন বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলামের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে পরশু রাতে দেশে ফেরার পর কাল দুপুরে বিসিবি কার্যালয়ে এ নিয়ে তিনি প্রথম আলোসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন। আমিনুলের বক্তব্যের চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো এখানে—

তদন্ত কমিটি নিয়ে

পাঁচ মাস হলো বোর্ড স্বাভাবিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে চলছে। এর মধ্যে আমরা সিরিজ খেলছি, ঘরোয়া ক্রিকেট চলছে—সবকিছুই হচ্ছে। তারপরও যাঁরা সরকারে আছেন, তাঁরা আমাদের স্পোর্টসের মালিক। শুধু ক্রিকেট না, সবকিছুর মালিক—আমরা তাঁদের সম্মান করি।

বিসিবির বিবৃতি প্রসঙ্গে

আমার মনে হয় বিবৃতির ব্যাখ্যাটা একটু ভুল ছিল, মুখোমুখি (সরকার–বিসিবি) যেটা বলা হচ্ছে। আমরা একটা স্বায়ত্তশাসিত সংগঠন। এ ধরনের সংগঠন স্বাধীনভাবে কাজ করে, তখন মনে হচ্ছিল (সরকারি হস্তক্ষেপ) হয়তো কিছু একটা হতে পারে। আপনি যদি বিবৃতিটা ভালো করে দেখেন, সেখানে লেখা ছিল ‘হতে পারে’, তার মানে এই না যে ‘হয়েছে’। পূর্বসতর্কতা হিসেবে এটা করা। সবার ভালোর জন্য আমরা অবস্থানটা পরিষ্কার করেছি। দিন শেষে আমরা তো বাংলাদেশের সরকারের অধীনই কাজ করি।
বিবৃতির একটা লাইন অনেকেই ভুলভাবে ব্যাখ্যা করছে। ‘ক্লোজ’ করার একটা কথা উল্লেখ আছে। এটাকে অনেকেই ‘তদন্ত বন্ধ করা’ বলে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। ওটা ভুল ব্যাখ্যা।

সংকট কাটাতে কতটা আশাবাদী

আমি কোথাও কোনো সংকট দেখছি না। বোর্ড তার নিজস্ব নিয়মে স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। জাতীয় দল খেলছে আর মেয়েদের দল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সামগ্রিকভাবে সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। কোথাও কোনো সংকট নেই। এটা তো নির্বাচিত কমিটি। সাড়ে পাঁচ মাস ধরে বোর্ড চলছে। এ ধরনের প্রশ্ন আমরা আশা করি না।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও বিসিবি পরিচালক নাজমূল আবেদীন

দুই পরিচালকের পদত্যাগ

মিডিয়া কমিটির প্রধানের পদ থেকে আমজাদ হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হয়নি। আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদত্যাগটা (পরিচালকের পদ থেকে) সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। তবে তাঁরা পদত্যাগ করলেও আমরা এখনো তা গ্রহণ করিনি। তাঁদের সঙ্গে কথা বলব।

আইসিসির সঙ্গে টানাপোড়েন

আলহামদুলিল্লাহ, বিষয়টি এখন পুরোপুরি সমাধান হয়ে গেছে। মাঝখানে অনেক কিছু ঘটেছে, যার সবকিছু হয়তো গণমাধ্যমে আসে না। সে সময় সরকারের যে সিদ্ধান্ত ছিল, তা আমাকে মেনে নিতে হয়েছে। আর এখন যে সরকার দায়িত্বে আছে, তাদের সিদ্ধান্তও আমাদের মানতে হবে। শুরু থেকেই বলে আসছি, আমরা সরকারের অধীনই কাজ করি।

বিশ্বকাপে না খেলা ভুল ছিল কি না

এ নিয়ে কিছু না বলি। তবে খুব চেষ্টা করেছি। দিন শেষে আমিও তো একজন ক্রিকেটার।

বিশ্বকাপ নিয়ে তদন্ত কমিটির আলোচনা

ওইটার ব্যাপারে আমার ধারণা নেই, কিছু শুনিনি। পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পেরেছি। অনুসন্ধান তো সরকার করতেই পারে। তাদের কথা আমরা শুনব, শুনছি। আবারও বলছি, ফাহিম ভাইসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জাতীয় দলের স্কোয়াড ঠিক করেছিল। আমাদের যাওয়ার প্রস্তুতিও ছিল, কোথায় খেলবে, না খেলবে—সবই নির্ধারিত ছিল। তবে সরকারের সিদ্ধান্তকে সম্মান করতেই হবে।