
বৃষ্টিবিঘ্নিত এক দিনে ১২ ছক্কায় দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি করেছেন মোহামেডানের ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম। সেঞ্চুরি পেয়েছেন জাকির হাসান ও শাহাদত হোসেন সবুজও। চারটি ম্যাচে ডাকওয়ার্থ–লুইস পদ্ধতিতে (ডিএলএস) ফল এলেও দুটি ম্যাচ গড়িয়েছে রিজার্ভ ডেতে।
ইউল্যাব ক্রিকেট গ্রাউন্ডে ৪৮তম ওভারে যখন আউট হলেন মোহাম্মদ নাঈম, মোহামেডান ওপেনারের নামের পাশে ১৪৫ রান। ১৩৬ বলে ইনিংসে ৫ চার ও ১২ ছক্কায় লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে নিজের ১১তম সেঞ্চুরিটা পেয়েছেন নাঈম। তাঁর দল করেছে ৬ উইকেটে ৩৪৫ রান। রান তাড়ায় রূপগঞ্জ টাইগার্স ১৬.৫ ওভারে ৫ উইকেটে ৫৩ রান তোলার পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। আগামীকাল আবার ম্যাচটি শুরু হবে এখান থেকেই।
৮ ম্যাচে ৭ বার ব্যাট করে ১২৩ রান—লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এমন বিবর্ণ রেকর্ড নিয়েই আজ গুলশান ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে খেলতে নেমেছিলেন শাহাদত হোসেন সবুজ। বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে অগ্রণী ব্যাংকের বিপক্ষে সেই সবুজ আজ করে ফেললেন ১৩২ রান। ১২১ বলের ইনিংসে ১৭টি চার ও ১টি ছক্কা মেরেছেন ৩০ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। ১৮৭ রানের চতুর্থ উইকেট জুটিতে তাঁর সঙ্গী শাহরিয়ার সাকিব করেছেন ৭৫। তাতে ৫ উইকেটে ৩০১ রান করে গুলশান।
রান তাড়ায় অগ্রণী ব্যাংক ১৬ ওভারে ২ উইকেটে ৮৯ রান তোলার পর শুরু হয় বৃষ্টি। খেলা আবার শুরু হলে ডিএলএস হিসাবে অগ্রণী ব্যাংকের লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬ ওভারে ১৯৩ রানের। দ্রুত রান তুলতে গিয়ে ২৪.২ ওভারে ১৩২ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। ৬০ রানের জয়টিই এবারের লিগে গুলশানের প্রথম।
ওপেনার জাকির হাসানের দারুণ এক সেঞ্চুরিতে (১৩৪ বলে ১৩৭) বিকেএসপির ৪ নম্বর গ্রাউন্ডে ৯ উইকেটে ৩০৬ রান করে ঢাকা লেপার্ডস। রান তাড়ায় সিটি ক্লাব ২০.১ ওভারে ১ উইকেটে ৯৬ রান তোলার পর নামা বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া খেলা আর শুরু করা যায়নি। ডিএলএসের হিসাবে দেখা যায়, ওই সময়ে সিটির ঠিক ৯৬ রানই করতে হতো। আর তাতে ১ রানের জয় পেয়ে যায় দলটি। মূলত আগের ওভারের শেষ দুই বলে মিজানুর রহমানের (৫৪) টানা দুটি চারই জয় এনে দেয় সিটিকে।
পিকেএসপিতে মাহিদুল ইসলাম (১১৩ বলে ৮৩), এস এম মেহেরব হাসান (৭৬ বলে ৭৭) ও মোসাদ্দেক হোসেনের (৪০ বলে অপরাজিত ৬২) ফিফটিতে ৬ উইকেটে ২৮৩ রান করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী। রান তাড়ায় ব্রাদার্স ১২ ওভারে ১ উইকেটে ৪৯ রান তোলার পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। আগামীকাল সকাল ৯টায় ব্রাদার্স এখান থেকেই আবার শুরু করবে রান তাড়া।
বিকেএসপির ৩ নম্বর মাঠে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ অলআউট হয়ে যায় ২২৭ রানে। রান তাড়ায় প্রাইম ব্যাংক ২৫.৪ ওভারে ২ উইকেটে ১০৮ রান তোলার পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। এরপর আর খেলা হতে পারেনি। ডিএলএস হিসাবে নির্ধারিত লক্ষ্যের চেয়ে ২০ রানে এগিয়ে থাকায় টানা তৃতীয় জয় পেয়ে যায় প্রাইম ব্যাংক। দলটির ওপেনার শাহাদাত হোসেন দীপু ৬১ রানে অপরাজিত ছিলেন।
ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স অলআউট হওয়ার আগে করেছিল ২৩৫ রান। রান তাড়ায় গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স ১৯ ওভারে ৩ উইকেটে ৮৯ রান তোলার পর শুরু হয় বৃষ্টি। খেলা আবার শুরু হলে ৩৪ ওভারে ১৯৪ রানের লক্ষ্য পায় গাজী গ্রুপ। ১৫ ওভারে ১০৫ রানের সমীকরণ মেলাতে পারেনি দলটি, ৩২.১ ওভারে ১৮৩ রানে অলআউট হয়ে হেরেছে ১০ রানে। স্ট্রাইকার্সের লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম ৩৯ রানে নেন ৪ উইকেট।