সেঞ্চুরির পর স্টিভেন স্মিথ। আজ সিডনিতে
সেঞ্চুরির পর স্টিভেন স্মিথ। আজ সিডনিতে

সিডনি টেস্ট

সকালটা হেডের, দুপুর–বিকেল স্মিথের, দিনটা অস্ট্রেলিয়ার

সকালের সেশনে ট্রাভিস হেডের সেঞ্চুরি। এরপর শেষ সেশনে এসে সেঞ্চুরি তুলে নেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথও। শুধু তা–ই নয়, ইংল্যান্ডের ‘দ্য মাস্টার’ জ্যাক হবসকে টপকে অ্যাশেজে সর্বোচ্চ রানে দুইয়েও উঠে এসেছেন স্মিথ। সব মিলিয়ে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে (এসসিজি) আজ টেস্টের তৃতীয় দিনটা দারুণ কাটল অস্ট্রেলিয়ার।

৩৪.১ ওভারে ২ উইকেটে ১৬৬ রানে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ করেছিল অস্ট্রেলিয়া। আজ সারা দিনে ৮৯.৫ ওভারের খেলা হয়েছে। ইংল্যান্ডের বোলাররা নিতে পেরেছেন ৫ উইকেট, আর অস্ট্রেলিয়া বিনিময়ে তুলেছে ৩৫২ রান। সব মিলিয়ে ৭ উইকেটে ৫১৮ রানে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রথম ইনিংসেই ১৩৪ রানের লিড নিয়েছে স্টিভেন স্মিথের দল। ক্রিজে আছেন স্মিথ (১২৯*) ও বো ওয়েবস্টার (৪২*)।

তৃতীয় উইকেটে হেড ও নেসারের জুটি গতকাল থেকে হিসাব করলে ক্রিজে টিকেছে প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। তাঁদের ১৪৪ বলে ৭২ রানের জুটি ভেঙেছে আজ সকালের সেশনে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে ৫৪.৪ ওভারে। ৯০ বলে ২৪ করা নেসার ইংল্যান্ডের বোলারদের ভালো ধৈর্যের পরীক্ষাই নেন। এরপর ক্রিজে হেডের সঙ্গে জুটি বাঁধেন স্মিথ। হেড সকালের সেশনে প্রায় একাই টেনে নেন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে। এই সেশনে অস্ট্রেলিয়ার ১টি উইকেট হারিয়ে তোলা ১১৫ রানের মধ্যে হেডের একারই অবদান ৭১।

সেঞ্চুরি তুলে নিতে খেলেন ১০৫ বল, এরপর ১৫০ করতে খেলেন মাত্র ৪৭ বল। অর্থাৎ ১৫২ বলে ১৫০ করে অ্যাশেজের ইতিহাসে যৌথভাবে চতুর্থ দ্রুততম ১৫০ রানের ইনিংসও খেলেন হেড। এই পথে তিনি পেছনে ফেলেন ১৯৩০ সালের অ্যাশেজে লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে ২৫৪ রানের ইনিংস খেলার পথে ১৬৬ বলে ১৫০ করা কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানকে।

সকালের সেশনে সেঞ্চুরি পান ট্রাভিস হেড

টেস্টে নিজের ১২টি সেঞ্চুরির মধ্যে ৭টিকেই ন্যূনতম ১৫০ রানে নিয়ে যাওয়া হেড শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সেশনে ইংল্যান্ডের জ্যাকব বেথেলের নিরীহ স্পিনে আউট হন। ১ ছক্কা ও ২৪ চারে ১৬৬ বলে ১৬৩ রানের ইনিংস খেলার পথে এই বাঁহাতি অ্যাশেজে এক সিরিজে চলতি শতাব্দীতে স্টিভেন স্মিথের পর দ্বিতীয় অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে ন্যূনতম ৬০০ রানের দেখাও পান। হেডের ইনিংসে আজ একটাই ‘খুঁত’— প্রথম সেশনে শেষ ওভারে উইল জ্যাকসের হাতে ‘জীবন’ পান। তাঁর ক্যাচ নিতে পারেননি ইংল্যান্ডের এই ফিল্ডার।

স্মিথের সঙ্গে ৫৪ রানের জুটি গড়ে হেড আউট হওয়ার পর নামেন উসমান খাজা। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে সিডনি টেস্টকেই শেষ ম্যাচ হিসেবে ঘোষণা দেওয়ায় নামার সময় উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান দেখান মাঠের দর্শক। স্মিথের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়া খাজা অবশ্য বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ১৭ রানে ব্রাইডন কার্সের বলে এলবিডব্লু হন। ষষ্ঠ উইকেটে অ্যালেক্স ক্যারির সঙ্গেও স্মিথের জুটি জমেনি। ১৬ রানে জশ টাংয়ের বলে আউট হওয়া ক্যারির সঙ্গে স্মিথের জুটিতে উঠেছে মাত্র ২৭ রান। ৯১ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৭৭ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় অস্ট্রেলিয়া। ক্রিজে তখন ৬৫ রানে জেঁকে বসা স্মিথ ও ৮ রান করা ক্যামেরন গ্রিন।

সারা দিনে উইকেট নিলেও অস্ট্রেলিয়ার রানের চাকা আটকাতে পারেনি ইংল্যান্ড

সপ্তম উইকেটে দুজনের জুটিতে যোগ হয় আরও ৭১ রান। স্মিথ সেঞ্চুরির পথে শেষ সেশনে এসে অ্যাশেজে সর্বোচ্চ রানে পেছনে ফেলেন হবসকে। ইংল্যান্ড কিংবদন্তিকে পেছনে ফেলে ৮৪ রান দরকার ছিল তাঁর। শেষ সেশনে দলীয় ইনিংসে ১০০তম ওভারে বেথেলের বলে এক রান নিয়ে হবসকে পেরিয়ে যান স্মিথ। হবস অ্যাশেজে ৪১ ম্যাচে করেছেন ৩৬৩৬ রান। স্মিথও অ্যাশেজে সমানসংখ্যক টেস্টে এ পর্যন্ত করেছেন ৩৬৮২ রান। অ্যাশেজে সর্বোচ্চ রান করা ব্যাটসম্যানদের তালিকায় এখন দুইয়ে স্মিথ। ৩৭ ম্যাচে সর্বোচ্চ ৫০২৮ রান নিয়ে শীর্ষে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যান।

সেই বেথেলেরই করা ১১০তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ৩ রান নিয়ে টেস্ট ক্যারিয়ারের ৩৭তম সেঞ্চুরিও তুলে নেন স্মিথ। অ্যাশেজে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির তালিকাতেও স্মিথ এখন দুইয়ে (১৩)। এখানেই সেই হবসকে (১২) পেছনে ফেলা স্মিথের সামনে এখন ব্র্যাডম্যান (১৯)।

৩৭ রান করা গ্রিন ইংলিশ পেসার কার্সকে পুল করতে গিয়ে সীমানায় ক্যাচ দেন। এরপর অষ্টম উইকেটে ওয়েবস্টারের সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ৮১ রানের জুটিতে তৃতীয় দিনের খেলা শেষ করেন স্মিথ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ৯৭.৩ ওভারে ৩৮৪।

অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস: ১২৪ ওভারে ৫১৮/৭ (হেড ১৬৩, স্মিথ ১২৯*, গ্রিন ৩৭, ওয়েবস্টার ৪২*; কার্স ৩/১০৮, স্টোকস ২/৮৭, টাং ১/৮৯, বেথেল ১/৫০)

তৃতীয় দিন শেষে।