দল হিসেবে মানসিকতায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে
দল হিসেবে মানসিকতায়ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে

অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারানোর সঙ্গে আরও তৃপ্তি আছে বাংলাদেশের

প্রথম দুই ম্যাচে একাদশেই ছিলেন না শরীফুল ইসলাম। দুটি ম্যাচই বাংলাদেশ জিতেছিল, পেসারদের পারফরম্যান্সও ছিল বেশ ভালো। তবু শেষ ম্যাচে তাঁর সুযোগ মেলে নাহিদ রানার বিশ্রামে। কয়েক সিরিজ ধরেই বাংলাদেশ দলের সেরা বোলার এই নাহিদ রানা।

‘সেরার’ বদলে একাদশে সুযোগ পেয়ে সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে হতো শরীফুল ইসলামকে। ৬ উইকেট নিয়ে তিনি তা দিয়েছেনও। শুধু উইকেটের সংখ্যার কারণেই নয়, ম্যাচে শরীফুলের প্রভাবও ছিল অনেক। প্রায় একা হাতেই তিনি শেষ দিকে ম্যাচের মোড়ই ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ যে এখন অন্তত পেস বোলিং বিভাগে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, সেই বার্তাই পাওয়া যায় এ ঘটনায়। বেঞ্চে বসে থাকা পেসারদের যে কেউই এসে পারফর্ম করার সামর্থ্য রাখেন, জেতাতে পারেন ম্যাচও, প্রমাণ পাওয়া গেছে তার।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজজুড়েই অবশ্য বাংলাদেশের জন্য এমন ইতিবাচক ঘটনা আছে আরও অনেক। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স উন্নতির সঙ্গে বদলে গেছে দল হিসেবে মানসিকতাও। এর ফলই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়াকে সিরিজ হারানো।

বাংলাদেশ যে এখন একটা বড় স্বপ্ন নিয়ে এগোচ্ছে, তা–ও এই সিরিজে স্পষ্ট হয়েছে আরও একবার। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে ছিল বাংলাদেশের একচ্ছত্র দাপট। শেষ ম্যাচে হারলেও শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচে ছিল বাংলাদেশ।

তাসকিন আহমেদকে টানা তিন ছক্কা মেরে কুপার কনোলি যখন সমীকরণটা ৩০ বলে ৯ রানে নামিয়ে আনলেন, তখনো হাল ছাড়েনি বাংলাদেশ। শরীফুল আর মোস্তাফিজুর রহমান ৩ ওভারের ব্যবধানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচটা প্রায় জিতিয়েও দিয়েছিলেন! শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া জিতেছে মাত্র ৩ বল আর ১ উইকেট হাতে রেখে। ম্যাচ শেষে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের কথাটাই হয়তো এখনকার বাংলাদেশ দলটাকে মানসিকতা বোঝাতে যথেষ্ট, ‘যেকোনো জায়গা থেকে ফিরতে পারার বিশ্বাস দেবে এই ম্যাচ।’

বছরখানেক আগেও ওয়ানডে সংস্করণে খুব একটা সুবিধা করতে পারছিল না বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ের অন্তত সেরা নয়ে থেকে বিশ্বকাপ খেলাও পড়ে গিয়েছিল শঙ্কায়। সেখান থেকে গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে কিছুটা দিশা খুঁজে পায় তারা।

পাকিস্তানকে এরপর ঘরের মাঠে সিরিজ হারায় বাংলাদেশ। ওই সিরিজ থেকে একটা ইতিবাচক পরিবর্তনও আসে। ম্যাচে এগিয়ে থাকতে ধীরগতির উইকেট নয়, ঘরের মাঠেও তারা খেলতে শুরু করে স্পোর্টিং উইকেটে। সেটি পরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অব্যাহত থাকে। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও, যারা সারা বছরই গতি আর বাউন্সের উইকেটে খেলে অভ্যস্ত।

শেষ ম্যাচে সুযোগ পেয়েই ভালো করেছেন শরীফুল

ওয়ানডে অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ গতকাল জানালেন ওই তৃপ্তির কথাও, ‘তারা (অস্ট্রেলিয়া) কিন্তু আমাদেরকে নিয়ে কথা বলছে, বোলার ও ব্যাটসম্যানদের প্রশংসা করছে। তাদেরকে যে আমরা কঠিন সময়টা দিচ্ছি, তারা আমাদেরকে সেই সম্মানটা দিচ্ছে। আমার কাছে মনে হয়, এটা উন্নতির একটা ছাপ। আশা করি, এভাবে যদি চালিয়ে যেতে পারি, ভালো দল হবে।’

দল হিসেবে তো আছেই, বাংলাদেশ এই সিরিজে স্বস্তি পেয়েছে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও। মোসাদ্দেক হোসেনই এর বড় একটা বিজ্ঞাপন। চার বছর পর ওয়ানডে দলে ফিরে প্রথম ম্যাচেই ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছিলেন।

তিন ম্যাচের দুটিতে ফিফটি করে মোসাদ্দেক হয়েছেন সিরিজসেরাও। তিনি দলে ফেরার আগে ৬-৭–এ ব্যাট করবেন—এমন একজন অলরাউন্ডার খুঁজছিল বাংলাদেশ। আফিফ হোসেনকে সুযোগ দিলেও তিনি সুবিধা করতে পারেননি।

নতুন করে তাই সুযোগ মেলে মোসাদ্দেকের। ব্যাট-বলে দলের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন—৩ ম্যাচে ১৫৭ রান করেছেন দেড় শর বেশি স্ট্রাইক রেটে, আছে ২টি উইকেটও।

মিডল অর্ডারে নেমে আসা লিটন দাস ইনিংস বড় করতে পারেননি এই সিরিজেও, তবে রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকেও। ১১ বছরের ক্যারিয়ারে প্রথমবার ফিফটি পেয়েছেন মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। সেটাও এসেছে কঠিন সময়ে। অন্যদিকে ৩ ম্যাচে ৭৭ গড়ে ১৫৪ রান করে তাওহিদ হৃদয় মোস্ট ভ্যালুয়েবল খেলোয়াড় হয়ে গাড়ি জিতেছেন।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বড় একটা পরিকল্পনা সামনে রেখে। অধিনায়ক মিরাজ গতকাল বলে গেছেন, তাঁদের চোখ এখন এশিয়া কাপ আর বিশ্বকাপে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজটা তাঁদের সেই পথেই আরেকটু এগিয়ে দিল!