বাংলাদেশের তারকা ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা
বাংলাদেশের তারকা ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা

নতুন চোটে আরও অনিশ্চিত নাহিদ রানার ফেরা

চোট যেন নাহিদ রানার পিছু ছাড়ছে না!

জিম্বাবুয়ে সিরিজে টি–টুয়েন্টি খেলতে গিয়ে সাইড স্ট্রেনের চোটে পড়েন। সেই চোট তাঁকে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই টেস্টের সিরিজে খেলতে দেয়নি, পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়ায় নেই আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দলেও।

এ মাসের শেষ দিকে জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের সঙ্গে আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজ দিয়ে ফেরার কথা ছিল নাহিদ রানার। তবে নতুন করে নিতম্বে ব্যথা অনুভব করায় সেই সম্ভাবনা এখন কমে গেছে। এমনকি এ মাসের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিলেট ও ঢাকায় দুই টেস্টের সিরিজে খেলা নিয়েও তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাইড স্ট্রেনের চোট পাওয়ার পর দেড় মাস বোলিংই করতে পারেননি পেসার নাহিদ রানা। আগস্টের শেষ দিকে ছোট রানআপে বোলিং করে শুরু করেন মাঠে ফেরার প্রক্রিয়া। গত মাসখানেকের অনুশীলনে ধীরে ধীরে ম্যাচ খেলার মতো অবস্থায় আসছিলেন তিনি।

তবে বিসিবির একটি সূত্র জানিয়েছে, সপ্তাহখানেক আগে অনুশীলনে বোলিং করার সময় নিতম্বে ব্যথা অনুভব করেন নাহিদ রানা। পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া থেকে সেরে উঠে এ সপ্তাহেই তাঁর যে ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি তাই এখন তিনি সময়মতো দিতে পারছেন না। সে কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১৬ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া ত্রিদেশীয় সিরিজেও তাঁর খেলার সম্ভাবনা কমে গেছে।

আমিরাতের ত্রিদেশীয় সিরিজে না খেললে নাহিদ রানার জন্য পরে ফেরার মঞ্চ হতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২৮ অক্টোবর শুরু দুই টেস্টের সিরিজ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ বলে গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজ দিয়েই তাঁকে ফেরানোর পরিকল্পনা ছিল। যেহেতু আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে তাঁর খেলা হচ্ছে না, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলার আগে ম্যাচ প্রস্তুতির জন্য হলেও জাতীয় ক্রিকেট লিগে নাহিদ রানাকে অন্তত একটি ম্যাচ খেলাতে চায় বিসিবি।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে দুটি রাউন্ড আছে জাতীয় লিগের। ১০ অক্টোবর থেকে দ্বিতীয় এবং ১৮ অক্টোবর শুরু হবে তৃতীয় রাউন্ড। আপাতত নাহিদ রানাকে নিয়ে পরিকল্পনা—জাতীয় লিগের তৃতীয় রাউন্ডে তিনি খেলবেন। কিন্তু নতুন করে পাওয়া ব্যথার জন্য সেটিও খেলতে না পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম টেস্টটিও হয়তো তাঁর খেলা হবে না।

টিম ম্যানেজম্যান্ট মনে করে, কোনো ম্যাচ না খেলেই এত দিন পর সরাসরি টেস্ট খেলতে নামলে আরও বড় চোটের শঙ্কা থাকবে নাহিদ রানার। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের পর নভেম্বরেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে দুই টেস্টের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের যত বেশি ম্যাচে সম্ভব, নাহিদ রানাকে খেলাতে চায় টিম ম্যানেজম্যান্ট। এ কারণেই তাঁকে নিয়ে তাই বাড়তি সতর্কতা।