সিরিজজয়ের আনন্দ দক্ষিণ আফ্রিকার
সিরিজজয়ের আনন্দ দক্ষিণ আফ্রিকার

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে টেস্টের এক নম্বরে ফিরল দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩২৯ ও ৩৮৭। অস্ট্রেলিয়া: ৪২৯ ও ১১১। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭৬ রানে জয়ী।

টানা ১২ ওভার মেডেন। লাঞ্চের পর প্রথম এক ঘণ্টায় মাত্র ৩ রান। টেস্ট বাঁচাতে আর কী করতে পারতেন প্যাট কামিন্সরা!

ড্র করলেই টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্থান অক্ষুণ্ন থাকত অস্ট্রেলিয়ার। সিরিজও শেষ হতো ১–১ সমতায়। কিন্তু কেপটাউনে শেষ দিনের মঞ্চটা যেন সাজানো ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার জন্যই।

কাগিসো রাবাদার শুরুর ধাক্কা, এরপর সাইমন হারমারের ঘূর্ণি। তাতেই অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংস শেষ মাত্র ১১১ রানে। ১৭৬ রানের জয়ে সিরিজও ২–১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে টেম্বা বাভুমার দক্ষিণ আফ্রিকা। সঙ্গে অস্ট্রেলিয়াকে সরিয়ে আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের ১ নম্বর জায়গাটাও নিজেদের করে নিয়েছে প্রোটিয়ারা।

পঞ্চম দিনে জয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ২২৮ রান, হাতে ১০ উইকেট। আগের দিন উইকেটে খুব বেশি টার্ন না থাকায় জয়ের স্বপ্নও দেখছিল সফরকারীরা। কিন্তু সেই স্বপ্নে প্রথম আঘাতটা করেন রাবাদা।

দিনের প্রথম ওভারেই ম্যাট রেনশ ও মার্নাস লাবুশেনকে ফেরান দক্ষিণ আফ্রিকার এই পেসার। রেনশকে শূন্য রানে উইকেটের পেছনে ক্যাচ বানানোর পর লাবুশেনকে ফেলেন এলবিডব্লুর ফাঁদে। এরপর ট্রাভিস হেডকে গালি অঞ্চলে ক্যাচ বানিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে আরও বিপদে ফেলেন রাবাদা। এটি ছিল টেস্টে তাঁর ৩৫০তম উইকেট।

রান তাড়ার প্রথম ওভারেই রাবাদার তোপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া

রাবাদা শুরু করার পর বাকিটা সারেন হারমার।

জশ ইংলিস রানআউট হওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে ধস নামান এই অফ স্পিনার। একে একে ফেরান অ্যালেক্স ক্যারি ও কুপার কনোলিকে। লাঞ্চের ঠিক আগে তাঁর শিকার মিচেল স্টার্কও। বিরতিতে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ৭ উইকেটে ৬০। রাবাদা ও হারমার দুজনেরই তখন ৩টি করে উইকেট।

অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেটসহ ম্যাচে মোট ১০ উইকেট নেন সাইমন হারমার

লাঞ্চের পর অবশ্য অস্ট্রেলিয়া বুঝিয়ে দেয়, এত সহজে হার মানবে না। ক্যামেরন গ্রিন, কামিন্স ও নাথান লায়ন মিলে টানা ১২ ওভার মেডেন দেন। প্রথম এক ঘণ্টায় রান ওঠে মাত্র ৩!

কিন্তু প্রতিরোধের দেয়ালটা শেষ পর্যন্ত ভেঙে দেন হারমারই। গ্রিনকে বোল্ড করেন ২৭ রানে। কামিন্সকে ১১ রানে এলবিডব্লু। শেষ ব্যাটসম্যান জশ হ্যাজলউড টিকলেন মাত্র তিন বল। তাঁকে বোল্ড করেই সিরিজ জয়ের উৎসব শুরু করেন হারমার।

২১.১ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটাই হারমারের সেরা বোলিং।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনারদের ১০ উইকেট

ক্রমবোলিং ফিগার (উইকেট/রান)বোলারভেন্যুসাল
১১০/১১৬চার্লি লিউয়েলিনজোহানেসবার্গ১৯০২
২১৩/১৬৫হিউ টেফিল্ডমেলবোর্ন১৯৫২
৩১০/১২০সাইমন হারমারকেপটাউন২০২৬*

এই জয়ে ১২৪ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্থান পুনরুদ্ধার করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ১২২ রেটিং নিয়ে দুইয়ে নেমেছে অস্ট্রেলিয়া। দক্ষিণ আফ্রিকার পরের সিরিজ ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

দক্ষিণ আফ্রিকা: ৩২৯ ও ৩৮৭ (মুল্ডার ১১৫, রিকেলটন ১০১; স্টার্ক ৩/৬৫, কামিন্স ২/৭৪)।

অস্ট্রেলিয়া: ৪২৯ ও ১১১ (লায়ন ৩৩* গ্রিন ২৭; হারমার ৬/১৬, রাবাদা ৩/৩৯)

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ১৭৬ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ: সাইমন হারমার।

সিরিজ: দক্ষিণ আফ্রিকা ২–১ ব্যবধানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য সিরিজ: মার্কো ইয়ানসেন।