রিজওয়ানের শট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে
রিজওয়ানের শট নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে

আচরণগত সমস্যায় বাদ রিজওয়ান-ইমাম, ছাঁটাই হতে পারেন আকিবও

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে দেশে ফেরানোর সিদ্ধান্তের পেছনে পারফরম্যান্সের পাশাপাশি আচরণগত বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই।

লর্ডস টেস্টের পর বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন সালমান আগা, ইমাম–উল–হক ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। তাঁদের কেউ ভালো ফর্মে নেই। রিজওয়ান সিরিজের চার ইনিংসে করেছেন মাত্র ৬১ রান। লর্ডস টেস্টে তাঁর শট নির্বাচন নিয়েও সমালোচনা হয়।

ইমাম তো চোটের কারণে লর্ডস টেস্টে ব্যাটিংয়ে নামেননি। সেই চোট নিয়েও পিসিবির সন্দেহ আছে। সালমান টেস্টে সর্বশেষ ৫ ইনিংসেই হয়েছেন ব্যর্থ। অথচ এই সালামানই হেডিংলি টেস্টে বাবর আজমের পরিবর্তে অধিনায়কত্ব করেছিলেন। লর্ডসে ছিলেন না একাদশে। এরপর তো স্কোয়াড থেকেই বাদ পড়েছেন।

পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রিজওয়ান ও ইমামের ক্ষেত্রে শুধু পারফরম্যান্স বিবেচনা করা হয়নি। ড্রেসিংরুমে তাঁদের আচরণও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে।

এমনকি এ দুই ক্রিকেটারকে ডিসিপ্লিনারি কমিটির সামনে আচরণের ব্যাখ্যা দেওয়া লাগতে পারে। পিটিআই জানিয়েছে, রিজওয়ান ও ইমামের সঙ্গে সালমানকেও কমিটির সামনে দাঁড়াতে হতে পারে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরেই নাকি তাঁদের আচরণজনিত সমস্যা দেখা গেছে।

ইংল্যান্ড থেকে দেশে ফেরত যাওয়া অন্য খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশে। আগে সাদা বলের দলে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কয়েকজন ক্রিকেটারকে তিনি পরীক্ষা করে দেখতে চেয়েছেন।

বোর্ডের একটি সূত্র পিটিআইকে বলেছেন, ‘বাকি যেসব খেলোয়াড়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে, তাদের অন্তর্বর্তীকালীন টেস্ট কোচ মাইক হেসনের সুপারিশেই পাঠানো হয়েছে। তিনি সাদা বলের ক্যাম্পে যাঁদের সঙ্গে কাজ করেছেন, এমন কিছু খেলোয়াড়কে সুযোগ দিতে চেয়েছেন।’ তৃতীয় টেস্টের জন্য পাকিস্তান দলে এসেছেন আরাফাত মিনহাস, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া, রাজউল্লাহ, সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজল।

নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকেও সরিয়ে দেওয়া হতে পারে

এদিকে এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটিতেও। পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা করছেন। সেই প্রক্রিয়ায় নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।

এরই মধ্যে আরেকটি বড় পরিবর্তন এসেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে নির্বাচক মিসবাহ-উল-হক পদত্যাগপত্র দিয়েছেন। তবে পিসিবি আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পদত্যাগ গ্রহণ করেছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।

মিসবাহর পদত্যাগের আগে নির্বাচক কমিটিকে শোকজ নোটিশ দিয়েছিল পিসিবি। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের টেস্ট দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে রাখার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিল বোর্ড।

শুধু নির্বাচক কমিটিই নয়, নির্বাচন ও পরামর্শক কমিটির সদস্যদেরও নোটিশ দিয়েছে পিসিবি। ইংল্যান্ড সফরের দলে ইমাম ও রিজওয়ানকে কেন নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দল নির্বাচনের নীতিতে কী ধরনের মানদণ্ড ব্যবহার করা হয়েছিল, সেটিও জানতে চেয়েছে বোর্ড।

পাকিস্তান ওপেনার ইমাম-উল-হক চোটের ইস্যুতে চাপে আছেন

ইংল্যান্ড সফর শেষ হওয়ার পর নতুন নির্বাচক কমিটি গঠন হতে পারে। একটি সূত্রের ভাষায়, ‘ইংল্যান্ড সফরের পর নতুন নির্বাচক কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।’

এদিকে ইংল্যান্ড সিরিজের পরও দায়িত্বে থাকতে পারেন হেসন। তাঁকে স্থায়ী প্রধান কোচ করার বিষয়ে আগ্রহী পিসিবি। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নিউজিল্যান্ডের এই কোচ দায়িত্ব নিতে রাজি হন কি না, তার ওপর।