সদ্য সমাপ্ত শ্রীলঙ্কা সিরিজে ‘নো’ বলের কারণে আলোচনায় এসেছেন রবীন্দ্র জাদেজা
সদ্য সমাপ্ত শ্রীলঙ্কা সিরিজে ‘নো’ বলের কারণে আলোচনায় এসেছেন রবীন্দ্র জাদেজা

টেস্টে নো বল ঠেকাতে গাভাস্কারের টোটকা—বোলারের সঙ্গে কোচেরও জরিমানা হোক

টেস্টে ‘নো’ বল করলে শাস্তি হিসেবে ফ্রি হিট চালু করা যেতে পারে—ভারতীয় স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলের এমন পরামর্শের সঙ্গে একেবারেই একমত নন সুনীল গাভাস্কার। ভারতের সাবেক অধিনায়কের মতে, নো বল ঠেকাতে টেস্টে ‘ফ্রি হিট’ দেওয়া মানে ব্যাটসম্যানদের আরও রান করার সুযোগ দেওয়া। তার চেয়ে বরং বোলারকে জরিমানা করা হোক, এমনকি কোচকেও।

ভারতীয় বোলারদের সাম্প্রতিক নো বল প্রবণতা নিয়ে আজ মিড-ডেতে লেখা কলামে এ কথা বলেছেন গাভাস্কার। তাঁর মতে, বোলারদের এই সমস্যার সমাধান জরুরি। কারণ, অতিরিক্ত নো বল ম্যাচের গতিপথই বদলে দিতে পারে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সম্প্রতি শেষ হওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ভারতের বোলারদের নো বলের প্রবণতা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে স্পিনার রবীন্দ্র জাদেজা ও অভিষিক্ত সারাংশ জৈন বারবার বোলিং ক্রিজ অতিক্রম করেছেন। দ্বিতীয় টেস্টেই ভারত ১৩টি নো বল করেছে। এর মধ্যে দুই ইনিংস মিলিয়ে জাদেজা ও সারাংশেরই ছিল ১১টি।

২০২১ সাল থেকে স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ‘নো’ জাদেজার

প্রথম টেস্টে জাদেজা করেছিলেন চারটি নো বল। দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে আরও তিনটি করার পর দ্বিতীয় ইনিংসে একটি। সব মিলিয়ে ২০২১ সাল থেকে টেস্টে তাঁর নো বলের সংখ্যা এখন ৮৮।

এই সময়ে স্পিনারদের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানের নোমান আলীর নো বল ৪০। অর্থাৎ জাদেজার অর্ধেকেরও কম। এরপর শ্রীলঙ্কার লাসিথ এম্বুলদেনিয়া ৩৩ এবং ইংল্যান্ডের জ্যাক লিচ ১৯টি নো বল করেছেন।

ভারতের স্পিন বোলিং কোচ বাহুতুলে তাই টেস্টেও নো বলের পর ফ্রি হিট চালুর পরামর্শ দিয়েছিলেন। তবে গাভাস্কার মনে করেন, এতে টেস্টে রান করাকে আরও সহজ করে দেওয়া হবে, ‘দয়া করে টেস্ট ক্রিকেটে এই শাস্তি দিয়ে ব্যাটসম্যানদের রান করা আরও সহজ করে দেবেন না। এমনিতেই ওভারে বাউন্সারের সংখ্যা দুটিতে সীমাবদ্ধ করা এবং বাউন্ডারির সীমানা ছোট করে আনার কারণে রান করা কিছুটা সহজ হয়ে গেছে।’

সুনীল গাভাস্কার

গাভাস্কারের কাছে তাই ফ্রি হিটের চেয়ে জরিমানার প্রস্তাবই বেশি কার্যকর। তাঁর পরামর্শ, নো বলের জন্য ধাপে ধাপে জরিমানা বাড়ানো যেতে পারে, ‘কেমন হয় যদি এমন জরিমানার ব্যবস্থা করা যায়, যা প্রতিটি ভুলের জন্য দ্বিগুণ হতে থাকবে এবং বোলিং কোচের ওপরও জরিমানা অঙ্কের অর্ধেক ধরা হবে। আদায়কৃত এই অর্থ দলের ছেলেরা বিদায় নেওয়ার আগে তাদের শেষ নৈশভোজের পেছনে ব্যবহার করা যেতে পারে।’

তাঁর মতে শুধু নো বল নয়, ফিল্ডিংয়ের সময় থ্রোর পেছনে ঠিকমতো ব্যাকআপ না নেওয়ার মতো ভুলের জন্যও খেলোয়াড়দের জরিমানা করা যেতে পারে। তবে কোন ভুলের জন্য জরিমানা হবে, সেটি দলের সবাই ভোট দিয়ে ঠিক করতে পারেন।