৭ উইকেটে জিতে ধবলধোলাই থেকে বাঁচল বাংলাদেশ

ধবলধোলাই হওয়া থেকে বাঁচার লড়াই

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম দুই ওয়ানডেতে হেরে সিরিজ হেরেছে বাংলাদেশ। আজ তৃতীয় ওয়ানডেতে বাংলাদেশ মাঠে নামবে ধবলধোলাই এড়ানোর জন্য।

টস

সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডেতেও পরে ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ। হারারাতে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।

এই ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে নেতৃত্ব দেবেন সিকান্দার রাজা। নিয়মিত অধিনায়ক রিচার্ড এনগারাভাকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে।

এই ম্যাচের একাদশে দুটি পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। নাহিদ রানা ও রিশাদ হোসেন নেই, তাদের জায়গা নিয়েছেন তানভীর ইসলাম ও সাইফউদ্দিন।

বাংলাদেশ একাদশ: মেহেদী হাসান মিরাজ (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান, নাজমুল হোসেন, তাওহিদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, নুরুল হাসান, সাইফউদ্দিন, শরীফুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ, তানভীর ইসলাম।

কারান আউট

আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বেন কারেন আজ ফিরলেন অল্পতেই। তিনি চাইলে ভাগ্যকেও দায় দিতে পারেন। শরীফুল ইসলামের বলে ডিফেন্স করতে চেয়েছিলেন। তা তিনি করেছিলেনও ঠিকঠাক। কিন্তু বলটা গড়াতে গড়াতে চলে যায় স্টাম্পের দিকে। ব্যাট দিয়ে যতক্ষণে কারান বলটা থামিয়েছেন, ততক্ষণে স্টাম্পে একটা বেইল পড়ে যাওয়ার মতো আঘাত লেগেছে।

ষষ্ঠ ওভারে এসে প্রথম উইকেট পেল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের রান এখন ১৩।

তাসকিন এনে দিলেন দ্বিতীয় উইকেট

দ্বিতীয় উইকেটের জন্যও খুব বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হলো না বাংলাদেশকে। কারেনের ওই আউটের পরের ওভারটা করতে এসেছেন তাসকিন আহমেদ। তাঁর অফ স্টাম্পের বাইরে করা প্রথম বলেই উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়েছেন ব্রায়ান বেনেট।

জিম্বাবুয়ে: ৬.২ ওভারে ১৭/২

শরীফুলের দুই

আগের উইকেটে ভাগ্যের সহায়তা ছিল কিছুটা। এবার আর তা নয়। শরীফুলের বল ক্রেইগ আরভিনের ব্যাট ছুয়ে গেছে নুরুলের গ্লাভসে। তৃতীয় উইকেট হারাল জিম্বাবুয়ে, শরীফুল পেলেন দুটি।

জিম্বাবুয়ের রান এখন ১৪ ওভারে ২৮, উইকেট তিনটি নেই।

জুটি ভাঙলেন তাসকিন

৩ উইকেট হারানোর পর ইনোসেন্ট কাইয়া ও ওয়েসলি মাধেভেরের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল জিম্বাবুয়ে। কিন্তু বোলিং বদলে তা ভাঙতে পেরেছে বাংলাদেশ। ইনিংসের ২৭তম ওভারে তাসকিনকে বোলিংয়ে ফিরিয়ে আনেন মেহেদী হাসান মিরাজ। প্রথম বলটা একটু শর্ট করেছিলেন তাসকিন, তুলে মারতে গিয়ে কাইয়া ক্যাচ দিয়েছেন তানভীরের হাতে। ৫১ রানের জুটি ভেঙেছে। জিম্বাবুয়ে এখন ২৭ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৭৮ রান করেছে।

এক শ পার

শুরু থেকেই ধীরগতিতে রান তুলছে জিম্বাবুয়ে। এখন তা কিছুটা বেড়েছে। ৩১ ওভারে গিয়ে এক শ পার করেছে জিম্বাবুয়ে। মাধেভেরে আর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রাজা এগিয়ে নিচ্ছেন দলকে।

রাজার অদ্ভুত আউট

হুট করে অদ্ভুত এক আউট হয়েছেন সিকান্দার রাজা। তানভীরের বলে পুল করতে গিয়েছিলেন রাজা। কিন্তু বলে গতি ছিল কম। টাইমিংটা ঠিকঠাক হয়নি তাই, রাজাও প্রায় মাটিতেই পড়ে গেছেন। শর্ট ফাইন লেগে সহজ ক্যাচ নিয়েছেন সাইফউদ্দিন। ২৫ বলে ১১ রান করেছেন রাজা। পরের ওভারেই শরীফুল ফিরিয়েছেন ৫ বলে ১ রান করা মাধানদেকে।

৩৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ে ১১২ রান করেছে।

ইভান্সের ফিফটি

শেষে এসে ঝড় তুলেছেন ইভান্স। আগের ম্যাচেও তাসকিনের শেষ ওভারে ২২ রান নিয়েছিলেন। আজও তিনি ফিফটি পেয়েছেন ৪১ বলে। তাঁর ব্যাটে দুই শর পথে আছে জিম্বাবুয়ে।

বাংলাদেশের সামনে ২০০ রানের লক্ষ্য

বাংলাদেশের সামনে ২০০ রানের লক্ষ্য দিয়েছে জিম্বাবুয়ে। শুরু থেকে নিয়মিত বিরতিতে তাদের উইকেট তুলেছেন বাংলাদেশের বোলাররা। তবু মাঝে দাঁড়িয়ে ৭৪ বলে ৭৫ রানের ইনিংসে রানের চাকাটা সচল রাখেন ওয়েসলি মাধেভেরে। এরপরও শুরু থেকে ধীরগতিতে রান তোলা জিম্বাবুয়ের সংগ্রহটা খুব বড় হওয়া কঠিনই ছিল। কিন্তু শেষদিকে ৪৩ বলে ৫০ রান করে তা নিশ্চিত করেছেন ইভান্স। বাংলাদেশের হয়ে ১০ ওভারে ৪৪ রান দিয়ে ৪ উইকেট পেয়েছেন শরীফুল ইসলাম।

বাংলাদেশের ৫০

৯ ওভারে ৫০ পেরিয়েছে বাংলাদেশ। দুই ওপেনারই টিকে আছেন এখনও। আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থতার পর এটাও এক ধরনের সাফল্য বাংলাদেশের জন্য। জিম্বাবুয়ের প্রথম সারির পেসারদের সবাই–ই অবশ্য আছেন বিশ্রামে!

জয়ের পথে...

ধীরে ধীরে জয়ের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান ফিফটি পেয়েছেন, সৌম্য সরকারও আছেন ওই পথে। ১৯ ওভার পেরোনোর আগেই এক শ পেরিয়েছে দলের রান। লক্ষ্য ২০০ রান।

সৌম্য আউট

প্রথম উইকেটটা হারিয়েছে বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার বোল্ড হয়েছেন চিবাঙ্গার বলে। ৮২ বলে ৬৯ রান করেছিলেন তিনি। বাংলাদেশ অবশ্য জয়ের পথেই আছে। জয়ের জন্য ২১ ওভারে আর ৪৮ রান লাগবে তাদের, হাতে আছে ৯ উইকেট।

৭ উইকেটে জিতল বাংলাদেশ

২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের কাছে শেষবার ধবলধোলাই হয়েছে বাংলাদেশ। এবার প্রথম দুই ম্যাচ হারের পর সেই শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে শেষ ওয়ানডেতে ৭ উইকেটে জিতে ধবলধোলাইয়ের হাত থেকে বেঁচেছে বাংলাদেশ।

আজ আগে ব্যাট করে মাধেভেরে ও ইভান্সের ফিফটিতে বাংলাদেশের সামনে ২০০ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। রান তাড়ায় উদ্বোধনী জুটিতে ১৫১ রান যোগ হওয়ার পরই বাংলাদেশের জয় অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল।

৮২ বলে ৬৯ রান করে সৌম্য আউট হওয়ার পর যা একটু রোমাঞ্চ ছিল তা তানজিদের সেঞ্চুরি নিয়ে। দলের যখন জয়ের জন্য ৩ রান দরকার, তখন তানজিদের সেঞ্চুরির জন্য ছক্কা দরকার ছিল। পুরো এক ওভার মেডেন দিয়ে তাঁকে স্ট্রাইকও দিয়েছিলেন নাজমুল। কিন্তু ছক্কা মারতে গিয়ে তানজিদ ১০১ বলে ৯৪ রান করে ক্যাচ তুলে দেন। হৃদয়ও আউট হন একই ওভারে। পরে নাজমুল হোসেন বাকি ৩ রান করে দলের জয় নিশ্চিত করেন, তখন তাঁর সঙ্গী ছিলেন নুরুল।

২–১ ব্যবধানে এই সিরিজটি জিতেছে জিম্বাবুয়ে। আগামী ১৫ জুলাই শুরু হবে তিন ম্যাচ টি–টুয়েন্টি সিরিজ।