আগের বলেই তাঁকে চার মেরে সেঞ্চুরি করেছেন নাজমুল হোসেন। কিন্তু ব্যাটে চুমু এঁকে দেওয়া সেই চেনা উদ্যাপন শেষে মোহাম্মদ আব্বাসের পরের বলেই আউট। দুই বলের ব্যবধানে ভিন্ন দুই দৃশ্যই দেখা গেছে কাল। সেটি কি পরিকল্পনা করেই?
মিরপুরে দিন শেষের সংবাদ সম্মেলনে উত্তরটা দিতে গিয়ে পাকিস্তানের পেসার আব্বাস বললেন, ‘এটাই ক্রিকেটের সৌন্দর্য!’
এটুকুতে না থেমে পরে আব্বাস ব্যাখ্যা করেছেন নাজমুলের বিপক্ষে সফল হওয়ার রহস্যও, ‘আমি এর আগে অনেক কষ্ট করেছি, তবে সে ভালো খেলেছে। এরপর পরিকল্পনা কিছুটা বদলালাম, ইনসুইং করতে চাইলাম, হয়েও গেল।’
সারা দিনে ২২ ওভার বোলিং করে আব্বাসের সাফল্য কেবল এই একটিই। মিরপুর টেস্টের প্রথম দিন শেষে তাঁর দলও সুবিধাজনক অবস্থায় নেই। ৫ বোলারের ৮৫ ওভারে তারা বাংলাদেশের ফেলতে পেরেছে কেবল ৪ উইকেট।
তাতেও অবশ্য হতাশ নন আব্বাস, ‘আমার মনে হয় না দিনটা হতাশার ছিল। আমরা অনেক পরিশ্রম করেছি। কিছু সময় আমরা ভালো বল করিনি, কখনো কখনো ভালো করেছি, কিছু ক্ষেত্রে আমরা দুর্ভাগাও ছিলাম।’
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, উইকেট তত সহজ ছিল না বলেই মনে করেন আব্বাস। তাহলে উইকেট কেমন ছিল? আব্বাসের ভাষায়, ‘খুব ভালো ক্রিকেট পিচ।’ সেঞ্চুরি করা নাজমুলকেই তাই কৃতিত্বটা দিয়েছেন তিনি, ‘আমরা সবকিছু করেছি, কিন্তু নাজমুলকে কৃতিত্ব দিতে হবে। সে খুব ভালো খেলেছে। আমি যখন বল করেছি, তখন কয়েকটা বল মিস হয়েছে, কিন্তু কৃতিত্বটা তাঁরই।’
প্রথম ইনিংসে ৪০০–৪৫০ রান করার লক্ষ্য বাংলাদেশের। তেমন হলে বড় একটা চ্যালেঞ্জের মুখেই পড়তে হবে পাকিস্তানকে। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বাবর আজম ম্যাচের আগের দিন চোটে পড়েছেন। একাদশে থাকা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে দুজন আবদুল্লাহ ফজল ও আজান আওয়াইসের আবার এটাই অভিষেক টেস্ট।
পাকিস্তানের ভাবনায় অবশ্য এখন বাংলাদেশকে অলআউট করাটাই অগ্রাধিকার পাচ্ছে, ‘আগামীকাল (আজ) সকালে যত দ্রুত সম্ভব তাদের অলআউট করতে চাই। কম রানে তাদের আটকে রেখে (প্রথম ইনিংসে) বড় একটা রান করতে হবে আমাদের।’