বাংলাদেশ: ৪১৩ ও ৭/০পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬
মোহাম্মদ রিজওয়ান আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুটি ঘটনা ঘটল। আগে থেকেই মেঘলা হয়ে থাকা আকাশ থেকে ঝরতে শুরু করল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, যে কারণে দ্বিতীয় ঘটনা—খেলাই বন্ধ হয়ে গেল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে।
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি এরপর তীব্র হলো। সেটা এতটাই যে দিনের খেলা আর হবে কি না, তা নিয়ে প্রেসবক্সে সংশয়। তবে ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে ঝলমলে রোদে সব সংশয় দূর। দিনের খেলার দৈর্ঘ্য ৪৫ মিনিটের মতো বাড়িয়ে আবারও মাঠে ফিরলেন ক্রিকেটাররা।
কিন্তু ফেরাটা সুখকর হয়নি পাকিস্তানের জন্য এবং তার জন্য তারা ‘দায়ী’ করতে পারে মেহেদী হাসান মিরাজকে। এই টেস্টের আগে মিরপুরের সবুজ উইকেটে আলোচনাটা পেসারদের নিয়েই বেশি হলেও শেষ পর্যন্ত আঅল কাজটা করে দিয়েছেন অফ স্পিনার মিরাজই। টেস্ট ক্রিকেটে ১৪তম বারের মতো ৫ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে লিড নেওয়ার আগেই থামিয়ে দেওয়ায় অবদানটা তাঁরই বেশি।
বৃষ্টি আসার ঠিক আগে তাইজুল ইসলামের বলে থিতু ব্যাটসম্যান রিজওয়ানের (৫৯) আউটে গতি হারানোর শঙ্কায় পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং। ষষ্ঠ উইকেটে সালমান আগার সঙ্গে তাঁর ১১৯ রানের জুটিতে শুরুর একটা বিপর্যয় ঠেকিয়েছিল শান মাসুদের দল। জুটিটা ভেঙে যাওয়ার পর শঙ্কা জাগা স্বাভাবিক—আবারও সে রকম কিছু হবে না তো!
তাসকিনের বলে শূন্য রানে আউট হয়েও ‘নো’ বলের কারণে বেঁচে যাওয়া সালমানের ততক্ষণে ফিফটি (৫৮) হয়ে যাওয়ায় কিছুটা ভরসা জোগাচ্ছিলেন তিনি। তবে শঙ্কাটাই সত্যি হয়েছে শেষ পর্যন্ত। দুই ঘণ্টার বৃষ্টিবিরতি শেষে খেলা শুরুর তৃতীয় ওভারে স্লিপে নাজমুলের ক্যাচ হয়ে সালমান পরিণত হন নাহিদ রানার একমাত্র শিকারে। এরপর দ্রুতই শেষ দেখে ফেলে পাকিস্তানের প্রথম ইনিংস।
মিরাজের নেতৃত্বে সারা দিনে বাংলাদেশের বোলাররা পাকিস্তানের ৯ উইকেট ফেলেছেন, তাসকিন আহমেদ উদ্যাপন করেছেন টেস্টে নিজের ৫০তম উইকেট এবং তৃতীয় পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান হিসেবে বাংলাদেশের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরি করা আজান আওয়াইসকেও থামিয়ে দেওয়া গেছে তিন অঙ্কে (১০৩) যাওয়ার পরপরই।
এসবের মধ্যেও দুই দফা বিপর্যয় এড়িয়ে প্রায় সারা দিন ব্যাটিং করেছে পাকিস্তান, কমিয়ে আনে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের ৪১৩ রানের সঙ্গে ব্যবধান। ৩৮৬ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশকে তারা লিড দেয় মাত্র ২৭ রানের।
দিনের শেষ বেলায় শুরু বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসটা ১.৫ ওভার হতেই আলোকস্বল্পতায় বর্ধিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে যায় খেলা। ততক্ষণে বিনা উইকেটে আরও ৭ রান যোগ হয়ে বাংলাদেশের লিড ৩৪ রানের। বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া সময় পোষাতে আজ চতুর্থ দিনের খেলা শুরু হবে ১৫ মিনিট এগিয়ে ৯টা ৪৫ মিনিটে।
দিনের প্রথম সেশনটা ছিল পুরোপুরিই বাংলাদেশের বোলারদের। আরও নির্দিষ্ট করে বললে তাসকিন আর মিরাজের। আগের দিনের ১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে শুরু করে লাঞ্চের আগে ৭২ রান তুলে পাকিস্তানকে হারাতে হয় ৪ উইকেট, যেগুলো ভাগ করে নেন তাসকিন আর মিরাজ।
ব্যক্তিগত ৮৫ রানে দিন শুরু করা ওপেনার আজান সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন নাহিদ রানার বলে এক রান নিয়ে। ১৫৩ বলের ইনিংসে ১৪টি চার পাকিস্তান দলে থাকা সাত বাঁহাতির মধ্যে এই এক বাঁহাতির।
তবে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির আনন্দের রেশ না কাটতেই তাঁকে ফিরতে হয় তাসকিনের বলে স্লিপে নাজমুলের ক্যাচ হয়ে। তাসকিন তাতে ছুঁয়ে ফেলেন টেস্টে ৫০ উইকেটের মাইলফলকও। বাংলাদেশের পেসারদের মধ্যে তাঁর আগে টেস্টে এই অর্জন ছিল শুধু মাশরাফি বিন মুর্তজা ও শাহাদাত হোসেনের। তবে দ্রুততম তাসকিনেরটাই, তাঁর ৫০ উইকেট এসেছে ১৮তম টেস্টে।
আজানের ১০৩ বাদ দিলেও পাকিস্তানের প্রথম ইনিংসে বড় হওয়ার সম্ভাবনা জাগানো ইনিংস ছিল আরও তিনটি। আরেক অভিষিক্ত বাঁহাতি আবদুল্লাহ ফজলের ৬০, সালমান আগার ৫৮ ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ৫৯।
কিন্তু বাংলাদেশের বোলিংয়ের সামনে বড় হতে পারেনি কোনোটিই। ইনিংসের প্রথম দুই জুটিতে শত রানের বেশি হওয়ার পর ২১০ থেকে ২৩০, এই ২০ রানের মধ্যেই পাকিস্তানকে হারাতে হয়েছে ওই ৪ উইকেট, যাতে গুঁড়িয়ে যায় তাদের মিডল অর্ডারটাই। রিজওয়ান–আগার জুটি অবশ্য ম্যাচে ফিরিয়েছিল পাকিস্তানকে।
কিন্তু বৃষ্টিতে খেলা বন্ধ হওয়ার ঠিক আগে রিজওয়ানকে হারানো পাকিস্তান বৃষ্টির পরও আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। পরের এক ঘণ্টায় মাত্র ৩৭ রানে পড়েছে শেষ ৪ উইকেট।
তারপরও এখন মিরপুর টেস্টটা আছে প্রায় সমতায়। শেষটা কী হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ের ওপর। দিন শেষে মিরাজের কথা থেকে এ নিয়ে বাংলাদেশ দলের চিন্তা সম্পর্কে একটা ধারণাও মিলেছে। বাংলাদেশের চোখ এখন অন্তত ৩০০ রানে।