টানা দ্বিতীয়বার এশিয়া কাপ সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারল বাংলাদেশ
টানা দ্বিতীয়বার এশিয়া কাপ সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হারল বাংলাদেশ

নারী এশিয়া কাপ

আবারও সেমিফাইনালে ভারতের কাছে হার বাংলাদেশের

টসের সময় দুই অধিনায়কের কথাতেই দুটি শব্দ ছিল ‘কমন’—নতুন ম্যাচ।

বাংলাদেশ অধিনায়ককে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছিল ২০১৮ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতকে হারানোর স্মৃতি। নিশ্চয়ই পুনরাবৃত্তি করতে চান প্রশ্নে নিগার বলেছেন, ‘এটা আরেকটা নতুন ম্যাচ।’ ভারত অধিনায়কের সামনে ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে দাপুটে সাফল্যের স্মৃতি। ২৪ ম্যাচের ২১টিই যে তাঁর দল জিতেছে, সেটিকে এক পাশে সরিয়ে হারমানপ্রীত কৌরেরও একই কথা, ‘এটা নতুন ম্যাচ।’

শেষ পর্যন্ত এই ‘নতুন ম্যাচ’টিতে আগের ভালো স্মৃতিটা ফিরিয়ে এনেছে ভারতই। দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গতকাল নারী এশিয়া কাপের প্রথম সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪০ রানে হেরেছে বাংলাদেশ। এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালের ওঠার লড়াইয়ে নিগারদের হারালেন হারমানপ্রীতরা।

বাংলাদেশ ম্যাচে পিছিয়ে পড়ে আসলে প্রথমার্ধেই। গ্রুপ পর্বে ইন্দোনেশিয়া, আরব আমিরাতের মতো দলকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েও ১৩০ রানের ঘর স্পর্শ করতে পারেনি বাংলাদেশ। সেই দলটির সামনেই আগে ব্যাট করে ভারত দেয় ১৫০ রানের লক্ষ্য।

দিলারা আক্তার–জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের উদ্বোধনী জুটিতে ২৬ রান এলেও বল খরচ হয়ে যায় ৩৩টি। রান তোলার এই ধীর গতি পরেও আর দ্রুততা পায়নি।

বাংলাদেশ দল পুরো ২০ ওভার ব্যাট করে ৭ উইকেটে করতে পারে ১০৯ রান। স্বর্ণা আক্তারের ১৮ বলে ২২ রানের অপরাজিত ইনিংসই দলের পক্ষে সর্বোচ্চ। দিলারা ২১ ও নিগার করেন ১৯ রান।

ধীর গতির ব্যাটিংয়ে লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে থামতে হয়েছে বাংলাদেশকে

এর আগে টস জিতে বেশ সাহসী সিদ্ধান্তই নেন নিগার। টুর্নামেন্টের আগের ১২ ম্যাচের ৮টিতে প্রথমে ব্যাট করা দল জিতলেও বাংলাদেশ অধিনায়ক বেছে নেন বোলিং। লক্ষ্য ছিল টুর্নামেন্টজুড়ে ভালো বোলিংয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভারতকে অল্প রানে আটকে রাখা।

কিন্তু ফিল্ডিংয়ের দুর্বলতায় সেই লক্ষ্য খেই হারায় শুরুতেই। ভারতের হয়ে ওপেনিংয়ে নামা শেফালি বর্মা ৪০ বলে খেলেন ৬৪ রানের ইনিংস। ম্যাচের শুরুতে দুবারসহ মোট তিনবার তাঁর ক্যাচ ফেলেছে বাংলাদেশ। ৬ রানে ক্যাচ ফেলেন ফাহিমা খাতুন, ১১ রানে নাহিদা আক্তার।

একের পর এক ক্যাচ মিসের কারণে উইকেট পাওয়ার এই খুশি স্থায়ী হতে দেয়নি

শুরুতেই দুই জীবন পেয়ে যাওয়া শেফালি ৩৫ বলে পূর্ণ করেন ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটি। এরপর আরও আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে সুলতানা খাতুনকে টানা তিন বাউন্ডারি মারার পর চতুর্থ বলে ক্যাচ হন বদলি নামা ফারজানা ইয়াসমিনের। তার আগে ৫৬ রানের মাথায় তাঁকে ‘নতুন জীবন’ দেন স্বর্ণা। এত সব সুযোগ নষ্টের ম্যাচে দিন শেষে বাংলাদেশের সঙ্গী হারের হতাশা।

বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার অবশ্য ক্যাচ মিসের পাশাপাশি বোলিং ভালো করতে না পারা আর ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে পর্যাপ্ত রান তুলতে না পারাও হারের কারণ বলে অভিহিত করেছেন ম্যাচশেষে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ভারত: ২০ ওভারে ১৪৯/৬ (শেফালি ৬৪, হারমানপ্রীত ২৪*; সুলতানা ২/৩০)।

বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৯/৭ (স্বর্ণা ২২, দিলারা ২১, নিগার ১৯; দীপ্তি ৩/২৬)।

ফল: ভারত ৪০ রানে জয়ী। ম্যাচসেরা: শেফালি বর্মা।