
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল বলে কথা! সামনে ইংল্যান্ড। এমন হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে ভারতের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম অভিষেক শর্মা। ব্যাটে রান নেই, সেই চেনা ধার নেই, আত্মবিশ্বাসও যেন তলানিতে। কিন্তু খোদ রিকি পন্টিং যখন অভয়বাণী শোনান, তখন অতি বড় সমালোচককেও দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়। সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়কের বিশ্বাস, সেমিফাইনালের জন্য নিজের ঝুলিতে বিশেষ কিছু জমিয়ে রেখেছেন ভারতের বাঁহাতি ওপেনার।
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অভিষেকের যাত্রাটা বলা যায় এক দুঃস্বপ্নের মতো। শুরুতেই টানা তিনটি ম্যাচে শূন্য রানে আউট। এরপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসে ফুড পয়জনিং। অসুস্থতার কারণে নামিবিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচটি তিনি খেলতেই পারলেন না। সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১৫ রান করে রানের খাতা খুললেও সেই ১২ বলের ইনিংসে ছিল কেবল ছটফটানি আর মরিয়া হয়ে ব্যাটে বল লাগানোর চেষ্টা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ৩০ বলে ৫৫ রান করে কিছুটা স্বস্তি দিলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে আবার সেই ১০ রানে আউট।
৬ ইনিংসে মোটে ৮০ রান, এর মধ্যে তিনবারই শূন্য। পরিসংখ্যানটা অভিষেকের নামের সঙ্গে বড্ড বেমানান। তবু পন্টিং হাল ছাড়ছেন না। আইসিসি রিভিউ-তে সাবেক এই অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক বলেন, ‘টুর্নামেন্ট শুরুর আগে আমার মনে হয়েছিল, অভিষেকই হবে এবারের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। সেটা হয়নি ঠিকই, কিন্তু আমি এখনো ওর ওপরই বাজি ধরছি।’
‘আমার মনে হচ্ছে, সেমিফাইনালের জন্য অভিষেক বিশেষ কিছু জমিয়ে রেখেছে।’রিকি পন্টিং
পন্টিং মনে করেন, ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ বেশ গভীর বলেই অভিষেকের অফ-ফর্ম খুব একটা গায়ে লাগছে না। তবে এই বাঁহাতি ওপেনারের যে ‘ইমপ্যাক্ট’ বা প্রভাব, সেটাই তাঁকে একজন পুরোদস্তুর ম্যাচ উইনার হিসেবে আলাদা করে রাখে। তবে পন্টিং এটাও বলেন, ‘ভারত চাইলেই অভিষেককে বসিয়ে রিংকু সিংকে খেলাতে পারে। তখন আপনার দলে আরও একজন ম্যাচ উইনার ঢুকে পড়বে। তবে আমি গত দিন ওদের টপ অর্ডার যেভাবে সাজানো হয়েছে, সেটা পছন্দ করেছি। বাঁহাতি-ডানহাতি ওপেনিং কম্বিনেশন আর তিনে ঈশান কিষান—সব মিলিয়ে ব্যাটিংটা বেশ ভয়ংকর।’
অভিষেকের উদ্দেশে পন্টিংয়ের পরামর্শ, ‘মাঝেমধ্যে যখন আপনার রান আসবে না, তখন প্রতিদিন নেটে গিয়ে দেড় ঘণ্টা ব্যাটিং করাটা খুব একটা কাজে দেয় না। বরং ব্যাট-প্যাড কিট ব্যাগে বন্দী করে কয়েকটা দিন দূরে থাকাই ভালো। এতে মানসিক ক্লান্তি দূর হয়। ব্যাটিংয়ের দক্ষতা তো আর কোথাও হারিয়ে যায়নি! অনুশীলনে শুধু ফিল্ডিং আর বোলিং করে নিজেকে ব্যাটিংয়ের জন্য ক্ষুধার্ত রাখাটাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠের লড়াইয়ে নামার আগে পন্টিংয়ের শেষ কথাটি হয়তো ভারতীয় সমর্থকদের মনে আশা জাগাবে, ‘আমার মনে হচ্ছে, সেমিফাইনালের জন্য অভিষেক বিশেষ কিছু জমিয়ে রেখেছে।’
এখন দেখার বিষয়, পন্টিংয়ের এই জহুরির চোখ শেষ পর্যন্ত ঠিক প্রমাণ হয় কি না!