পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম
পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম

দলে ৭ পরিবর্তন নিয়ে অধিনায়ক বাবর বললেন, পিসিবি ভালো ব্যাখ্যা করতে পারবে

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নটা বাবর আজমের কাছে আসতই। লর্ডস টেস্টের পর পাকিস্তান দলে যে বড় পরিবর্তন এসেছে, তাতে তাঁর কোনো ভূমিকা ছিল কি? এজবাস্টন টেস্টের আগে সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তান অধিনায়ক জানালেন, তাঁর সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

লর্ডসে হারের পর পিসিবি একসঙ্গে সাত ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দিয়ে দেশে ফিরিয়ে নেয়। প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের জায়গায় দলে নেওয়া হয় সাত নতুন ক্রিকেটারকে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের এখনো টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই।

দলের এই বড় পরিবর্তনের খবর বাবরও সবার মতোই পরে জেনেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন এভাবে, ‘এটা আমার জন্যও খবর ছিল। পরে জানতে পেরেছি। পিসিবি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই তারাই বিষয়টি ভালোভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে। পিসিবি নিশ্চয়ই কিছু চিন্তাভাবনা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটা তাদেরই জিজ্ঞাসা করা ভালো।’

পাকিস্তান ক্রিকেট কিছুদিন ধরে ইতিবাচক আলোচনায় নেই। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টানা দুই টেস্টে হেরেছে দলটি, মাঠে ন্যূনতম লড়াইটাও করতে পারেনি পাকিস্তান। তবে মাঠের বাজে পারফরম্যান্স ছাড়িয়ে গেছে মাঠের বাইরে পিসিবির কীর্তিকলাপে। এর মধ্য পিসিবি আবার আরেকটি তদন্তের ঘোষণাও দিয়েছে। গণমাধ্যমে আসা শৃঙ্খলা ও আচরণসংক্রান্ত প্রতিবেদন খতিয়ে দেখতে সেই তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে তারা। এ বিষয়েও নতুন কোনো তথ্য নেই বাবরের কাছে।

বরং নতুন টেস্ট কোচ মাইক হেসন ও অ্যাশলি নফকের মতোই বাবর এখন পুরো মনোযোগ দিতে চান এজবাস্টনের টেস্টে। আগের ঘটনা কিংবা সিরিজ শেষে কী হতে পারে, সেদিকে তাকাতে চান না তিনি।

বাবর নিজেও ফর্মে নেই, সর্বশেষ ইনিংসে আউট হয়েছেন বাজেভাবে

বাবর বলেছেন, ‘সিরিজ হেরে গেছি; কিন্তু আমাদের হারানোর আর কিছু নেই। আমাদের স্বাধীনভাবে খেলতে হবে এবং দল হিসেবে নিজেদের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আমরা কয়েক দিন অনুশীলন করেছি এবং নতুন ছেলেদের বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলেছি। যে তরুণ খেলোয়াড়ই দলে আসে, রোমাঞ্চিত থাকে। সেই রোমাঞ্চ আমরা দেখতে পাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি, ম্যাচেও সেটা দেখা যাবে।’

লর্ডসে ১৯৪ রানে হারের পর পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটির প্রধান আকিব জাভেদ দল নির্বাচনের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তবে প্রথম দুই টেস্টে পাকিস্তানের একাদশ বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছেন বাবর। এ নিয়ে বাবর বলেছেন, ‘দল হিসেবে আমরা তিন বিভাগেই ভালো খেলতে পারিনি। আর যখন ফল আসে না, তখন বাইরে থেকে অনেক সমালোচনা হবে; কিন্তু তখন আমরা যেটাকে ভালো মনে করেছি, সেটিই করেছি। পিচ ও কন্ডিশন যেভাবে বুঝেছি, সেই অনুযায়ী একাদশ বেছে নিয়েছি। তখন সেটাকেই সেরা সিদ্ধান্ত মনে হয়েছিল; কিন্তু আমরা প্রত্যাশিত ফল পাইনি।’

দলে এত নতুন মুখ থাকায় এজবাস্টনে পাকিস্তানের একাদশ কেমন হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে বাবর মনে করেন, দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদের ওপর পারফর্ম করার দায়িত্ব বেশি।

সেই দায়িত্বের মধ্যে বাবর নিজেও আছেন। লর্ডসে প্রথম ইনিংসে ৮ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ রান করেন তিনি। এর আগে হাতের চোটের কারণে হেডিংলিতে প্রথম টেস্ট খেলতে পারেননি। এজবাস্টনেও এই স্কোয়াডের অন্য সবার মতো তাঁর টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা নেই।

বাবর বলছেন, ‘আপনি যখন কোনো সিরিজ বা টুর্নামেন্ট খেলতে নামেন, তখন নিজের পারফরম্যান্সের ওপর বিশ্বাস রাখেন। একজন সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে আপনাকে বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সুযোগ কাজে লাগাতে হবে এবং কঠিন কন্ডিশনে পারফর্ম করতে হবে। এ কারণেই আমরা ক্রিকেট খেলি—কঠিন পরিস্থিতিতে পারফর্ম করতে এবং আধিপত্য দেখাতে। আমাদের আগের ব্যর্থতাগুলো ভুলে ভবিষ্যতে মনোযোগ দিতে হবে।’