
রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপের ম্যাচে সুপার ওভারে দুর্দান্ত বোলিংয়ে নজর কেড়েছিলেন রিপন মন্ডল। এবার বিপিএলে সিলেটে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের হয়েও গতকালের ম্যাচেও একই ঝলক দেখালেন এই পেসার। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে রিপন যখন শেষ ওভারটি করতে আসেন, তখন জয়ের জন্য রংপুরের দরকার ছিল মাত্র ৭ রান।
শেষ ওভারে প্রথম চার বলে একটি উইকেটসহ ৬ রান দেন রিপন। তাতে শেষ ২ বলে রংপুরের জয়ের সমীকরণ নেমে আসে মাত্র ১ রানে। ইয়াসির আলীর হাতে পঞ্চম বলে ক্যাচ তুলে দেন রংপুরের নুরুল হাসান। শেষ বলে মাহমুদউল্লাহকে ইয়র্কারে বড় শট খেলতে দেননি রিপন। দৌড়ে এক রান নিতে গিয়ে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। বিপিএলে ৪৭৩ ম্যাচে এটি তৃতীয় সুপার ওভারের ঘটনা।
সুপার ওভারেও রিপনের ওপর আস্থা রাখে রাজশাহী। দারুণ প্রতিদানও দেন রিপন। দুটি ওয়াইড দিলেও একটি বাউন্ডারিও হজম করেননি। রিপন নিজে নেন একটি উইকেট এবং আরেকটি রানআউটসহ মাত্র ৬ রান দেন তিনি। এই রান তাড়া করতে নেমে প্রথম তিন বলেই রাজশাহীকে জেতান তানজিদ হাসান।
এমন কঠিন পরিস্থিতিতে রিপনের প্রতি আস্থা রাখার কারণটা সংবাদ সম্মেলনে জানালেন রাজশাহীর কোচ হান্নান সরকার, ‘এই ধরনের চাপের মধ্যে বোলারদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করা খুব কঠিন হয়ে যায় এবং বাস্তবায়ন করাও খুব কঠিন হয়। রিপন যেহেতু সম্প্রতি এই ধরনের সময়ে সাফল্যের অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে, স্বাভাবিকভাবে সেটা তার পক্ষে কাজ করেছে এবং আমরাও খুব আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে রিপন পারবে।’
এ নিয়ে চতুর্থবার বিপিএলে খেলছেন রিপন। আগের তিনবার সেভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। এবার নিজের প্রথম ম্যাচেই ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন। কালও মূল ম্যাচে ২ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি সুপার ওভারে দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচসেরাও রিপন।
ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশ কয়েক বছর ধরে খেললেও তাঁর বদলে যাওয়ার শুরুটা সর্বশেষ টপ এন্ড টি–টোয়েন্টি থেকে। কিন্তু গত বছর বিপিএল আর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চোটের সঙ্গে লড়াই করেন। পরে হাই পারফরম্যান্স স্কোয়াডে কাজ করেন নিজের ফিটনেস নিয়ে। সেটিই রিপনকে সাফল্যের পথ তৈরি করে দিয়েছে।
রিপনের এই উন্নতি কাছ থেকে দেখা হান্নান বলেন, ‘কোচরা খুব ভালো কাজ করেছে, তাদের কৃতিত্ব দিতে হবে বা যে ট্রেনার ছিল, সবাই ভালো কাজ করেছে। মোটিভেশনাল যে আলোচনা, সেটা আমার সঙ্গে মাঝেমধ্যেই হয়ে থাকে। রিপন আমার মনে হয় যে এখন খুব ভালো একটা আত্মবিশ্বাসী খেলোয়াড় হিসেবে সময়ের সঙ্গে উন্নতি করেছে।’
রিপনের প্রস্তুতিই তাঁর সাফল্যের ভিত গড়ে দিয়েছে বলে মনে করেন হান্নান, ‘যখন নিজেকে পুরোপুরি প্রস্তুত করবেন সব পরিস্থিতি আর পরিবেশের জন্য, তখন কিন্তু আপনার আত্মবিশ্বাস সেখান থেকেই তৈরি হবে। বাস্তবায়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন প্রস্তুতিটা সেভাবে নেবেন এবং বাস্তবায়ন করতে পারবেন, স্বাভাবিকভাবেই সেটা সবার সামনে চলে আসবে।’