৬৩ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলেছেন রাজাউল্লাহ
৬৩ বলে ৮১ রানের ইনিংস খেলেছেন রাজাউল্লাহ

রাজাউল্লাহর ছক্কার রেকর্ড, অবশেষে পাকিস্তানের দিন

পাকিস্তান: ১৩৩ ও ৪৪৯। ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ৪৫৩।

পাকিস্তানের অষ্টম ব্যাটসম্যান হিসেবে মোহাম্মদ ইমরান যখন আউট হন, তখনও ইংল্যান্ডের চেয়ে দুই রানে পিছিয়ে পাকিস্তান।

দুই উইকেট, দুই টেল এন্ডার... ইনিংস ব্যবধানে জয় তখন পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হাতের নাগালে। আর ওই দুই রান যদি কোনোভাবে শোধ হয়েও যায়, কত দূর–ই–বা এগোতে পারবে পাকিস্তান?

ইমরানের আউটের ঘটনাটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের ৭৫তম ওভারের ঘটনা। এজবাস্টনে আজ পরের উইকেটটির জন্য ইংল্যান্ডকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৯৬তম ওভার পর্যন্ত। মাঝের ১২২ বলে ইংল্যান্ডের বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় বইয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের দুই টেল এন্ডার রাজাউল্লাহ ও মোহাম্মদ আব্বাস। বিশেষ করে রাজাউল্লাহ। অভিষেকের ছক্কার রেকর্ড গড়া ২১ বছর বয়সী পেসার মেরেছেন ৯টি ছক্কা, আব্বাসের সঙ্গে নবম উইকেটে গড়েছেন ১২১ রানের জুটি।

আর তাতে ইংল্যান্ডের সামনে চতুর্থ ইনিংসের জয়ের জন্য ১৩০ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান।

প্রথম দুই ম্যাচে হেরে যাওয়া পাকিস্তান আজ এজবাস্টন টেস্টের তৃতীয় দিন শুরু করেছিল ইনিংস হারের শঙ্কা নিয়ে। শান মাসুদ–বাবর আজমদের ব্যাটে সেই সম্ভাবনা কিছুটা মিইয়ে এলেও ম্যাচ তৃতীয় দিনে শেষ হওয়ার পথেই ছিল শেষ তৃতীয় সেশনের প্রথম আধা ঘণ্টা পর্যন্ত।

এর পরই গতিপথ বদলে যায় রাজা–আব্বাসের ব্যাটে। মাত্র ৮টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচের অভিজ্ঞতা নিয়ে টেস্ট খেলতে নেমে যাওয়া রাজার প্রথম স্কোরিং শটই ছিল বাউন্ডারি। এরপর জশ টাংকে মারা তাঁর ছক্কাতেই ইনিংস হার এড়ায় পাকিস্তান, শুরু হয় লিড।

দ্বিতীয় টেস্টের পর আচমকা ডাকে পাকিস্তান থেকে উড়ে আসা রাজা এরপর যা করেছেন, তা রীতিমতো বিস্ময়কর। তাঁকে দুর্দান্ত সঙ্গ দিয়েছেন আব্বাসও।

উইকেটের চারপাশে খেলা একের পর এক শটে রাজা ফিফটিতে পৌঁছে যান ৪৩ বলে, পাকিস্তানের পক্ষে অভিষেকে দ্রুততম। আব্বাসও তাল মেলাতে শুরু করলে লিড বেড়ে পঞ্চাশ ছাড়িয়ে এক শও পেরোয়। শতক পার হয় জুটিরও।

শেষ পর্যন্ত আব্বাস যখন টাংয়ের বলে পয়েন্টে ক্যাচ দেন, ততক্ষণে পাকিস্তানের রান ৪৩৯, লিড ১১৯ রানের। ৬৭ বল খেলা আব্বাস ২ ছক্কা আর ৫ চারে করে যান ৪২ রান, তাঁর ক্যারিয়ার সর্বোচ্চ।

রাজা অবশ্য চার নয়, বল উড়িয়ে সীমানা ছাড়ানোতেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। এক পর্যায়ে ছুঁয়ে ফেলেন অভিষেকে সবচেয়ে বেশি ৯ ছক্কার রেকর্ডও। ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক নয় ছক্কা মেরেছিলেন নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি। সেটি ছিল তাঁরই দেশের মাঠ নেপিয়ারে।

রাজা ১৮ বছর পর সাউদির সেই রেকর্ডে ভাগ বসালেন ইংল্যান্ডেরই মাঠে।

ছক্কায় রেকর্ড হয়েছে রাজা–আব্বাসের জুটিরও। দুজনের জুটিতে মারা ১০ ছক্কা শেষ তিন ব্যাটসম্যানের সম্মিলিতভাবে সর্বোচ্চ। ১৪৯ বছরের টেস্ট ইতিহাসে অন্য কোনো দলের শেষ তিন ব্যাটসম্যানের এত ছক্কা নেই।

আব্বাস ফেরার পর একটা ছক্কা মেরেছেন রাজা। শেষ পর্যন্ত ফিরেছেন দিনের শেষ ওভারে ড্যান লরেন্সের বল উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে স্টাম্পড হয়ে।

৪ চার আর ৯ ছক্কায় ৬৩ বলে ৮১ রান নিয়ে মাঠ ছাড়ার সময় সেঞ্চুরি মিসের হতাশা ছিল রাজার চোখেমুখে। তবে পাকিস্তানের ড্রেসিংরুম তো বটেই, এজবাস্টনের গ্যালারিও উঠে দাঁড়িয়ে সম্মান জানিয়েছে তাঁর বিনোদনের পসরা সাজানো আর ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়া ইনিংসকে।

ইংল্যান্ড রান তাড়ায় ব্যাট করতে নামবে চতুর্থ দিন।