ইংল্যান্ড দলের খেলোয়াড়দের জন্য রাতে কারফিউ বসিয়েছিল ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। নিয়মটা খুব বেশি দিনের পুরোনোও নয়। মাসখানেক আগে বেশ ঘটা করেই জানানো হয়েছিল তা। তবে নতুন করে টেস্ট দলের দায়িত্ব নিয়েই জো রুট বাতিল করে দিলেন সেই নিয়ম।
আগামী বুধবার হেডিংলিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু হচ্ছে ইংল্যান্ডের। ২০২২ সালে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর দ্বিতীয় দফায় রুট অধিনায়কত্ব করবেন এই সিরিজ দিয়েই। আর মাঠে নামার আগেই দিলেন কারফিউ বাতিলের খবর। স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট পডকাস্টে রুট বলেছেন, ‘কোনো কারফিউ থাকবে না। সত্যি বলতে, এটাকে এত বড় বিষয় বানানোর দরকার আছে বলে আমি মনে করি না।’
ইংল্যান্ড দলে কারফিউর প্রচলন আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছিল রুটের আগের অধিনায়কত্বেই। ২০১৭-১৮ অ্যাশেজের সময় পার্থের একটি নাইটক্লাবে জনি বেয়ারস্টোকে নিয়ে বিতর্কের পর ইসিবির তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস কারফিউ চালু করেন। তবে এটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে সাম্প্রতিক সময়ে।
গত জুনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লর্ডস টেস্ট জয়ের পর অধিনায়ক বেন স্টোকস ও গাস অ্যাটকিনসন মধ্যরাতে লন্ডনের চেলসির একটি নাইটক্লাবে ছিলেন। সেখানে অ্যাটকিনসন হামলার শিকারও হন। এ ঘটনায় দলের মধ্যে শৃঙ্খলার অভাবের আলোচনা উঠলে স্টোকসের দাবি ছিল, ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও কারফিউ কার্যকর ছিল—এমনটা তিনি জানতেন না। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তির পর ক্রিকেটবিষয়ক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রব কি কারফিউর নিয়ম আরও স্পষ্ট করেন।
ইংল্যান্ড স্কোয়াডের কোনো সদস্য রাত ১০টার পর দলীয় হোটেলের বাইরে থাকতে চাইলে টিম ম্যানেজমেন্টকে জানানো বাধ্যতামূলক করা হয়। আন্তর্জাতিক ম্যাচের আগের দিন, ম্যাচ চলাকালে ও ম্যাচের পরদিন মদ্যপানেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
তবে স্টোকসের জায়গায় অধিনায়ক রুট মনে করেন, মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের বড় মানুষের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে, ‘আপনি যদি চান মাঠে খেলোয়াড়েরা দায়িত্ব নিক, তাহলে মাঠের বাইরেও তাদের বড়দের মতো আচরণ করতে দিতে হবে এবং ভালো, দৃঢ় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।’
তবে কারফিউ উঠে গেছে মানেই যা খুশি তা করার লাইসেন্স নয়। নতুন টেস্ট কোচ স্টিভেন ফ্লেমিংকে নিয়ে রুটের পরিকল্পনা, দলই নিজের সংস্কৃতি ও শৃঙ্খলা সামলাবে। খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, ‘বড়দের মতো আচরণ করুন। নিজের খেয়াল রাখুন, একে অন্যের খেয়াল রাখুন। কখন জয় উদ্যাপনের সময়, কখন পরিমিতভাবে বিয়ার খাওয়া যায়, সেটা বুঝুন। তবে মনে রাখবেন, আপনি ইংল্যান্ডের হয়ে খেলছেন।’
রুটের বক্তব্যের পর ইসিবিও এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, কারফিউ তুলে নেওয়া হয়েছে। নিয়মটি শুধু টেস্ট দল নয়, সাদা বলের দলগুলোর ক্ষেত্রেও আর কার্যকর থাকবে না। তবে পাকিস্তান সিরিজের আগে খেলোয়াড়দের দলের প্রত্যাশা ও তাঁদের দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে ইসিবি।