
জিলংয়ে আজ দিনের দ্বিতীয় ম্যাচটি শুরুর আগে প্রথম রাউন্ডের ‘এ’ গ্রুপে শ্রীলঙ্কার অবস্থান ছিল তলানিতে। তিন সহযোগী দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত, নামিবিয়া ও নেদারল্যান্ডস টেস্ট খেলুড়ে দেশটির ওপরে। এই গ্রুপ থেকে প্রথম ম্যাচে নামিবিয়ার কাছে হেরে স্বাভাবিক হিসেব জটিল করে ফেলেছিল শ্রীলঙ্কা। আজ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আরব আমিরাতকে ৭৯ রানে হারিয়ে সুপার টুয়েলভে খেলার আশাও জিইয়ে রাখল দাসুন শানাকার দল।
টস জিতে শ্রীলঙ্কাকে আগে ব্যাটিংয়ে পাঠান আরব আমিরাত অধিনায়ক সি পি রিজওয়ান। টপ অর্ডারে প্রথম তিন ব্যাটসম্যান ছাড়া শ্রীলঙ্কার কেউ দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি। ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা এক প্রান্তে ১৯.৫ ওভার পর্যন্ত ব্যাট করে গেছেন বলে রক্ষা। নইলে নামিবিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের মতো অল্প রানে অলআউট হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ত শ্রীলঙ্কা।
এক প্রান্তে নিশাঙ্কার ৬০ বলে ৭৪ রানের ইনিংস লড়াকু সংগ্রহ এনে দেয় শানাকার দলকে। ২ ছক্কা ও ৬ চারে সাজানো এই ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটে ১৫২ রানে থেমেছে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ওপেনার কুশল মেন্ডিস ১৮ ও তিনে নামা ধনঞ্জয়া ডি সিলভা ৩৩ রানে আউট হন।
শ্রীলঙ্কাকে ইনিংসের মাঝে বিপদে ফেলেছিলেন আমিরাতের লেগ স্পিনার কার্তিক মেইয়াপ্পন। ১৫তম ওভারে এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নেন। চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ বলে যথাক্রমে ভানুকা রাজাপক্ষে, চারিত আসালঙ্কা ও দাসুন শানাকে তুলে নেন এই বোলার। ৩ উইকেটে ১১৭ থেকে ৫ উইকেটে ১১৭ রানে পরিণত হয় শ্রীলঙ্কা। ৩ রানের মধ্যে ওয়ানিন্দু হারারাঙ্গাকেও হারায় শ্রীলঙ্কা।
৭ম উইকেটে করুণারত্নের সঙ্গে নিশাঙ্কা ২৩ বলে ৩০ রানের জুটি না গড়লে দেড় শ রানও পার হয় না উপমহাদেশের দলটির। তবে বোলারদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে আমিরাতকে ১৭.১ ওভারে মাত্র ৭৩ রানে অলআউট করায় ব্যাটিংয়ে ছোট-খাটো ভুল নিশ্চয়ই মনে রাখবেন না লঙ্কান অধিনায়ক শানাকা।
আমিরাত ১৫৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে এবার বিশ্বকাপে সহযোগী দেশগুলো যেমন খেলছে ঠিক তার বিপরীত ব্যাটিং করেছে। এবার নেদারল্যান্ডস, নামিবিয়ার মতো সহযোগী দেশগুলো ব্যাটিংয়ে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলছে। যদিও প্রথম ওভারে লঙ্কান পেসার প্রমোদ মাদুশানকে দুই চার মেরে মোট ১০ রান তুলে ভালোই শুরু করেছিলেন আমিরাতের দুই ওপেনার চিরাগ সুরি ও মুহাম্মদ ওয়াসিম।
পরের ওভারেও কোনো উইকেট হারায়নি আমিরাত। কিন্তু তৃতীয় ওভারে পেসার দুষ্মন্ত চামিরা ওয়াসিম ও আরিয়ান লাকরাকে তুলে নেওয়ার পর আমিরাতের ইনিংস সেই যে মুখ থুবড়ে পড়ল, আর উঠে দাঁড়াতে পারেনি।
তৃতীয় ওভার শেষে ২ উইকেটে ১৭ রান তোলা আমিরাত পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারের মধ্যে আরও ২ উইকেট হারায়। ৬ ওভার শেষে ৪ উইকেটে ২৩ রান তোলা আমিরাত আসলে তখনই ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে। বাকিটা যেন স্রেফ খেলার জন্য খেলা, আর তাই ১০ ওভার শেষে আমিরাতের স্কোর দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৩৬।
হাসারাঙ্গা ও শানাকাও এর মধ্যে উইকেটশিকারির তালিকায় নাম লেখান। সাতে নামা আয়ান আফজাল ১৯ রান না করলে আমিরাত আরও কম রানে অলআউট হতে পারত। ১৪ রান কেরন চিরাগ সুরি।
এই জয়ে ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে নিজেদের গ্রুপে তৃতীয়স্থানে উঠে এল শ্রীলঙ্কা (+০.৬০০)। নিজেদের শেষ ম্যাচটি জিতলেই সুপার টুয়েলভে উঠে যাবে শানাকার দল। ২ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে নেদারল্যান্ডস (+০.১৪৯)। ২ ম্যাচে ২ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নামিবিয়া (+১.২৭৭)। ২ ম্যাচে ০ পয়েন্ট নিয়ে তলানিতে থাকা আমিরাতের রানরেট –২.২০৮।