নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তাওহিদ হৃদয় অবশ্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছেন
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে তাওহিদ হৃদয় অবশ্য শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করে গেছেন

ডট বলের গোলকধাঁধা আর মিডল অর্ডারের সেই পুরোনো অসুখ

নিউজিল্যান্ডের ইনিংস শেষে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়াল ২৪৮। মিরপুরে গতকালের উইকেটে সেটাকে ‘পাহাড়’ বলা না গেলেও খাড়া ঢাল তো বলাই যায়। তবে সেই ঢাল বেয়ে বাংলাদেশ শুরুতে তরতরিয়েই উঠছিল। ২৫ ওভারে ৩ উইকেটে ১২৪ রান—হিসাব বলছে, জয়ের জন্য ওভারপ্রতি ৫ রানের মতো দরকার। গ্যালারিতে তখন উৎসবের আবহ, ম্যাচটা মুঠোয় পুরে ফেলার সুবাস। কিন্তু কে জানত, ওই সুখস্মৃতিটুকুই হয়ে থাকবে শেষ বিকেলে ঝিলিক দেওয়া শেষ আলো!

এরপর যা হলো, তাকে ছন্দপতন বললে কম বলা হয়। বলা ভালো, নিউজিল্যান্ডের বোলারদের বিষাক্ত স্পেলে বাংলাদেশ দল যেন এক সম্মোহনী ঘুমে তলিয়ে গেল। টানা ৯০টি বল, অথচ একটা বাউন্ডারির দেখাও নেই!

কাজটা কঠিন হয়ে যায় সেখানেই। শুধু এটুকুই নয়, পুরো ইনিংসে ২৯১ বল খেলে ১৬৬টিই ডট দিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। অর্থাৎ ইনিংসের অর্ধেকের বেশি বলে কোনো রানই নিতে পারেননি তাঁরা।

ডট দেওয়া যে এখন বাংলাদেশের জন্য বড় চিন্তার জায়গা হয়ে উঠছে তা ম্যাচ শেষে স্বীকার করেছেন সাইফ হাসানও, ‘উন্নতি করার করার জায়গা অবশ্যই আছে (দৌড়ে রান নেওয়ার ক্ষেত্রে)। কিন্তু উইকেট একটু চ্যালেঞ্জিং ছিল (গতকাল)। আমরা যদি (এই জায়গায়) আরেকটু্ উন্নতি করতে পারি, অবশ্যই আমাদের দলের জন্য ভালো হবে।’
তা তো হবেই। তবে এই ‘উন্নতির’ অপেক্ষাটা যে বেশ দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে।

উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংসটা বড় করতে পারেননি লিটন দাস, ফিরেছেন ৪৬ রানে

ওয়ানডেতে রান তাড়া করতে হলে মিডল অর্ডারই দলের মেরুদণ্ড। চাপের মুহূর্তে রানের গতি ধরে রাখা, সামনের লক্ষ্যটা মাথায় রেখে খেলা, এটাই তাদের কাজ। কিন্তু বাংলাদেশের মিডল অর্ডার এখন পরিণত হয়েছে দলের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গায়।

পরিসংখ্যান কথা বলছে নিষ্ঠুরভাবে। গত এক বছরে ১১ ওয়ানডেতে মিডল অর্ডারে নামা ১৩ ব্যাটসম্যানের একজনও পাননি সেঞ্চুরি। সম্মিলিত গড় মাত্র ২৩.৪৪। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে তো নয়ই, এই সময়ে ওয়ানডে খেলা সব দলের তুলনায় বাংলাদেশের নিচে আছে কেবল কানাডা।

এই বিভাগে একমাত্র ভরসার জায়গা আপাতত তাওহিদ হৃদয়। সেঞ্চুরি না পেলেও গত এক বছরে ১০ ইনিংসে ব্যাট করেছেন ৪১.৩৩ গড়ে। মিডল অর্ডারে বাংলাদেশের সাতটি হাফ সেঞ্চুরির পাঁচটিই তাঁর।

বাকিরা? তাঁদের গল্প অন্য রকম।

আফিফও থিতু হয়ে ইনিংস বড় করতে পারেননি

মিডল অর্ডারের ঘাটতি মেটাতে পাকিস্তান সিরিজে আফিফ হোসেনকে ফেরানো হয়েছিল দলে। খারাপ ফর্মে বাদ পড়া এই ব্যাটসম্যান বিসিএলে সেঞ্চুরি করে ফিরেছিলেন জাতীয় দলে। তাই অনেক প্রত্যাশাও ছিল তাঁকে ঘিরে। কিন্তু জাতীয় দলের জার্সিতে তাঁর অসুখটা পুরোনো। পাকিস্তানের বিপক্ষে শেষ দুই ম্যাচে করেছেন ১৪ ও ৫। গতকাল নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৯ বল খেলে ২৭ রান, যখন মাঝের ওভারে যখন রানের গতি বাড়ানো ছিল সবচেয়ে জরুরি।

২০২২ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপরাজিত ৮৫ রানের পর বাংলাদেশের হয়ে ১৭ ইনিংসে একটিও হাফ সেঞ্চুরি নেই আফিফের। অন্তত ১০ ম্যাচ খেলেছেন, এমন ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বনিম্ন গড়টাও তাঁর।

আফিফকে সম্ভাব্য সমাধান ভেবেই ফেরানো হয়েছিল দলে। তিনিও যখন ব্যর্থ, প্রশ্নটা তখন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসে—বাংলাদেশের মিডল অর্ডারের এই দুর্ভোগের শেষ কোথায়?