ইংল্যান্ড সফর যে পাকিস্তান ক্রিকেটকে টালমাটাল করে দিল! মাঠ ও মাঠের বাইরে নানা বিতর্ক এই দলটার স্থায়ী সঙ্গী হয়ে উঠেছে।
এবার পাকিস্তানের দুই ক্রিকেটার মোহাম্মদ রিজওয়ান ও ইমাম-উল-হককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দেশটির ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইমস ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ)। লাহোরে গতকাল বৃহস্পতিবার তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। খবরটি জানিয়েছে ক্রিকইনফো।
লর্ডসে দ্বিতীয় টেস্টে হারের পর পাকিস্তান দল থেকে বাদ পড়া সাত ক্রিকেটারের মধ্যে ছিলেন রিজওয়ান ও ইমাম। দুজনকেই এনসিসিআইএর পক্ষ থেকে তলব করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অন্তত একজন কয়েক ঘণ্টা সেখানে ছিলেন বলে জানিয়েছে ক্রিকইনফো।
তবে কী কারণে তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি। এটি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) নিজস্ব তদন্তের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সেটিও জানা যায়নি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে পিসিবি জানিয়েছিল, শৃঙ্খলা ও আচরণ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন খতিয়ে দেখতে তারা অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করেছে। তবে তখন কোনো ক্রিকেটারের নাম জানানো হয়নি। পিসিবি বলেছিল, তাদের নিয়মকানুন মেনেই এই তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে।
ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, অন্তত একজন ক্রিকেটারকে এনসিসিআইএ একটি প্রশ্নপত্র দিয়েছে। সেটির উত্তর দিয়ে আগামী সপ্তাহে সংস্থাটিতে জমা দিতে বলা হয়েছে।
লর্ডসে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে পাকিস্তান ১৯৪ রানে হেরে যায়। এর আগে হেডিংলিতে সিরিজের প্রথম টেস্টে তারা ইনিংস ও ১০৩ রানে হারে। লর্ডস টেস্ট শেষ হওয়ার পর সাত ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। তাঁদের সঙ্গে প্রধান কোচ সরফরাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমর গুলকেও সরিয়ে দেওয়া হয়।
তাঁদের জায়গায় সাতজন ক্রিকেটারকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনের তখনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়নি। সেই পাঁচজনের মধ্যে এজবাস্টনে শেষ টেস্টে অভিষেক হয়েছে তিনজনের।
ইংল্যান্ড সফরে ব্যাট হাতে রিজওয়ানের সময়টা ভালো যাচ্ছিল না। প্রথম দুই টেস্টে চার ইনিংসে করেছেন ১২, ৪১, ৭ ও ১ রান। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই টেস্টেও তাঁর ব্যাটে বড় রান ছিল না। তবে এর মধ্যেও উইকেটের পেছনে পারফর্ম করেছেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগপর্যন্ত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে পাকিস্তানের টেস্টে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকও ছিলেন রিজওয়ান।
ইমামের ঘটনা অন্য রকম। লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে তাঁর বাঁ পায়ের মাংশপেশিতে গ্রেড ১ চোট ধরা পড়ে। এরপর পাকিস্তানের দুই ইনিংসের কোনোটিতেই তিনি মাঠে নামতে পারেননি। টেস্টের শেষ দিন সকালে ম্যাচের আগে অনুশীলনে নেমে হালকা নক করার চেষ্টা করেছিলেন ইমাম। কিন্তু শারীরিকভাবে তিনি সমস্যায় পড়েন।
এ নিয়ে প্রকাশ্যেই প্রশ্ন তুলেছিলেন পিসিবির প্রধান নির্বাচক ও হাই পারফরম্যান্স বিভাগের পরিচালক আকিব জাভেদ। জানিয়েছিলেন এ নিয়ে তদন্ত হবে।
দল থেকে এত ক্রিকেটার বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যায় পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি শুধু বাজে পারফরম্যান্সের কথা বলেননি। নাকভি জানিয়েছিলেন, আরও কিছু বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, ‘এর কারণ খুঁজে বের করতে আমরা আলোচনা করেছি। এর মধ্যে পারফরম্যান্সের বাইরের বিষয়ও রয়েছে। আমরা বিষয়টির শেষ পর্যন্ত যাব।’
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ড সফরের দলে রিজওয়ান ও ইমামের জায়গা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। লর্ডস টেস্টের পর নির্বাচকদের কাছে এ বিষয়ে নোটিশ পাঠায় পিসিবি। দুজনকে দলে নেওয়ার কারণ এবং কী প্রক্রিয়ায় তাঁদের নির্বাচন করা হয়েছিল, তা লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়।
নোটিশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। এই নোটিশের পর নির্বাচক প্যানেল থেকে পদত্যাগ করেন মিসবাহ-উল-হক। এরপর রিজওয়ান ও ইমামকে এনসিসিআইএর জিজ্ঞাসাবাদে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইংল্যান্ড সফরের পুরো ঘটনাপ্রবাহ।