
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৭৬/৮। দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬.১ ওভারে ১৭৭/১। ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে জয়ী।
সবই বৃথা!
জেসন হোল্ডার আর রোমারিও শেফার্ড একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে কথাটা বলতেই পারেন ম্যাচের পর। সবকিছু সংখ্যায় বোঝানো মুশকিল, তবু আজ তাদের কষ্টটা টের পাওয়ার কথা তা দেখেও। ইনিংসের যখন ১০.২ ওভার, তখন ৭ উইকেট হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান মাত্র ৮৩।
সেখান থেকে ইনিংসটা ধ্বংসস্তুপ হয়ে যাওয়াই হতো স্বাভাবিক। কিন্তু শেফার্ড–হোল্ডার জুটিতেই ঘুরে দাঁড়িয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ করে ১৭৬ রান। তখন আবার মনে হচ্ছিল রানটা অন্তত ‘ভালো’ লড়াইয়ের জন্য যথেষ্ট হবে। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার তিন ব্যাটসম্যানই সেটাকে কম বানিয়ে ফেলেছেন। ১৬.১ ওভারে মাত্র ১ উইকেট হারিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকা পৌঁছে গেছে লক্ষ্যে।
আহমেদাবাদে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারেই ৬৯ রান তুলে ফেলেন দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনার কুইন্টন ডি কক ও এইডেন মার্করাম। অষ্টম ওভারের শেষ বলে ডি কিক যখন আউট হন, ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে ৯৫ রান। আর এক রান হলে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকার উদ্বোধনী জুটির সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড হয়ে যেত।
কিন্তু ওটুকু পর্যন্তই। ম্যাচে আর কোনো সুযোগই পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মার্করামের সঙ্গে রায়ান রিকেলটনের ৪৯ বলে ৮২ রানের জুটিতে সহজ জয়ে সেমিফাইনালটা প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকার। রাতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জিতে গেলে এই ‘প্রায়’ শব্দটাও আর থাকবে না।
টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের শুরুটা ছিল ভালোই। কেশব মহারাজের প্রথম ওভার থেকেই ওঠে ১৭ রান। যা দলটির জন্য বিশ্বকাপের প্রথম ওভারে যৌথভাবে সর্বোচ্চ।
অথচ এমন ভালো শুরুর পরও পাওয়ার প্লে শেষ হওয়ার আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। উইকেটের পতন থামেনি এরপরও। তবে সপ্তম উইকেট হারানোর পরই শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর। হোল্ডার–শেফার্ডের ৫৭ বলের ওই জুটিতে ছক্কাই আসে ১১টি। রীতিমতো ঝড় বইয়ে দেওয়া ৮৭ রানের জুটিই শেষ পর্যন্ত রানটা নিয়ে গিয়েছিল ভালো জায়গায়।
এর ফাঁকে কিছু রেকর্ডও গড়ে ফেলেন তারা। ১০০ রানের আগেই ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান এটি। বাংলাদেশের পেসার তানজিম হাসানের পর টেস্ট খেলুড়ে দেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টি–টুয়েন্টিতে ৯ নম্বরে নেমে রোমারিও শেফার্ড পান ফিফটি।
কিন্তু ডি কক–মার্করাম আর রিকেলটন এমন ব্যাটিং করেছেন যে, সবই গেছে বৃথা। সেমিফাইনালে যেতে হলে শেষ ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে জেতার আর কোনো বিকল্প নেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের সামনে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ১৭৬/৮ (শেফার্ড ৫২*, হোল্ডার ৪৯; এনগিডি ৩/৩০, বশ ২/৩১) দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৬.১ ওভারে ১৭৭/১ (মার্করাম ৮২*, ডি কক ৪৭; চেজ ১/৪৬) ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৯ উইকেটে জয়ী ম্যাচসেরা: এইডেন মার্করাম