
গ্ল্যামার, কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা আর চার-ছক্কার ফুলঝুরি—ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ বা আইপিএল মানেই তো এক মায়াবী দুনিয়া, যাকে দেখে বিশ্বের আনাচকানাচে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের জোয়ার এসেছে। কিন্তু সেই ঝকঝকে আবরণের নিচে কি সবটাই ঠিকঠাক? বিশ্ব ক্রিকেটারদের সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (ডব্লিউসিএ) বৃহস্পতিবার যে রিপোর্ট কার্ড পেশ করেছে, তাতে কিন্তু খটকা রয়েই গেল। টাকার অঙ্কে আইপিএল ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও খেলোয়াড়দের কল্যাণ আর অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে ভারতের আইপিএলকে টপকে সেরা অবস্থানে ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’।
ডব্লিউসিএর র্যাঙ্কিংয়ে ১০টি লিগের মধ্যে আইপিএল আছে তিন নম্বরে (স্কোর ৬২.৬)। ৭৫.২ স্কোর নিয়ে সবার ওপরে ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ এবং ৬৮ স্কোর নিয়ে দুইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ‘এসএ২০’।
রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, আইপিএল গড় পারিশ্রমিক এবং অর্থ পরিশোধের বিশ্বস্ততায় ১০০–তে ১০০ পেলেও পিছিয়ে পড়েছে ‘খেলোয়াড়দের সংগঠিত হওয়ার অধিকার’ এবং ‘বিরোধ মীমাংসা’—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায়। সহজ করে বললে, টাকা পেলেও কোনো সমস্যা হলে বোর্ড বা ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে কথা বলার বা আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার পথটা ভারতের এই কোটি টাকার লিগে বড্ড কণ্টকাকীর্ণ।
ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মোফাট এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ঘরোয়া লিগের সংখ্যা বেড়েছে, যা ক্রিকেটের জন্য দারুণ ইতিবাচক। তবে এটাকে আরও ভালো করার সুযোগ আছে।’ তাঁর কথায়, ‘আমরা চাই অনুমোদিত সব লিগ সফল হোক। সেখানে যুক্ত মানুষদের জন্য ন্যায্য সুরক্ষা ও মান নিশ্চিত হোক।’
আইপিএল নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়া নিয়ে বেশ জলঘোলা হয়েছিল। এ ছাড়া ভারতীয় চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের বিদেশের কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে না দেওয়ার যে কঠোর নীতি, তা নিয়েও ক্রিকেট বিশ্বে সমালোচনা কম নয়।
এই মূল্যায়ন নিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেও তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেননি। হয়তো তিনি ব্যস্ত ২৮ মার্চের মহাযজ্ঞ নিয়ে। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের লড়াই দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে আইপিএলের ১৯তম আসর।