অশ্বিনের ফিটনেস নিয়ে এক সময় কড়া সমালোচনা করেছিলেন মাঞ্জরেকার।
অশ্বিনের ফিটনেস নিয়ে এক সময় কড়া সমালোচনা করেছিলেন মাঞ্জরেকার।

মাঞ্জরেকারের যে সমালোচনা বদলে দিয়েছিল অশ্বিনকে

সেটি ছিল অস্ট্রেলিয়ায় তাঁর প্রথম সফর। তিনটা টেস্ট খেলেছিলেন ২০১১ সালের সেই সফরে। ১৬৮ ওভার বল করে নিয়েছিলেন মাত্র ৯ উইকেট। সেই সফর শেষে ফেরার পথে বিমানে বসে পত্রিকায় ছাপা হওয়া একটা লেখা পড়লেন তিনি। তাঁকে নিয়েই সমালোচনামূলক লেখা। প্রতিটি শব্দ যেন সুচের মতো বিঁধছিল সেই তরুণ স্পিনারের মনে। তাঁর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। তোলা হয়েছে ফিল্ডিং ও বোলিং অ্যাকশনের সময় ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্নও।

তরুণের নাম রবিচন্দ্রন অশ্বিন। আর সেই সমালোচনামূলক লেখাটি ছিল ভারতের সাবেক ক্রিকেটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের। সব সমালোচনা ধ্বংস ডেকে আনে না। কিছু সমালোচনা পথ দেখায়। অশ্বিনকেও দেখিয়েছিল। সম্প্রতি জিও হটস্টারের ‘চিকি সিঙ্গেলস’ অনুষ্ঠানে সেই গল্প শোনালেন অশ্বিন।

মাঞ্জরেকারের সেই লেখা পড়ে অশ্বিনের ভেতরটা জ্বলে উঠেছিল। চটেছিলেন, কষ্ট পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ক্ষোভকে নিজের ক্ষতির কারণ হতে দেননি। উল্টো নিজেকে চেনার কঠিন আয়না বানিয়েছিলেন সেই লেখাকে।

ভারতের সাবেক স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন

২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানো অশ্বিন স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘আমি একবার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারকে মেসেজ করেছিলাম। আমার প্রথম অস্ট্রেলিয়া সফরের পর তিনি লম্বা একটি কলাম লিখেছিলেন। দেশে ফেরার পথে আমি পুরোটাই পড়ি। পড়ার পর বেশ রাগ হয়েছিল, খারাপও লেগেছিল খুব। তবে বিষয়টিকে সেভাবে মাথায় পুষে রাখিনি। তাঁর সঙ্গে খুব একটা কথাও বলতাম না। পরের চার বছর আমি ফিটনেস নিয়ে তুমুল খাটুনি খেটেছিলাম। কারণ, আমি জন্মগতভাবে খুব ক্ষিপ্র অ্যাথলেট ছিলাম না।’


সেই পরিশ্রমের ফল পেয়েছিলেন অশ্বিন। এরপর নিজেকে গড়ে তোলার প্রক্রিয়ার কথা জানিয়ে এই তারকা স্পিনার আরও বলেছেন, ‘পরের চার বছর আমি প্রচুর পরিশ্রম করি। এরপর ২০১৫ সালে তিনি আরেকটি নিবন্ধ লেখেন, যেখানে বলেন, অশ্বিন এখন চমৎকার বোলিং করছে। তখন আমি তাঁর নম্বর খুঁজে বের করি এবং একটি বার্তা পাঠাই। বলি, আপনার সেই নিবন্ধটি আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছে। আমি সব সময় দেখি সমালোচনা থেকে শেখার কিছু আছে কি না।’

রবিচন্দ্রন অশ্বিন

সমালোচনা থেকে শেখার এই বিরল ক্ষমতা খুব কম মানুষেরই থাকে। অশ্বিনের সেটা ছিল বলেই ২০২৪ সালে যখন তিনি অবসর নেন, তখন তাঁর নামের পাশে ১০৬ টেস্টে ৫৩৭টি উইকেট। ভারতের টেস্ট ইতিহাসে অনিল কুম্বলের (৬১৯ উইকেট) পর তিনিই দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক।