
টসে জিতেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা। আগে বোলিং করবে বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ২৪ টি–টুয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়ে তিন ম্যাচে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। এর দুটিতেই ১১০ এর নিচে ভারতকে আটকে রাখতে পেরেছিল তারা। আজ কি তেমন কিছু হবে?
ম্যাচ শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। এই সময়ে বাংলাদেশ–ভারত ম্যাচের প্রিভিউটা পড়ে নিতে পারেন।
ভারত: ২ ওভারে ৯/১
শেফালি ভার্মার ক্যাচ ছেড়ে দিলেন ফাহিমা খাতুন। সুলতানার বলে তুলে মেরেছিলেন শেফালি। লং অনে দাঁড়িয়েছিলেন ফাহিমা। অনেকটুকু উড়ে এসে ফাহিমার হাতে গেলেও বলটা জমাতে পারেননি। তবে উইকেট পেতে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। স্বর্ণা আক্তার ক্যাচ ধরে ফিরিয়েছেন স্মৃতি মান্ধানাকে।
ভারত: ৩ ওভারে ২০/১
দুই ওভারে দুবার বেঁচেছেন শেফালি। এবার মারুফার বলে ক্যাচ ছেড়ে দিয়েছেন নাহিদা আক্তার। মিড অনের উপর দিয়ে তুলে মারতে গিয়েও পারেননি শেফালি। নাহিদার কাছে নিচু হয়ে আসা ক্যাচটা জমাতে পারেননি। শেফালি বড় ইনিংস খেলে ফেলেন কি না সেটিই এখন ভয়!
ভারত : ৬ ওভারে ৪৫/১
পাওয়ার প্লের ৬ ওভার শেষ হয়েছে। ভারত তুলেছে ৪৫ রান। বাংলাদেশের উইকেট ওই একটিই। দুবার ক্যাচ তুলে দিয়েও বেঁচে যাওয়া শেফালি এখন প্রতিকাকে নিয়ে দলের রান বাড়াচ্ছেন। তারা বেশ আক্রমণাত্মকও। শেফালি দুই বলে দুটি ছক্কা মেরেছেন, ছক্কা এসেছে প্রতিকার ব্যাট থেকেও।
ভারত: ৯.৩ ওভারে ৫৯/২
অবশেষে ভাঙল প্রতিকা ও শেফালির জুটি। রাবেয়ার বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়েছিলেন প্রতিকা। কিন্তু তাঁর ব্যাটে টাইমিংটা ঠিকঠাক হয়নি। ক্যাচটা শুরুতে একবার ছুটেই গিয়েছিল দিলারার হাত থেকে, কিন্তু পরের চেষ্টায় হাতে জমিয়েছেন। ৪৪ বলে ৫০ রানের জুটি ভেঙেছে।
ভারত: ১৩.২ ওভারে ৮৮/২
দুই ওভারে দুবার তাঁর ক্যাচ ফেলে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। সুযোগটা ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছেন শেফালি। ফিফটিও পেয়ে গেছেন। এরপরই আবার তাঁকে রান আউট করার সুযগো এসেছিল, কিন্তু এবারও কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ।
অবশেষে শেফালির ক্যাচ ধরতে পারল বাংলাদেশ!
তিনবার তাঁর ক্যাচ ফেলেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা, একবার করতে পারেনি রানআউট। ভারতের ইনিংসটা প্রায় একাই টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অবশেষে তাঁকে ফেরাতে পেরেছে বাংলাদেশ। সুলতানার বলে ক্যাচ নিয়েছেন বদলি ফিল্ডার ফারজানা ইয়াসমিন।
৬ উইকেটে ১৪৯ রানে থেমেছে ভারত। জিততে হলে বাংলাদেশকে দেড় শ রান করতে হবে। শুরু থেকে একের পর এক ক্যাচ মিসে কাজটা কঠিন হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। শেষ পর্যন্ত শেফালি ভর্মার ফিফটি আর হারমানপ্রিত, রিচা ঘোষদের ব্যাটে চড়ে বড় রানের সংগ্রহই পেয়েছে ভারত।
বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুটা একেবারে মন্দ হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ২ ওভারে ১০ রান এসেছিল। তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেও বাউন্ডারি এসেছে।
প্রথম উইকেট হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশ। শুরুটা ভালোই হয়েছিল। ৫ ওভার ৩ বলে এসেছিল ২৬ রান। এরপর জুয়াইয়রিয়া ক্যাচ তুলে দিয়েছেন শ্রী চরনির বলে।
দুজন ওপেনারকেই হারিয়ে ফেলল বাংলাদেশ। দীপ্তি শর্মার বলে ক্যাচ তুলে দিয়েছেন দিলারা আক্তার। বাংলাদেশের রান এখন ৩৫।
বাংলাদেশ : ১৪ ওভারে ৭৩/৩। ৬ ওভারে জয়ের জন্য দরকার ৭৭ রান।
দুই ওপেনার আউট হয়ে যাওয়ার পর নিগার সুলতানা ও সোবাহানার ব্যাটে এগোচ্ছিল বাংলাদেশ। এই জুটিটাও ভেঙে গেল। দীপ্তি শর্মার বলে বোল্ড হয়ে গেছেন সোবহানা।
আগের আসরের মতো এবারও ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে হেরেই নারী এশিয়া কাপের ফাইনাল খেলার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের। দুবাইয়ে ১৫০ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে পুরো ২০ ওভার খেললেও ৭ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রানের বেশি করতে পারেনি তারা। ম্যাচ হেরেছে ৪০ রানে।
টস জিতে ফিল্ডিং বেছে নেওয়ার পর বল হাতে শুরুটা ভালোই হয়েছিল বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ওভারেই স্মৃতি মান্ধানাকে আউট করেন সুলতানা। কিন্তু একের পর এক ক্যাচ ছেড়ে ভারতকে বড় রানের সুযোগ করে দেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। শেফালি ভর্মার ফিফটিতে ভারত ১৪৯ রান করে।
জবাব দিতে নেমে ২৬ রানের উদ্বোধনী জুটি পায় বাংলাদেশ। কিন্তু রান তোলার গতি শুরু থেকেই ছিল ধীর, শেষ পর্যন্তও তা বদলায়নি। ১৮ বলে ২২ রান করে অপরাজিত থাকা স্বর্ণা আক্তার দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে ব্যাটিং ব্যর্থতা সেমিফাইনালে এসেও কাটাতে পারেনি বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত: ২০ ওভারে ১৪৯/৬ (শেফালি ৬৪, হারমানপ্রিত ২৪*, রিচা ২১, প্রতিকা ২০; সুলতানা ২/৩০, মারুফা ১/৪০, নাহিদা ১/২৫, রাবেয়া ১/২২)
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১০৯/৭ (স্বর্ণা ২২*, নিগার ১৯, সোবহানা ১৮, দিলারা ২১; নন্দিনী ২/১০, দীপ্তি ৩/২৬)
ফল: ভারত ৪০ রানে জয়ী।