প্রথম আলো কার্যালয়ে লিটন দাস
প্রথম আলো কার্যালয়ে লিটন দাস

লিটনের ‘হারানোর কিছু নেই, এখন হয় মারো না হয় মরো’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লিটন দাসের অভিষেক ১০ জুন, ২০১৫। অর্থাৎ আগামী বুধবার লিটনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ১১ বছর পূর্ণ হবে। এতটা পথ পাড়ি দিয়ে লিটন এখন কোথায় দাঁড়িয়ে?

৫৪ টেস্টে ৩৬.৪৭ গড়ে ৩৩৫৬ রান, সেঞ্চুরি ৬টি। ১০১ ওয়ানডেতে ৩০.৫৮ গড়ে ২৭৮৩ রান, সেঞ্চুরি ৫টি। ১২২ টি–টুয়েন্টি ম্যাচে ২৩.৪৯ গড়ে ২৭০২ রান, স্ট্রাইক রেট ১২৬.৭৯।

লিটনের প্রতিভা ও সামর্থ্যের যে ছটা, সে অনুযায়ী প্রত্যাশিত জায়গায় পৌঁছাতে পারেননি। এ নিয়ে আক্ষেপ, আলোচনা কিংবা সমালোচনা কম হয় না। তবে সাফল্যও কম এনে দেননি। পাকিস্তানের বিপক্ষে গত মাসে শেষ হওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ জয়ে সেঞ্চুরিসহ উইকেটকিপিংয়েও দারুণ অবদান ছিল লিটনের।

তা, ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতে তাকিয়ে লিটন কী ভাবছেন? মানে, এখন তাঁর মানসিকতাটা কী? ব্যাটিং নিয়ে এ বিষয়ে প্রথম আলোর প্রধান ক্রীড়া সম্পাদক উৎপল শুভ্রকে দেওয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে মনের ভাবনা বলেছেন লিটন, ‘আমার কাছে মনে হয় এখন আর হারানোর কিছু নেই। আমি যে পর্যায়ে আছি, এই পর্যায়ে আর হারানোর কিছু নেই। এখন হয় পাব, না হলে আউট। টোটালি।’

লিটন এরপর বলেন, ‘আমি এই দুটোর ভেতরে বেছে নিয়েছি যে হয় আমি মারব, না হয় মরব। ধুঁকে ধুঁকে মরার চেয়ে একবারে মরে যাওয়া ভালো। তো আমার ভেতরে ওই মাইন্ড সেটআপটা এখন চলে আসছে।’

আড্ডাসুলভ সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেন লিটন

লিটনের এ কথা শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই পাল্টা প্রশ্ন ওঠে, তাহলে বদলে যাওয়ার আগে কেমন ছিলেন তিনি? প্রথম কথা হলো আউট হলে কী হবে, সেই ভয়টা এখন আর লিটনের মধ্যে কাজ করে না, ‘এখন আমার ভেতরে আর ওই ফিলিংসটা কাজ করে না যে আমি আউট হতে পারি বা আমি যদি আউট হয়ে যাই, কী হবে। কারণ, এ জিনিসটা একটা ব্যাটসম্যানকে অনেক নেগেটিভ চিন্তায় ফেলে।’

আড্ডাসুলভ ভিডিও সাক্ষাৎকারে লিটন জানান, গত দুই বছরে তাঁর মানসিকতা এভাবে পাল্টে গেছে। আগে যেটা ভাবতেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে যদি বলেন, তাহলে এমনও হতে পারে ছয় বছরই হয়তোবা এ চিন্তাতেই খেলেছি, যদি আউট হয়ে যাই, কী হবে, যদি ১০টা রান করি, আবার যদি ব্যর্থ হই! এখন আমি পুরোপুরি ওই মানসিকতায় নেই।’

লিটন আরও জানান, ‘একটা মানুষের সঙ্গে আমি অনেক দিন ধরেই আলোচনা করছি এবং সেই মানুষটা আমাকে যথেষ্ট পরিমাণে ক্রিকেটীয় মানসিকতায় অনেক কিছুতে পরিবর্তন করেছে। যে কারণে এখন আমার ভেতরে আর ওই ফিলিংসটা কাজ করে না যে আমি আউট হতে পারি বা আমি যদি আউট হয়ে যাই, কী হবে।’

বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ

কোন সে মানুষ, যিনি লিটনের ভাবনার জগৎ পাল্টে দিয়েছেন?

লিটন বলেন, ‘স্পিন কোচ (মুশতাক আহমেদ)। আমার মানসিকতা উনি পাল্টেছেন। প্রথম দেখাতেই আমার সঙ্গে দুই-তিনটি কথা বলেন এবং ওই কথাগুলোই এখনো চলতে থাকে। হয়তোবা আমার ভেতরে সেই ট্যালেন্টটা দেখেছেন। তো তাঁর কাছে মনে হয় যে আমার এই জিনিসগুলোয় ঘাটতি আছে, এই জিনিসগুলো নিয়ে কাজ করা দরকার এবং তিনি বলেন, আমি অনুসরণ করার চেষ্টা করি।’