মোহাম্মদ আলী ভুল কিছু বলেননি। ক্রিকেটে অলৌকিক কিছুও ঘটে।
লর্ডস টেস্টে ফল পক্ষে আনতে পাকিস্তানের এখন অলৌকিক কিছুরই দরকার। ম্যাচে শেষ হয়েছে তিন দিন। তৃতীয় দিন বৃষ্টির কারণে পুরো পঁচিশ ওভারও খেলা হয়নি।
তারপরও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাকিস্তান এখন এতটাই পিছিয়েই যে হার এড়াতে বড় কিছুই করতে হবে। এরই মধ্যে ইংল্যান্ডের লিড দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ রানে, হাতে এখনো ৩ উইকেট।
পাকিস্তানের এমন দুর্দশার বড় কারণ তাদের ব্যাটিং। প্রথম ইনিংসে ১১০ রানে অলআউট হওয়া যে দলকে ম্যাচে পিছিয়ে দিয়েছে, সেটি স্বীকার করেছেন পেসার মোহাম্মদ আলীও।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে তিনি বলেন, ‘প্রথম ইনিংসের ঘাটতিটাই অনেক বেশি ছিল। এতটা পিছিয়ে গেলে যত দ্রুত সম্ভব প্রতিপক্ষের উইকেট নেওয়া ছাড়া আর কিছু করার থাকে না। আমার মনে হয়, প্রথম ইনিংসের তুলনায় এবার আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে ভালো বোলিং করেছি। আরও ভালো জায়গায় এবং বেশি ধারাবাহিকভাবেই করেছি। এ কারণেই ইংল্যান্ড এখন ১৭৭ রানে ৭ উইকেট।’
পাকিস্তানের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করাটা আরও কঠিন হতে পারে। কারণ, তৃতীয় দিনেই উইকেটে অসম বাউন্ড দেখা গেছে। পাকিস্তান পেসাররা এমন কন্ডিশন উপভোগ করেছেন বলে জানালেন আলী, ‘লর্ডসে প্রায়ই অসম বাউন্স দেখা যায়। যতজন ফাস্ট বোলারই খেলুক, এমন কন্ডিশনে ফাস্ট বোলারদের বোলিং উপভোগ করা উচিত। আপনার কাজের চাপ ও প্রস্তুতি ঠিক থাকলে কোনো সমস্যা হবে না।’
১–০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে থাকা পাকিস্তান এই ম্যাচে খেলছে তিন পেসার নিয়ে। বিপরীতে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলে চারজন। ওলি রবিনসন, জফরা আর্চার, গাস অ্যাটকিনসন, জশ টাংরা আছেনও দারুণ ছন্দে। চলতি সিরিজে পাকিস্তান এখন পর্যন্ত তিন ইনিংস মিলিয়ে করতে পেরেছে ৪১৭ রান। ফলে লর্ডসের অসম বাউন্সের চতুর্থ ইনিংসে ৪০০ রানের লক্ষ্য প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি বলেই মনে করা হচ্ছে।
বাস্তবতাটা জানেন আলীও। তবু ক্রিকেটে অলৌকিক কিছু ঘটার আশা ছাড়ছেন না তিনি, ‘ক্রিকেটে মিরাকল ঘটেই। এই মুহূর্তে আমরা শুধু আশা করতে পারি এবং ব্যাটিং বিভাগকে উৎসাহ দিতে পারি। কাজটা কঠিন হবে, কিন্তু অসম্ভব নয়।’