আইসিসি তাদের কাজকর্মে যদি বিসিসিআইয়ের ‘প্রভাব’মুক্ত না হতে পারে, এই সংস্থা থাকার কী দরকার? প্রশ্নটি তুলেছেন পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার সাঈদ আজমল। করাচিতে এক অনুষ্ঠানে এই কথা বলেন পাকিস্তানের হয়ে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী আজমল।
ভারতের বার্তা সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, আজমল বলেছেন ‘বিশ্ব ক্রিকেটের সামগ্রিক স্বার্থে যদি আইসিসি নিরপেক্ষ ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে না পারে’ তাহলে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া উচিত। আজমলের ভাষায়, ‘আইসিসি যদি ভারতীয় বোর্ডের ওপর নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে না পারে, তাহলে তাদের অস্তিত্বেরই কোনো প্রয়োজন নেই।’ ৪৮ বছর বয়সী আজমল দাবি করেন, টেস্ট খেলুড়ে বেশির ভাগ দেশই তাঁর এই মতের সঙ্গে একমত, তবে তারা নিজেদের অবস্থান প্রকাশ্যে জানাবে না।
আইসিসি ভারতের কাছে কীভাবে ‘অসহায়’, তার উদাহরণ দিতে গিয়ে ভারত–পাকিস্তান সম্পর্ক টেনে আনেন আজমল। পাকিস্তানে বৈশ্বিক আসরেও ভারত খেলতে যায় না আর আইসিসির সেটি মেনে নেওয়াকে তাদের ‘অসহায়ত্বে’র অন্যতম উদাহরণ মনে করেন তিনি। আজমলের ভাষায়, ‘ভারতের পাকিস্তানে খেলা থেকে বিরত থাকার কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। কিন্তু আইসিসি অসহায়, কারণ এটি এখন ভারতীয়দের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত।’
২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর আইসিসি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর ছেলে জয় শাহ। এই দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিসিসিআইয়ে সচিবের দায়িত্ব পালন করেন ৩৭ বছর বয়সী জয় শাহ।
২০০৮ সালে এশিয়া কাপ খেলতে সর্বশেষ পাকিস্তানে গিয়েছিল ভারতীয় দল। ২০০৯ সালে মুম্বাইয়ে বোমা হামলার পর দুই দেশের সম্পর্কে চরম অবনতি হয়। ২০১৩ সাল পর্যন্ত দ্বিপক্ষীয় সিরিজ চালু থাকলেও এরপর দুই দল কেবল বৈশ্বিক আসরেই মুখোমুখি হয়েছে। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে গিয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট দল। তার আগে ২০১৬ সালে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতেও তারা ভারতে গিয়েছিল।
কিন্তু গত বছর চ্যাম্পিয়নস ট্রফি খেলতে পাকিস্তানে যেতে আপত্তি জানায় ভারত। এরপর আইসিসি বিসিসিআইয়ের অনড় অবস্থান মেনে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ভারতের ম্যাচগুলোয় দুবাইয়ে স্থানান্তর করে। সেই টুর্নামেন্টে অন্য দলগুলোকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলতে পাকিস্তান থেকে যেতে হয়েছে দুবাইয়ে। শুধু তা–ই নয়, গত বছর এপ্রিলে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর বন্দুকধারীদের হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর খেলার মাঠেও দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক আরও খারাপ হয়।
তবে শুধু ভারত নয়, পাকিস্তানও এ বিষয়ে নিজের অবস্থানে অনড় থেকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে জটিলতার সময় সমঝোতা চুক্তি করে নেয়। ভারত যেমন বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ম্যাচ খেলতে পাকিস্তানে যায় না, তেমনি পাকিস্তানও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টের ম্যাচ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক ভারত ও শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তান এই বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচগুলো খেলবে শ্রীলঙ্কায়। ভারতে যাবে না।
২০১৭ সালে সব ধরনের ক্রিকেট ছেড়ে দেওয়া আজমল পাকিস্তানের হয়ে ৩৫ টেস্টে ১৭৮ উইকেট নিয়েছেন। ১৮৪ উইকেট নিয়েছেন ১১৩ ওয়ানডেতে এবং টি–টোয়েন্টিতে ৬৪ ম্যাচে নিয়েছেন ৮৫ উইকেট।