
২০০০ সালের নভেম্বর, ঢাকা। টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম পদক্ষেপ, আর সেই অভিষেক টেস্টেই আমিনুল ইসলাম অভিষেক রাঙালেন সেঞ্চুরিতে। আমিনুল ইসলামের ব্যাটে সেই যাত্রাটা সম্পূর্ণ হলো ডারউইনে। তানজিদ হাসানের সেঞ্চুরিতে সব কটি টেস্ট খেলুড়ে দেশে সেঞ্চুরি হলো বাংলাদেশের।
ঢাকা স্টেডিয়ামে আমিনুল ইসলামের সেই ১৪৫ রানের ইনিংস শুধু একটা সেঞ্চুরি ছিল না, ছিল আত্মবিশ্বাসের প্রথম বীজ। এরপর ২০০১ সালে শ্রীলঙ্কার মাটিতে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করেন মোহাম্মদ আশরাফুল, যা এখনো টিকে আছে সবচেয়ে কম বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড হিসেবে। দেশের বাইরেও সেটি বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি।
এরপর মঞ্চে আসেন হাবিবুল বাশার। ২০০৩ সালে পাকিস্তানের মাটিতে করাচিতে পান সেঞ্চুরি। তার পরের বছর ২০০৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে সেন্ট লুসিয়ায় পেলেন তিন অঙ্কের দেখা। দুটি ভিন্ন মহাদেশে বাংলাদেশের হয়ে সেঞ্চুরি পাওয়া প্রথম ব্যাটসম্যানও হাবিবুল।
২০১০ সাল বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বিশেষ এক বছর। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে মাহমুদউল্লাহ এবং ইংল্যান্ডের মাটিতে তামিম ইকবাল—একই বছরে দুই ভিন্ন প্রান্তে দুটি নতুন কীর্তি যোগ হয় তালিকায়। লর্ডসে তামিমের সেঞ্চুরির পর সেই উদ্যাপন ঢুকে গেছে বাংলাদেশের ক্রিকেট পুরাণেই। সেই বছর হ্যামিল্টনে মাহমুদউল্লাহ পেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের মাঠে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি।
ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্টের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০১৭ সাল পর্যন্ত। হায়দরাবাদের সেই টেস্টেই বিরুদ্ধ কন্ডিশনে সেঞ্চুরি পান মুশফিকুর রহিম, অনেকের চোখে দেশের বাইরে যা বাংলাদেশের হয়ে অন্যতম সেরা ইনিংস।
শুনতে একটু অবিশ্বাস্য শোনাতে পারে, জিম্বাবুয়ের মাঠে বাংলাদেশে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ২০২১ সাল পর্যন্ত। মাহমুদউল্লাহর হাত ধরে ২০২১ সালে ঘোচে সেই অতৃপ্তি, হারারের সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেনও। ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে মাহমুদুল হাসান পান সেঞ্চুরি, দক্ষিণ আফ্রিকার মাঠে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের তিন অঙ্কের দেখা পেয়েছেন কেবল তিনিই।
আর অবশেষে ২০২৬ সালে অস্ট্রেলিয়ায় সেঞ্চুরি তুলে নেন তানজিদ হাসান। ২০০৩ সালে দুই টেস্ট খেললেও সেবার বাংলাদেশের কেউ সেঞ্চুরি পাননি। আমিনুল ইসলাম যেখানে শুরু করেছিলেন ঘরের মাঠে, তানজিদ সেই যাত্রা শেষ করলেন ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগারে। টেস্ট পরিবারের নবীন দুই সদস্য আফগানিস্তান ও আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশ এখনো কোনো ম্যাচ খেলেনি।