ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পরামর্শক কেভিন পিটারসেন
ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পরামর্শক কেভিন পিটারসেন

জুয়ার বিজ্ঞাপনে পিটারসেন, বিতর্কের মুখে ইসিবি

ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের পরামর্শকের দায়িত্ব পালন করছেন। আবার অনলাইন জুয়া প্রতিষ্ঠানের শুভেচ্ছাদূতও হয়েছেন। কেভিন পিটারসেনের এই দুই ভূমিকা নিয়েই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ইংল্যান্ডের সাবেক এই ব্যাটসম্যান অবশ্য ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডকে (ইসিবি) আশ্বস্ত করেছেন, জাতীয় দলের দায়িত্ব পালনের সময় তিনি কোনো জুয়া প্রতিষ্ঠানের প্রচারে অংশ নেবেন না।

ইংল্যান্ডের সাদা বলের ক্রিকেট দলের বিশেষজ্ঞ পরামর্শক হিসেবে কাজ করছেন পিটারসেন। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের দলের সঙ্গে আগামী ১৩ মাসে প্রায় ১৫০ দিন কাজ করার চুক্তি তাঁর। তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় যৌথভাবে আয়োজিত আগামী ওয়ানডে বিশ্বকাপের শেষ পর্যন্ত।

প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে মেন্টর পিটারসেন

এর মধ্যেই চলতি সপ্তাহে অনলাইন জুয়া প্রতিষ্ঠান ডাফাবেটের সঙ্গে মোটা অঙ্কের চুক্তি করেছেন ৪৬ বছর বয়সী পিটারসেন। ফিলিপাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির শুভেচ্ছাদূত হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন গত সোমবার। আর তাতেই কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েছে ইসিবি।

কারণ, জুয়া নিয়ে ইংল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের অবস্থান বেশ কঠোর। ইসিবির দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, কোনো ম্যাচ বা প্রতিযোগিতার ফল, অগ্রগতি, পরিচালনা কিংবা অন্য যেকোনো বিষয়ে কাউকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বাজি ধরতে প্ররোচিত, উৎসাহিত বা সহায়তা করা যাবে না। এমনকি অন্য কাউকে বাজি ধরার অনুমতি দেওয়াও নিষিদ্ধ।

শুধু নীতিমালাতেই নয়, নিজেদের বাণিজ্যিক কার্যক্রমেও জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখে ইসিবি। বোর্ড কোনো জুয়া প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন থেকে আয় করে না। আগামী বছর থেকে দ্য হানড্রেডের ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকেও জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তি করতে নিষেধ করা হয়েছে।

ইংল্যান্ডের কাউন্টি দলগুলোর ক্ষেত্রেও রয়েছে বিশেষ শর্ত। কোনো কাউন্টি দল জুয়া প্রতিষ্ঠান থেকে বাণিজ্যিক আয় করলে সেই অর্থ অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা সামাজিক কর্মসূচিতে পুনর্বিনিয়োগ করা হচ্ছে, সেটি প্রমাণ করতে হবে।

ক্রিকেটের সঙ্গে যুক্ত সবার জন্যই বাজি ধরা নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ভাঙার পরিণতি কতটা কঠিন হতে পারে, সেটি ভালোই জানেন ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্স। ২০১৭ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ৩০৩টি বাজি ধরার অপরাধে দুই বছর আগে তাঁকে ১৬ মাসের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। যদিও এর মধ্যে ১৩ মাসের শাস্তি স্থগিত রাখা হয়।

নতুন দায়িত্ব নিয়েই বিতর্কে পিটারসেন


পিটারসেন অবশ্য ইসিবিকে জানিয়েছেন, ইংল্যান্ড দলের দায়িত্ব পালনের সময় ডাফাবেটের কোনো প্রচারে অংশ নেবেন না। তবে আগামী এক বছরে জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর ব্যস্ততা এতটাই বেশি যে এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে গেলে জুয়া প্রতিষ্ঠানটির হয়ে প্রচারের সুযোগও অনেক কমে যাবে।

আগামী সপ্তাহে পাকিস্তানে শুরু হতে যাওয়া ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে যাচ্ছেন না পিটারসেন। সিরিজের অন্য দল শ্রীলঙ্কা। তবে শীত মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত থাকবেন তিনি। আগামী গ্রীষ্মে বিশ্বকাপের আগে ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠেয় সব সাদা বলের ম্যাচেও দায়িত্ব পালন করবেন।

জুয়া প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে ইসিবির অস্বস্তিতে পড়ার ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে ইংল্যান্ডের বর্তমান প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে নিয়েও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।

তিন বছর আগে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ থাকার সময় সাইপ্রাসভিত্তিক জুয়া প্রতিষ্ঠান ‘টুয়েন্টি টু-বেটে’র (২২ বেট) শুভেচ্ছাদূত হয়েছিলেন ম্যাককালাম। এরপর ফেসবুক ও ইউটিউবে প্রতিষ্ঠানটির হয়ে আইপিএলের ম্যাচে বাজি ধরার প্রচারও চালিয়েছিলেন।

কেভিন পিটারসেন

বিষয়টি নিয়ে তদন্তের পর ইসিবি অবশ্য সিদ্ধান্তে পৌঁছায়, ম্যাককালাম দুর্নীতিবিরোধী নীতিমালা ভঙ্গ করেননি। তবে বিতর্ক এড়াতে শেষ পর্যন্ত নিজে টুয়েন্টি টু-বেটের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক এই অধিনায়ক।

ম্যাককালামের সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পিটারসেনের ডাফাবেটের অবশ্য একটি পার্থক্য আছে। টুয়েন্টি টু-বেটের লাইসেন্স ছিল ক্যারিবীয় অঞ্চলের কুরাসাওয়ে। অন্যদিকে ডাফাবেটের যুক্তরাজ্যে কার্যক্রম পরিচালনার বৈধ লাইসেন্স রয়েছে।