ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামের মঞ্চটা যেন সাজানোই ছিল হাসান মাহমুদের জন্য। প্রায় দুই দশকের বেশি সময় পর টেস্ট ক্রিকেট ফিরল উত্তর অস্ট্রেলিয়ার এই শহরে, আর সেই ফেরার মঞ্চেই বাংলাদেশের এই পেসার লিখে ফেললেন নিজের ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং ফিগার —৫৫ রানে ৬ উইকেট। অস্ট্রেলিয়া গুটিয়ে গেল ১৯৮ রানে, আর প্রথম দিনের শেষে ব্যাট হাতে বাংলাদেশ ব্যবধান কমিয়ে এনেছে ১০২ রানে, হাতে ৯ উইকেট।
অ্যাশেজে ভুগতে থাকা তিন ব্যাটসম্যান জ্যাক ওয়েদেরাল্ড, মারনাস লাবুশেন আর ক্যামেরন গ্রিন লাঞ্চের আগেই ফিরে গেলেন প্যাভিলিয়নে। অস্ট্রেলিয়া তখন ৪ উইকেটে ৭০। স্টিভ স্মিথ স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে না গেলে স্কোরকার্ডটা আরও বিব্রতকর হতে পারত অস্ট্রেলিয়ার জন্য। শেষমেশ সেই স্মিথকে ফিরিয়েছেন হাসানই, অস্ট্রেলিয়ার মাঠে টেস্ট অভিষেকটা রাঙিয়েছেন ৬ উইকেট নিয়ে।
মাঠ ছেড়ে যখন হাসান গ্যালারির করতালির মধ্য দিয়ে মাঠ ছাড়ছেন, তখন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার কায়ো স্পোর্টসকে বলছিলেন, ‘আমি সত্যিই খুব মুগ্ধ হয়েছি। সে সঠিক জায়গায় বল করে গেছে। একজন বোলারের কাছ থেকে এর চেয়ে বেশি কিছু চাওয়ার থাকে বলে আমার মনে হয় না। তরুণ এই খেলোয়াড়ের অসাধারণ একটি পারফরম্যান্স ছিল।’
সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান ও ধারাভাষ্যকার মার্ক ওয়াহও বাংলাদেশের বোলিং দেখে মুগ্ধতার কথা জানিয়েছেন। নাহিদ রানার মতো মূল অস্ত্র ছাড়াই তিন পেসার মিলে যেভাবে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে ফেলেছেন, তাঁর ভাষায় সেটি দলগত পরিশ্রমের প্রতিফলন। গরম আর আর্দ্রতার মধ্যেও তারা ‘লাইন অ্যান্ড লেংথ’ ধরে রেখেছিল বলে মন্তব্য তাঁর।
সদ্য ধারাভাষ্যকার হিসেবে অভিষিক্ত অ্যালিসা হিলিও রানার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ‘বাংলাদেশের পেস বোলিংয়ের শক্তি সম্পর্কে আমরা আগেই ভালো ধারণা পেয়েছিলাম। নাহিদ রানা না থাকায় এবং আরও কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বোলারকে না পাওয়ায় আমরা ভাবছিলাম তাদের বোলিং আক্রমণ আসলে কেমন হবে।’
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের পেসাররা যে মানের বোলিং করেছেন, বিশেষ করে হাসান, তা প্রশংসনীয় বলে মনে করেন এই নারী ক্রিকেটার, ‘একজন তরুণ খেলোয়াড়, যার ক্যারিয়ারও এখনো শুরুর দিকে, সে যেভাবে এসে বোলিং করেছে—বিশেষ করে যেভাবে অস্ট্রেলিয়ান ঘরানার বোলিং করেছে এবং অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যান প্রতিটি বল নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে, সেটি ছিল সত্যিই দারুণ পেশাদার পারফরম্যান্স। তার এমন পারফরম্যান্স অবশ্যই প্রাপ্য ছিল।’