জয়ের পর কানাডার সাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন ফিলিপস ও রবীন্দ্র
জয়ের পর কানাডার সাদের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছেন ফিলিপস ও রবীন্দ্র

কানাডার যুবরাজের রেকর্ডকে পাত্তা না দিয়ে সুপার এইটে নিউজিল্যান্ড

সুপার এইটে উঠতে জয় দরকার ছিল নিউজিল্যান্ডের। প্রতিপক্ষ কানাডা হওয়ায় কিউই সমর্থকেরা হয়তো এ ম্যাচে জয় পাওয়া নিয়ে এতটুকু দুশ্চিন্তা করেননি।

কিন্তু কানাডা ওপেনার যুবরাজ সিং সামরার সেঞ্চুরির পর কি একটু হলেও দুশ্চিন্তা জাগেনি? তাঁর ৬৫ বলে ১১০ রানের ঐতিহাসিক ইনিংসে আগে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ১৭৩ রান তুলেছিল কানাডা। রান তাড়ায় এমন লক্ষ্য একটু কঠিন হতেই পারত। কারণ ম্যাচটা টি–টুয়েন্টি, দুই–এক ওভারে একটু ভুল করে ফেললেই ভীষণ চাপে পড়তে হয়!

কিন্তু গ্লেন ফিলিপস ও রাচিন রবীন্দ্র মিলে কিছুই টের পেতে দেননি নিউজিল্যান্ডকে। তৃতীয় উইকেটে ৭৩ বলে তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ১৪৬ রানের জুটিতে ৮ উইকেটের দারুণ জয়ে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। ৩৯ বলে ৫৯ রানে অপরাজিত ছিলেন রবীন্দ্র। অন্য প্রান্তে ৩৬ বলে ৭৬ রানে ছিলেন ফিলিপস। নিউজিল্যান্ড এত ভালো ব্যাট করেছে যে জয়টা এসেছে ২৯ বল হাতে রেখে।

গ্রুপ পর্বে এটা ছিল নিউজিল্যান্ডের শেষ ম্যাচ। এই জয়ে ‘ডি’ গ্রুপের রানার্সআপ দল হিসেবে সুপার এইটে উঠল ড্যারিল মিচেলের দল। ৪ ম্যাচে তাদের সংগ্রহ ৬ পয়েন্ট। ৩ ম্যাচের সবগুলো জিতে ৬ পয়েন্ট নিয়ে আগেই সুপার এইট নিশ্চিত করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপের বাকি তিন দল আফগানিস্তান, কানাডা ও আরব আমিরাতের বিদায় নিশ্চিত হলো।

অথচ টসে জিতে আগে ব্যাট করা কানাডার ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল, আজ নিউজিল্যান্ডকে তারা যদি–কিন্তুর হিসাবের মধ্যে ফেলতে পারে। ওপেনিং জুটিতে ১৪ ওভারেই তারা তুলেছে ১১৬ রান। আউট হওয়ার আগে এই জুটিতে ওপেনার দিলপ্রীত বাওজার অবদান মাত্র ৩৯ বলে ৩৬। যুবরাজ সামরার অবদান ৪৫ বলে ৭৭।

অসাধারণ এক জুটিতে ম্যাচ জেতান রবীন্দ্র ও ফিলিপস

যুবরাজ ৩৬ বলে ফিফটি তুলে নেওয়ার পর সেঞ্চুরি করেন ৫৮ বলে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এটা তাঁর প্রথম সেঞ্চুরি। শুধু তা–ই নয়, ওয়ানডে ও টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপেও সর্বকনিষ্ঠ সেঞ্চুরিয়ান ১৯ বছর ১৪১ দিন বয়সী এ ওপেনার। ঝামেলাটা হলো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে সহযোগী দেশের হয়ে প্রথম সেঞ্চুরি করা যুবরাজ ছাড়া কানাডার আর কেউ রান পাননি। বলা ভালো ১৯.২ ওভারে আউট হওয়ার আগে যুবরাজকে কেউ সঙ্গ দিতে পারেননি। এ কারণে ৬ ছক্কা ও ১১ চারে ৬৫ বলে তাঁর ১১০ রানের ইনিংসের পরও কানাডা ১৮০ রানও তুলতে পারেনি।

এই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের সমর্থকেরা যে ভয় পাননি তা নয়। ৩.১ ওভারে ৩০ রানে দুই ওপেনার ফিন অ্যালেন (২১) ও টিম সাইফার্ট (৬) আউট হওয়ার পর একটু দুশ্চিন্তা জাগাই তো স্বাভাবিক। কিন্তু ওই পর্যন্তই। তারপর রবীন্দ্র ও ফিলিপসের ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছে দুই শ রানের লক্ষ্যও তাঁদের সামনে নস্যি!

সেঞ্চুরি করেন যুবরাজ সিং সামরা

তাঁদের ১৪৬ রানের জুটিতে ফিলিপসের অবদান ৩৬ বলে ৭৬ এবং রবীন্দ্র করেন ৩৭ বলে ৫৯। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে ১৫০+ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিউজিল্যান্ডের ২৯ বল হাতে রেখে জয়টা বলসংখ্যা হাতে রাখার হিসাবে তৃতীয় সর্বোচ্চ। ৬ ছক্কা ও ৪টি চার মারেন ফিলিপস। রবীন্দ্রর ব্যাট থেকে এসেছে ৩ ছক্কা ও ৪টি চার। এই ম্যাচে ১০ ছক্কা মেরেছে নিউজিল্যান্ড—যা টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের এক ম্যাচে তাদের সর্বোচ্চ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

কানাডা: ২০ ওভারে ১৭৩/৪ (যুবরাজ ১১০, দিলপ্রীত ৩৬, নবনীত ১০; হেনরি ১/২৮, ডাফি ১/২৫, নিশাম ১/৩৮, জেমিসন ১/৪১)।

নিউজিল্যান্ড: ১৫.১ ওভারে ১৭৬/২ (ফিলিপস ৭৬*, রবীন্দ্র ৫৯*, অ্যালেন ২১; ডিলন ১/৪২, জাফর ১/২৯)।

ফল: নিউজিল্যান্ড ৮ উইকেটে জয়ী।

ম্যাচসেরা: গ্লেন ফিলিপস (নিউজিল্যান্ড)।