মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহানারা আলম
মঞ্জুরুল ইসলাম ও জাহানারা আলম

বিসিবির তদন্ত প্রতিবেদন

জাহানারার দুটি অভিযোগের সত্যতা মিলেছে

বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা অভিযোগ নিয়ে গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও সুপারিশ হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানিয়েছে, তদন্ত কমিটি বাংলাদেশ নারী দলের সাবেক নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অসদাচরণের প্রমাণ পেয়েছে।

গত ৭ নভেম্বর বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় জাহানারা আলম একটি ইউটিউব চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ তোলেন। অভিযোগ তদন্তে ৯ নভেম্বর বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিমকে প্রধান করে বিসিবি একটি কমিটি গঠন করে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বাংলাদেশ আইন কমিশনের বর্তমান সদস্য অধ্যাপক ড. নাঈমা হক, ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান খান, বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বিসিবির পরিচালক ও নারী ক্রিকেটের প্রধান রুবাবা দৌলা। ২ ফেব্রুয়ারি কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের তদন্ত প্রতিবেদন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের কাছে হস্তান্তর করে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন তুলে দিচ্ছেন কমিটির প্রধান

বিসিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, তদন্ত কমিটি জাহানারার করা চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগ পর্যালোচনা করে দুটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পায়নি। বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রাথমিকভাবে অসদাচরণের প্রমাণ পেয়েছে। অবশ্য তাঁর সঙ্গে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে গত বছরের ৩০ জুন।

তদন্ত প্রতিবেদনের উল্লেখ করে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মঞ্জুরুলের কিছু আচরণ পেশাদার মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল। তাঁর কিছু কর্মকাণ্ড সুপ্রিম কোর্টের প্রযোজ্য নির্দেশিকার আওতায় অসদাচরণ ও হয়রানির সংজ্ঞার মধ্যেও পড়ে।

বিসিবি জানিয়েছে, এ ব্যাপারে আইনজীবীদের মাধ্যমে বোর্ড হয়রানি ও অসদাচরণের বিষয়ে বিসিবির ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। একই সঙ্গে বিসিবি তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে। হাইকোর্টের ২০০৯ সালের রায়ের আলোকে বিসিবির উইমেন্স উইংয়ের চেয়ারপারসন রুবাবা দৌলাকে প্রধান করে বিসিবি একটি অভিযোগ কমিটিও গঠন করেছে।