
‘প্রতিশোধ’ শব্দটা উচ্চারণ করার কথা নয় দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়কের এইডেন মার্করামের। আর যা–ই হোক, একটি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে হারের সঙ্গে আরেকটি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটের জয়ের তুলনা নিশ্চয়ই হয় না। তবু কাল আহমেদাবাদে ভারতের বিপক্ষে ৭৬ রানের জয়টিকে একটু বিশেষভাবেই উদ্যাপন করার কথা দক্ষিণ আফ্রিকানদের।
যে ভারত টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ জিতেছে, ২০২২ সালের অক্টোবরের পর থেকে বহুজাতিক টি–টুয়েন্টি টুর্নামেন্টে টানা ২২ ম্যাচ ধরে অপরাজিত—সেই দলটিকে তাদের বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারানো চাট্টিখানি কিছু তো নয়। কাল সুপার এইটের ম্যাচটিতে প্রথমে ব্যাট করে দক্ষিণ আফ্রিকা করে ৭ উইকেটে ১৮৭ রান। এরপর রান তাড়ায় নামা সূর্যকুমার যাদবের দলকে দক্ষিণ আফ্রিকা গুটিয়ে দেয় ১১১ রানে।
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো রান তাড়ায় নামা ভারত খেই হারিয়ে ফেলে শুরুতেই। প্রথম ওভারে ঈশান কিষান আর দ্বিতীয় ওভারে তিলক বর্মা ফিরে গেলে ৫ রানেই ভারত হারায় ২ উইকেট। আগের তিন ম্যাচে কোনো রান করতে না পারা অভিষেক শর্মা একটি চার মেরে বিশ্বকাপে রানের খাতা খুললেও এরপর আর এগোতে পারেননি। মার্কো ইয়ানসেন, করবিন বশদের তোপে পড়ে তাঁর সঙ্গে যখন ওয়াশিংটন সুন্দর হয়ে অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবও ফেরেন, ভারতের রান ৫ উইকেটে ৫১।
১০ ওভারের মধ্যে ইনিংসের অর্ধেক উইকেট হারানোর পর কিছুটা সময়ের জন্য জুটি গড়ায় মনোযোগ দেন হার্দিক পান্ডিয়া ও শিবম দুবে। কিন্তু ক্রমে বাড়তে থাকা রান রেটের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে এই জুটিও থামে ৩৫ রানেই।
দক্ষিণ আফ্রিকার কেশব মহারাজ ১৫তম ওভারে বোলিংয়ে এসে পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে শুধু জুটিই ভাঙেননি, একই ওভারে তুলে নেন রিংকু আর অর্শদীপের উইকেটও। ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর ভারতের আর করার ছিল সামান্যই। এলোপাতাড়ি ব্যাট চালানো দুবের ৩৭ বলে ৪২ রানের ইনিংস দলকে ১০০ পার করিয়েছে, ব্যবধান কমিয়েছে হারের।
এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকাকে লড়ার মতো স্কোর এনে দেওয়ায় ভূমিকা রাখেন ডেভিড মিলার। যশপ্রীত বুমরা ও অর্শদীপের ঝড়ে প্রথম ৪ ওভারে ২০ রানেই ৩ উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। ওই পরিস্থিতিতে ৫ নম্বরে নেমে মিলার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ফিফটি করেন মাত্র ২৬ বলে। চতুর্থ উইকেটে তাঁকে ৯৭ রানের জুটিতে সঙ্গ দেন ডেভাল্ড ব্রেভিস। ব্রেভিস ৪৫ রান করে ফিরলেও মিলার দলকে দেড় শ পার করিয়ে ৩৫ বলে ৬৫ রান পর্যন্ত পৌঁছান। শেষ দিকে ট্রিস্টান স্টাবসের ২৪ বলে অপরাজিত ৪৪ রান প্রোটিয়াদের নিয়ে যায় চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহে, যা শেষ পর্যন্ত জয়ের জন্য ‘যথেষ্টর বেশি’ই হয়ে ওঠে।
পরিসংখ্যান বলছে, আন্তর্জাতিক টি–টুয়েন্টিতে ভারত রানের দিক থেকে ৭৬ রানের বেশি ব্যবধানে মাত্র একবারই হেরেছে, সেটি ২০১৯ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৮০ রানে। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বিবেচনায় অবশ্য প্রোটিয়াদের কাছে গতকালের হারটিই ভারতের সবচেয়ে বড় (২০১০ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে ছিল সবচেয়ে বড়)। ২০২২ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের পর থেকে টানা ২২ ম্যাচ বহুজাতিক টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকা ভারতকে হারানোটাও দক্ষিণ আফ্রিকার বড় সাফল্য। ২০২৪ টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালের হারের যন্ত্রণায় হয়তো কিছুটা হলেও প্রলেপ হতে পারে।