
মাঠে সব দিন সমান যায় না। বড় বড় অনেক দলেরও খারাপ সময় যেতে পারে এবং সেই সময়টা দীর্ঘও হতে পারে। পাকিস্তান ক্রিকেট দল হয়তো এই দীর্ঘ খারাপ সময়ের চক্করেই পড়েছে। আর মাঠে প্রত্যাশা মেটাতে না পারলে সমালোচনা হবে, সেটাই স্বাভাবিক।
তবে মাঠে ব্যর্থতার পর একটি দলকে কীভাবে সামলানো হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। আর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সাম্প্রতিক সময়ে সেই জায়গাতেই যেন একের পর এক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে প্রথম দুই ম্যাচে হারের পর পিসিবি সিরিজের মাঝপথে তাদের সাত খেলোয়াড়কে দল থেকে বাদ দিয়েছে। ছাঁটাই করেছে টেস্ট দলের প্রধান কোচ ও বোলিং কোচকে। এমন সিদ্ধান্ত এবং খেলোয়াড়দের বিষয়ে প্রকাশ্য মন্তব্য নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে ক্রিকেট-বিশ্বে। সেই সমালোচকদের দলে এবার যোগ দিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক ও ধারাভাষ্যকার নাসের হুসেইন।
আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, একজন হাই পারফরম্যান্স পরিচালক কীভাবে একজন খেলোয়াড়কে বলির পাঁঠা বানাতে পারেন।নাসের হুসেইন
হুসেইনের মতে, হেডিংলি টেস্টের পর পাকিস্তানকে নিয়ে পুরো ক্রিকেট-বিশ্ব হাসাহাসি করেনি। পিসিবির নানা কাণ্ডই পাকিস্তানকে হাসির পাত্রে পরিণত করেছে। স্কাই স্পোর্টস ক্রিকেট পডকাস্টে নাসের বলেন, ‘আমি মনে করি না হেডিংলির পর পুরো বিশ্ব পাকিস্তানকে নিয়ে হাসাহাসি করেছে। লর্ডসে আমি যে সমালোচনা করেছিলাম, বলেছিলাম তারা ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই করেনি, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচগুলো একপেশে হয়ে যাচ্ছে এবং তারা খারাপ খেলছে, সেটা পাকিস্তানকে নিয়ে হাসাহাসি করার জন্য ছিল না।’
নাসের বলে যান, ‘এটা ছিল হতাশা থেকে। ক্রিকেটের এই গ্রেট দেশটি এখন কোথায় এসে দাঁড়িয়েছে, সেটি দেখে হতাশা থেকেই কথাগুলো বলেছিলাম। কিন্তু এখন তারা যা করেছে, তাতে তারা হাসির পাত্রে পরিণত হয়েছে। তারা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করেছে।’
লর্ডস টেস্টে চোটের কারণে পাকিস্তানের বাঁহাতি ওপেনার ইমাম-উল-হক ব্যাটিংয়ে নামেননি। এই চোট নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) হাই পারফরম্যান্স বিভাগের পরিচালক আকিব জাভেদ তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন। আকিবের এমন কথা বিস্মিত করেছে নাসেরকে। তাঁর প্রশ্ন, একজন হাই পারফরম্যান্স পরিচালক (আকিব জাভেদ) কীভাবে নিজের দলের একজন খেলোয়াড়ের এমন সমালোচনা করতে পারেন।
নাসেরের ভাষায়, ‘আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না, একজন হাই পারফরম্যান্স পরিচালক কীভাবে একজন খেলোয়াড়কে বলির পাঁঠা বানাতে পারেন। সে হয় চোটগ্রস্ত, নয়তো নয়। অন্য যেকোনো সফরকারী দলের কাছে আমরা যদি কোনো খেলোয়াড়ের বিষয়ে জানতে চাই, তাহলে তারা বলত, “তার স্ক্যান হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তবেই সে ব্যাট করবে।” ইমামের বিষয়টি যেভাবে সামলানো হয়েছে, পুরো ব্যাপারটাই হাস্যকর। আপনাকে আপনার খেলোয়াড়দের কিছুটা হলেও সুরক্ষা দিতে হবে।’
এজবাস্টনে সিরিজের শেষ টেস্ট শুরু হবে ৯ সেপ্টেম্বর।