
>নেপাল জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার হরি খাড়কা আগে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে নিয়মিত খেলতেন।
চোখে রোদচশমা। ন্যাড়া মাথা। গায়ে সাদা টি-শার্ট। ভুটানে মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৫ সাফে অংশ নেওয়া নেপাল দলের অনুশীলন গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখছিলেন হরি খাড়কা। নেপালের বয়সভিত্তিক দলের কর্মকর্তা হিসেবে থিম্পুতে এসেছেন জাতীয় দলের সাবেক স্ট্রাইকার। নেপালের জার্সিতে নিরঞ্জন রায়ামাঝির সঙ্গে সর্বোচ্চ ১৩টি গোল করেছেন। নেপাল জাতীয় মহিলা দলের কোচ বয়সভিত্তিক মেয়েরা কেমন খেলবে, সেটা পর্যবেক্ষণ করতেই এসেছেন থিম্পুতে। ঢাকা থেকে টুর্নামেন্ট কাভার করতে এসেছি শুনে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন। স্মৃতির ঝাঁপিতে টোকা না পড়ে উপায় কী? ঢাকার ফুটবলে যে একসময় নিয়মিত খেলেছেন হরি।
প্রথমবার ১৯৯৯ সালে মোহামেডানের হয়ে খেলেছিলেন ঢাকায়। সে বছর মোহামেডানকে সুপার লিগ চ্যাম্পিয়ন করেছিলেন। তিন ম্যাচের মধ্যে দুটিতে জিতে দলকে চ্যাম্পিয়ন করে নেপালে ফিরেছিলেন। এরপর ব্রাদার্স ইউনিয়ন, চট্টগ্রাম আবাহনীতে খেলেছেন। ২০০৩ সালে সর্বশেষ ঢাকায় খেলেছিলেন। এরপর ভারতের মোহনবাগান, কলকাতা মোহামেডানেও খেলেছেন। তবে এত কিছু ছাপিয়ে ঢাকার স্মৃতিটাই জ্বলজ্বলে হয়ে আছে হরির মনে, ‘আমাদের সঙ্গে তখন আলফাজ, মতিউর মুন্না খেলত।’ আলফাজের সঙ্গে হরি যেন হরিহর আত্মার মতোই ছিলেন। দুজনের মাঠের জুটিটা ছিল চোখে পড়ার মতো। খেলার বাইরে দুজন বাইক নিয়ে বের হতেন শহর ঘুরতে। আজ দুপুরে ভুটান ফুটবল ফেডারেশনের কৃত্রিম টার্ফে বসে সেই দিনগুলোর কথা বলছিলেন, ‘আহা! কী দারুণ সময় না কাটিয়েছি। আমার ভীষণ ভালো লাগত পদ্মার ইলিশ। পুরান ঢাকার বিরিয়ানি খেতে চলে যেতাম। বাংলাদেশের মানুষেরা চমৎকার। ওরা বেশ অতিথিপরায়ণ।’
বাংলাদেশের ফুটবলের বর্তমান অবস্থাও বেশ ভালোই জানেন তিনি, ‘কোচিং লাইনে থাকার সুবাদে সবকিছু নখদর্পণে রাখা লাগে। ভুটানের কাছে বাংলাদেশ এএফসি বাছাইপর্বে হেরেছে এখানে। আমি ওই খবর শুনে বেশ কষ্ট পেয়েছিলাম। বাংলাদেশে খেলেছি বলে হৃদয়ের এক কোণে আপনাদের জন্য ভালোবাসা এখনো রয়েছে।’ হরি বলেন আর হাসেন।
সময় পেলেই বাংলাদেশে বেড়াতে যেতে চান, ‘নেপাল ফুটবল ফেডারেশন আমাকে মেয়েদের ফুটবলের বড় একটা দায়িত্ব দিয়েছে। তাই চাইলেও সময় করে উঠতে পারি না। তবে আবারও ঢাকায় যাওয়ার ইচ্ছা রয়েছে আমার।’ সেটা হতে পারে আগামী মাসেও। ঢাকায় ৪ সেপ্টেম্বর শুরু হবে সাফের টুর্নামেন্ট। সেখানে নেপাল দলের সঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে হরির।
পেশাদার ফুটবল লিগ শুরু হওয়ার ১১ বছর পরও মোহামেডান কোনো শিরোপা জেতেনি। সেই দুঃখটা পোড়ায় হরির, ‘একসময় মোহামেডানে খেলেছি বলে এই দলের জন্য আমার অন্য রকম টান রয়েছে। যদিও কখনো কখনো ওই দলের ম্যানেজার ও অন্য কর্মকর্তারা ভালো না খেললে টাকাপয়সা দিতে ইতস্তত করত। যদি ভালো খেলতাম তখনই টাকা দিত আমাদের। আমি দেখেছি তখন মোহামেডান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল গড়ত। কিন্তু এখন ওদের দুরবস্থা দেখে দূরে বসে খারাপই লাগে। আসলে কর্মকর্তাদের হয়তো ভালো দল গড়ার ব্যাপারে কোনো আগ্রহই নেই।’
প্রায় দুই দশক আগে মোহামেডানে খেলে গেছেন। প্রিয় ক্লাবের প্রতি হরির ভালোবাসাও এখনো রয়ে গেছে অটুট। অথচ সাদা-কালো দলটির উন্নতির জন্য সেই ভালোবাসার লেশমাত্রও যেন নেই ক্লাব কর্মকর্তাদের!