
করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তহবিল সংগ্রহ করছেন জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ
‘...এবং মনে রেখো, ভাইরাস যদি জ্লাতানের কাছে না আসে, জ্লাতান ভাইরাসের কাছে যাবে।’
লোকটা জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ বলেই এভাবে বলা সম্ভব। তিনি আর দশজন সাধারণ ফুটবলারের মতো নন। কিংবা আর দশজন তারকা ফুটবলারের মতোও না। তিনি জ্লাতান। তাঁর নিজ ভাষায়, ‘জ্লাতানীয় ধাঁচের ফুটবলার’। করোনাভাইরাস বিশ্বে মহামারি হয়ে ছড়িয়ে পড়ায় এসি মিলানের ৩৮ বছর বয়সী এ স্ট্রাইকার আর চুপ থাকতে পারেননি। ভয়ংকর ভাইরাসের বিপক্ষে লড়তে মাঠে নেমেছেন জ্লাতান। সে মাঠ আসলে অনলাইন—করোনার বিপক্ষে লড়তে অনলাইনে তহবিল সংগ্রহের ডাক দিয়েছেন সুইডেনের ইতিহাসে সেরা এ স্ট্রাইকার।
ইব্রাহিমোভিচের এ তহবিলের নাম ‘কিক দ্য ভাইরাস অ্যাওয়ে’। বাংলায় অর্থ—লাথি মেরে ভাইরাসকে বিদায় করো। ১০ লাখ ইউরো তোলার লক্ষ্যে ইব্রা নিজেই দুবার ৫০ হাজার ইউরো করে দিয়েছেন। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে কাল একটি ভিডিও পোস্ট করেন পিএসজি, মিলান, জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান, বার্সা মাতানো এ ফুটবলার। ভিডিওটি পোস্টের তিন ঘণ্টার মধ্যে এই তহবিলে সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ লাখ ২৪ হাজার ইউরো।
ইব্রার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে ভালো সময় কেটেছে ইতালিতে। ইন্টারের হয়ে লিগ জিতেছেন তিনবার। লিগ জিতেছেন মিলানের হয়েও। সেই ইতালি এখন করোনাভাইরাসের সংক্রমণে ভীষণ বাজে সময় পার করছে। ভিডিওতে এ নিয়ে ইব্রা বলেন, ‘ইতালি আমাকে অনেক কিছু দিয়েছে। আমি এ দেশকে যতটা ভালোবাসি তার চেয়েও বেশি ফিরিয়ে দিতে চাই। এই ভাইরাসকে লাথি মেরে বিদায় করতে আমি সব সতীর্থ ও পেশাদার অ্যাথলেটদের কমবেশি অর্থদানের অপেক্ষায় আছি। আমরা সবাই মিলে হাসপাতালের চিকিৎসক ও সেবিকাদের সাহায্য করতে পারব। তারা নিঃস্বার্থভাবে আমাদের সাহায্য করে চলছেন। আসুন সবাই মিলে করোনাকে লাথি মেরে বিদায় করে ম্যাচটা জিতি।’
শেষ কথাটা নিজস্ব ঢংয়ে বলে ভিডিওটি শেষ করেন ইব্রা, ‘ভাইরাস যদি জ্লাতানের কাছে না আসে, জ্লাতান ভাইরাসের কাছে যাবে।’ তাঁর তহবিলের অর্থ ইতালির মিলান, বের্গামো, কাস্তেলাঞ্জা, তুরিনো হাসপাতাল ও জরুরি সব স্বাস্থ্য ক্যাম্পে দান করা হবে। ইতালিতে করোনায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩০ হাজার পেরিয়ে গেছে। মৃতের সংখ্যা প্রায় ২৫০০।
শুধু ইব্রা নন, জার্মান জাতীয় ফুটবল দলও তহবিল সংগ্রহ করে আড়াই মিলিয়ন ইউরো দান করেছে। জার্মান অধিনায়ক ম্যানুয়েল নয়্যার বলেছেন, ‘এমন সময়ে আমাদের একে অপরের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।’