প্রতিপক্ষের মাঠে নিয়মিত হয়ে গেছে এমন দৃশ্য।
প্রতিপক্ষের মাঠে নিয়মিত হয়ে গেছে এমন দৃশ্য।

ঘরের বাইরে জিততে ভুলেই গেছে লিভারপুল!

ম্যাচ শুরুর আগেই একটা দুঃসংবাদ জানিয়ে দেন লিভারপুল কোচ ইয়ুর্গেন ক্লপ। চ্যাম্পিয়নস লিগে মিতিউলানের বিপক্ষে পর্তুগিজ উইঙ্গার দিওগো জোতা চোটে পড়েছিলেন। দুর্দান্ত ফর্মে থাকা এই উইঙ্গার দুই মাসের জন্য ছিটকে গেছেন মাঠের বাইরে।

ম্যাচের আগে খারাপ সংবাদ শোনা লিভারপুল ম্যাচ শেষেও সমর্থকদের মুখে সেভাবে হাসি ফোটাতে পারেনি। পয়েন্ট তালিকার নিচে থাকা ফুলহামের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। প্রথমে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়া চ্যাম্পিয়নরা শেষমেশ রক্ষা পেয়েছে মোহাম্মদ সালাহর পেনাল্টি গোলে। এই ড্রয়ের ফলে ক্লপের মাথায় চিন্তার ভাঁজ যেন আরেকটু বেড়েছে। চোটসংক্রান্ত সমস্যার জন্য ক্লপের মাথাব্যথা তো আছেই, ঘরের বাইরে লিভারপুলের ফর্মও যে তাঁকে স্বস্তি দিচ্ছে না! চলতি লিগে প্রতিপক্ষের মাঠে খেলতে গেলেই পয়েন্ট হারাচ্ছে লিভারপুল।

ছন্দ খুঁজে পাচ্ছে না লিভারপুল।

মৌসুমের প্রথম ‘অ্যাওয়ে’ ম্যাচে চেলসির বিপক্ষে জিতলেও এরপর থেকেই চ্যাম্পিয়নদের ওপর যেন শনি ভর করেছে। ব্রাইটন, অ্যাস্টন ভিলা, এভারটন, ফুলহাম—পূর্ণশক্তির লিভারপুল এ দলগুলোর বিপক্ষে জিতবে, এমনটাই প্রত্যাশা ছিল। এভারটনের বিপক্ষে ২-২ স্কোরলাইনে মাঠ ছাড়ে তারা, এরপর ব্রাইটনের মাঠে গিয়েও শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি গোলে পয়েন্ট খুইয়ে আসে।

ম্যানচেস্টার সিটির মাঠে প্রথমে এগিয়ে গেলেও পরে গ্যাব্রিয়েল জেসুসের দুর্দান্ত এক গোলে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। অ্যাস্টন ভিলার মাঠে তো ৭-২ গোলের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। এই ধারাবাহিকতায় গত রাতেও ফুলহামের বিপক্ষে পয়েন্ট হারিয়েছে দলটা।

ফুলহামের মাঠে লিভারপুল যেন ঠিক লিভারপুলের মতো খেলছিল না। উল্টো‌ পয়েন্ট টেবিলে পিছিয়ে থাকা ফুলহামকেই মনে হচ্ছিল চ্যাম্পিয়ন কোনো দল। প্রথম থেকেই তারা নিশ্চিত করেছে লিভারপুলের খেলোয়াড়দের পায়ে যেন বেশিক্ষণ বল না থাকে, তারা যেন আক্রমণ রচনা করার একদমই সময় না পায়। প্রেস করে গেছে নিরন্তর। যে কারণে দলের মূল স্ট্রাইকার, প্রথাগত নম্বর নাইন আলেক্সান্দার মিত্রোভিচের জায়গায় সুযোগ পেয়েছিলেন ইভান ক্যাভালিয়েরো, যিনি ঠিক স্ট্রাইকার না, কিন্তু যাঁর মুভমেন্ট, গতি, সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়া, জায়গা বের করে নেওয়ার ক্ষমতা মিত্রোভিচের চেয়ে বেশি।

নতুন করে ভাবতে হবে ক্লপকে।

লিভারপুলকে এভাবে খাটিয়ে মারার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়নি ফুলহামের। ২৫ মিনিটে ইংলিশ উইঙ্গার আদেমোলা লুকমানের কাছ থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের দুরন্ত শটে দলকে এগিয়ে দেন জ্যামাইকার উইংব্যাক দেকর্দোভা রিড। গোল পেয়েও ফুলহামের খেলার গতি কমেনি মোটেও। শেষমেশ পেনাল্টিতে এক পয়েন্ট উদ্ধার করেন সালাহ।
হারতে হারতে বেঁচে যাওয়া ক্লপের মাথায় আর দশটা চিন্তার সঙ্গে এখন হয়তো এটাও ঘুরবে, যে চোটজর্জর দল নিয়ে কীভাবে প্রতিপক্ষের মাঠ থেকে জিতে আসা যায়। ক্লপের জন্য আপাতত স্বস্তির খবর, বুধবার দিবাগত রাতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে ওঠা লড়াইয়ে টটেনহামের বিপক্ষে খেলতে যাওয়া ম্যাচটা লিভারপুলের মাঠেই হবে। আর ঘরের মাঠে লিভারপুল লিগে এখনো অদম্য।

কিন্তু লিগ জিততে হলে শুধু ঘরেই নয়, ঘরের বাইরেও দেখাতে হয় দাপট। ক্লপ নিশ্চয়ই বুঝছেন সেটা!