সময়ের হিসাবে সাত মাসের একটু বেশিই ছিলেন বার্সেলোনায়। তবে খেলার দিক থেকে আধা মৌসুম মেসি-সুয়ারেজদের কোচ ছিলেন কিকে সেতিয়েন। সম্ভাব্য সবচেয়ে বাজেভাবে বার্সেলোনা অধ্যায় শেষ হয়েছে তাঁর। রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে এগিয়ে থেকে করোনা–বিরতিতে যাওয়া বার্সা লিগে এক ম্যাচ বাকি থাকতে দৌড়ে ছিটকে গিয়েছিলেন।
চ্যাম্পিয়নস লিগে বায়ার্ন মিউনিখের কাছে ৮-২ গোলে উড়ে যাওয়া তো রেকর্ড বইয়ে বেশ কয়েকটি পাতা নতুন করে যুক্ত করেছে। এরপর বার্সেলোনা কিকে সেতিয়েনকে ছাঁটাই করার পর ক্লাবের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দেন তিনি। তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় ছাঁটাই না করেই নাকি রোনাল্ড কোম্যানকে দায়িত্ব দিয়েছে বার্সেলোনা। এ কারণে ক্ষতিপূরণ চেয়েছেন। দুই পক্ষের মধ্যকার সম্পর্ককে প্রীতিকর বলা যাবে না কোনোভাবেই। তবু বার্সেলোনা ডাকলে আবার যেতে আপত্তি নেই সেতিয়েনের!
বার্সেলোনা থেকে যেভাবে বিদায় নিতে হয়েছে, সেটা কিকে সেতিয়েনের জন্য ধাক্কা ছিল। এরপর বহুদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হননি। কিন্তু সে ধাক্কা অবশেষে কাটিয়ে উঠেছেন সেতিয়েন। করোনাকালই নাকি এ সময়টায় সাহায্য করেছে, ‘বার্সেলোনায় যা হয়েছে, তার শোক আমি এরই মধ্যে পার করে এসেছি। এটা তো কাজেরই অংশ। সবার চেয়ে আইসোলেশনে থেকে যদি বাঁচতে পারেন, যেটা আমি করেছি, তাহলেই আপনি শান্তিতে থাকবেন। আমি আমার ফোন বদল করেছি। আমাকে রাস্তায় দেখলে মানুষ থামায়, সাক্ষাৎকার নিতে চায়। কিন্তু আমি আগের মতোই থাকার চেষ্টা করি।’
বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিততে চেয়েছিলেন, চেয়েছিলেন সুন্দর ফুটবল খেলতে। অর্জনের খাতায় কিছু না থাকলেও বার্সেলোনায় কাটানো সময়টা এখনো আনন্দ দেয় সেতিয়েনকে। যদি সুযোগ মেলে, তবে আবার বার্সেলোনায় ফিরতে চান, ‘যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, অনন্য। যেভাবে চেয়েছিলাম, আমরা সেসব (শিরোপা) উপভোগ করতে পারিনি। শুরুতে যা চেয়েছিলাম, তা করতে পারিনি। কিন্তু কিছু জিনিস জটিল হয়ে পড়েছিল। অবশ্যই আমি বার্সেলোনায় ফিরতে চাই এবং সেখানে যাওয়া নিয়ে আমার কোনো অনুশোচনা নেই। একদম না।’
বার্সেলোনার ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর দিনটি দেখা গেছে কিকে সেতিয়েনের সময়ে। ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে কখনো এমন একপেশে ফল দেখা যায়নি। কিন্তু নিজেকে পুরোপুরি ব্যর্থ মানতে নারাজ সেতিয়েন। তাঁর অধীনে নাকি উন্নতি করেছে বার্সেলোনা, ‘পরিসংখ্যান বলছে, শুরু থেকেই আমরা কিছু উন্নতি করেছি। প্রতিপক্ষের অর্ধে বেশি বল ছিল, আমাদের দখলে বেশি বল ছিল এবং আমরা পাস দিয়েছি আগের চেয়ে বেশি। এগুলো তো সবই গুরুত্বপূর্ণ পরিসংখ্যান।’
সেতিয়েনের আগ্রহ থাকলেও তাঁকে আবার বার্সেলোনায় দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা কম। কিন্তু অন্য দলে তো দেখা যেতেই পারে। তবে এখনই চাকরি খোঁজার জন্য হন্যে হয়ে ওঠেননি সেতিয়েন; বরং সঠিক সময়ে সঠিক ক্লাবের জন্য অপেক্ষা করছেন তিনি।