নেইমাররা রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে কাতার বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতি নিতে পারছেন না
নেইমাররা রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে কাতার বিশ্বকাপের শেষ প্রস্তুতি নিতে পারছেন না

কাতার বিশ্বকাপের প্রস্তুতি

ব্রাজিলকে রিয়াল মাদ্রিদের ‘না’

বিশ্বকাপের এখনো মাস ছয়েক বাকি। এর মধ্যে ইউরোপের ফুটবলে নতুন মৌসুম শুরু হয়ে যাবে, খেলোয়াড়েরা জুন-জুলাইয়ে ছুটি কাটিয়ে আবার ক্লাবে ব্যস্ত হয়ে যাবেন। কত কিছুই না ঘটে যেতে পারে এর মধ্যে। কিন্তু তাই বলে বিশ্বকাপ নিয়ে দলগুলোর পরিকল্পনা তো আর থেমে থাকবে না!

কাতারে দলগুলো কোথায় থাকবে, কোন জায়গায় তাদের মূল ক্যাম্প হবে, হোটেল কোনটি হবে, বিশ্বকাপের আগে দলগুলোর প্রস্তুতি ক্যাম্প কোথায় হবে...প্রশাসনিক এসব পরিকল্পনা তো আর শেষ মুহূর্তের ব্যাপার নয়। দলগুলো এরই মধ্যে সে পরিকল্পনায় নেমে পড়েছে। তবে সে পথে ব্রাজিল একটা ধাক্কা খেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের কাছ থেকে।

নিজেদের বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্য স্প্যানিশ ক্লাবটির অনুশীলন সুবিধা ব্যবহার করতে চেয়েছিল ব্রাজিল। কিন্তু রিয়াল মাদ্রিদ জানিয়ে দিয়েছে, তারা ব্রাজিলকে নিজেদের মূল দলের অনুশীলন মাঠ ছাড়তে পারবে না। শুধু সাধারণ অনুশীলন মাঠ দিতে পারবে। কিন্তু ব্রাজিল দলের তা মেনে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিকল্প হিসেবে জুভেন্টাসের অনুশীলন মাঠ ব্যবহারের ব্যাপারে ইতালিয়ান ক্লাবটির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে ব্রাজিলের।

ব্রাজিল কোচ তিতে বিশ্বকাপের প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক রাখতে চান না

১৪ থেকে ১৯ নভেম্বর জুভেন্টাসের অনুশীলন মাঠ ব্যবহার করবে ব্রাজিল। সেখান থেকেই দোহার উদ্দেশে রওনা দেবে। নিয়ম অনুযায়ী, বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের পাঁচ দিন আগে বিশ্বকাপের ক্যাম্পে চলে যেতে হয় দলগুলোকে। গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল প্রথম ম্যাচটি খেলবে ২৪ নভেম্বর, সার্বিয়ার বিপক্ষে।

গত মাসে ব্রাজিলের কোচিং স্টাফের সদস্যরা তিনটি ভিন্ন ক্লাবের অনুশীলন সুবিধা দেখতে ইউরোপ গিয়েছিলেন। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের আগে নেইমাররা অনুশীলন করেছিলেন ইংলিশ ক্লাব টটেনহামে, এবারও সেখানে গিয়েছিল ব্রাজিলের কোচিং স্টাফ। তবে তাদের মূল আগ্রহের কেন্দ্রে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ আর জুভেন্টাসের অনুশীলন মাঠ। কারণ, এই দুই মাঠ থেকে দোহায় বিমানভ্রমণে সময় লন্ডনের চেয়ে কম লাগবে।

রিয়ালের বদলে জুভেন্টাসের অনুশীলন মাঠ পাওয়ায় কিছু লাভের পাশাপাশি কিছু ক্ষতিও হচ্ছে ব্রাজিলের। মাদ্রিদের চেয়ে তুরিনের আবহাওয়া অপেক্ষাকৃত বেশি ঠান্ডা, যা ব্রাজিলের জন্য খুব একটা সুখকর হবে না। দোহায় যে তাপমাত্রা, তুরিনের চেয়ে অনেক বেশিই থাকবে।

গত পরশু সিউলে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচ খেলেছে ব্রাজিল

তবে তিন ক্লাবের মধ্যে জুভেন্টাসের শহর তুরিন থেকেই দোহা যেতে সময় লাগবে সবচেয়ে কম। তুরিন থেকে দোহার বিমান ভ্রমণ ৫ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের, মাদ্রিদ থেকে ৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। লন্ডন থেকে দোহার দূরত্ব আকাশপথে ৭ ঘণ্টার।

জুভেন্টাসের অনুশীলন সুবিধাও একেবারে অত্যাধুনিক। চারটি মাঠ আছে, এর মধ্যে একটির পাশে ৬০০ দর্শক ধারণক্ষমতার গ্যালারিও আছে। ৬০ হাজার বর্গমিটার এলাকাজুড়ে থাকা এই অনুশীলন মাঠের পাশেই একটা হোটেলও আছে। এতে খেলোয়াড়দের বিশ্রাম নিতে ও ধকল কাটিয়ে উঠতে সুবিধা হবে।

বিশ্বকাপের জন্য রওনা দেওয়ার আগে সর্বশেষ অনুশীলনের দিন, অর্থাৎ ১৯ নভেম্বর তুরিনে ব্রাজিল একটা প্রীতি ম্যাচ খেলার কথাও ভাবছে।