লিগে টানা সাত ম্যাচ জয়ের দেখা নেই। কোচ মিকেল আরতেতার চাকরি সুতোয় ঝুলছে। ওদিকে লন্ডনের অপর পারের ক্লাব চেলসিতে জয়ের জন্য আবার এত হাহাকার নেই। লিগে সম্প্রতি দুই ম্যাচ হারলেও আর্সেনালের মতো জঘন্য ফর্মহীন নয় তারা। ফর্মে না থাকা সেই আর্সেনালই চেলসিকে নিজেদের মাঠে হারিয়ে দিল হেসেখেলে। বড়দিনের আনন্দের সঙ্গে চাকরি নিয়ে তাই একটু স্বস্তিও জুটল আরতেতার কপালে।
বড়দিনের ছুটিতে অন্যান্য লিগের খেলা যেখানে বন্ধ থাকে, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের খেলোয়াড়েরা মাঠেই থাকেন। বড়দিনের নৈশভোজ শেষ হতে না হতেই নেমে যেতে হয় লিগের ম্যাচ খেলতে। লক্ষ্য একটাই, নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিয়ে হলেও দর্শকদের বড়দিনের আনন্দটা যেন পূর্ণতা পায়। এই ম্যাচে জিতলে বড়দিনের আনন্দ যেমন বেড়ে যায়, হারলে বড়দিনের উপলক্ষটাও কেমন যেন বিষিয়ে ওঠে। সেই বিষিয়ে ওঠা অনুভূতির স্বাদ পেয়েছেন চেলসির ইংলিশ কোচ ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ড।
অবশ্য প্রতিপক্ষ যদি আর্সেনাল হয়, তাহলে বড়দিনের ঠিক পরপর তাদের বিপক্ষে জেতার আশা করাই উচিত নয়। এ নিয়ে ‘বক্সিং ডে’ ম্যাচে টানা ১০ বছর জিতল গানাররা। অক্টোবরের পর এটাই লিগে আর্সেনালের প্রথম জয়। গত অক্টোবরে শেফিল্ডকে ২-১ গোলে হারানোর পর লিগে আর জেতেনি আরতেতার দল। এদিকে টানা তিন অ্যাওয়ে ম্যাচ হেরেছে চেলসি। ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারির পর যে রেকর্ডের মুখোমুখি কখনো হয়নি তারা।
অথচ মূল একাদশ দেখে মনেও হয়নি পরের ৯০ মিনিট আর্সেনাল এমন আধিপত্য দেখাতে চলেছে। দলের অধিনায়ক পিয়েরে এমেরিক অবামেয়াং নেই, মূল একাদশে নিকোলাস পেপে, উইলিয়ান, টমাস পার্টের মতো বড় কোনো নাম ছিল না। এমিল স্মিথ-রো, বুকায়ো সাকা, গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো তরুণদের ওপর ভরসা করেই দল সাজিয়েছিলেন আরতেতা। ওদিকে দলের মূল দুই ফুলব্যাক রিস জেমস ও বেন চিলওয়েল চোটের কারণে খেলতে পারবেন না—এমন মনে হলেও ল্যাম্পার্ড শেষমেশ তাঁদের নিয়েই নেমেছেন।
প্রথম থেকেই নিজেদের মাঠে চেলসিকে জেঁকে ধরে আর্সেনাল। ফল আসে হাতেনাতে। ৩৪ মিনিটে ডি-বক্সের মধ্যে আর্সেনালের লেফটব্যাক কিয়েরান টিয়ের্নিকে ফেলে দেন জেমস, পেনাল্টি পায় আর্সেনাল। সেখান থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ফরাসি স্ট্রাইকার লাকাজেত। ঠিক ১০ মিনিট পর বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সুইস মিডফিল্ডার গ্রানিত শাকা।
দ্বিতীয়ার্ধে ৫৬ মিনিটে বুকায়ো সাকার দৃষ্টিনন্দন এক লবে পরাস্ত হন চেলসির গোলরক্ষক এডওয়ার্ড মেন্ডি। শেষে মোহাম্মদ এলনেনি, ল্যাকাজেত সুযোগ পেলেও কাজে লাগাতে পারেননি। ওদিকে দ্বিতীয়ার্ধে জার্মান স্ট্রাইকার টিমো ভেরনারের জায়গায় ক্যালাম হাডসন-অদয় নামার পর আক্রমণে ধার বাড়ে চেলসির। ট্যামি আব্রাহামের কল্যাণে একটা গোল শোধও দেয় তারা। কিন্তু স্নায়ুচাপে পরাস্ত হয়ে পেনাল্টি মিস করেন ব্রাজিলের মিডফিল্ডার জর্জিনিও। গোলটা হলে হয়তো শেষ মুহূর্তে আরও একটা গোল বের করে আনতে পারত চেলসি!
সেটা হয়নি। বড়দিনের চওড়া হাসি মুখে নিয়ে মাঠ ছেড়েছেন আরতেতাই। এই জয়ের পরেও আর্সেনাল ১৫ পয়েন্ট নিয়ে আছে লিগের ১৪তম অবস্থানে। ওদিকে হেরে সপ্তম স্থানে নেমে গেছে চেলসি।